
শেষ আপডেট: 19 April 2023 17:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরম যতই পড়ুক, বিদ্যুৎ সরবরাহে (Electricity Supply) কোনও ঘাটতি হবে না। প্রথম থেকেই এমন দাবিই করে এসেছে বিদ্যুৎ দফতর (Power Department)। আশ্বাস দিয়েছে, চাহিদা ও জোগানের মধ্যে বড় ফারাক নেই। কিন্তু কলকাতার কিছু অংশ ও সংলগ্ন এলাকায় বাস্তব চিত্র একেবারেই আলাদা। দফায় দফায় বিভিন্ন জায়গায় কারেন্ট যাচ্ছে, কোথাও এক ঘণ্টা, কোথাও তারও বেশি বন্ধ থাকছে বিদ্যুৎ সরবরাহ (Power Cut Happens Frequently)। তাপপ্রবাহের দাপট যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে সমস্যাও।
মঙ্গলবার রাতে, রাত ১১:৩০ থেকে বুধবার সকাল ৬:৩০ পর্যন্ত একটানা কারেন্ট ছিল না বেহালার সোদপুর এলাকার কালীতলা অঞ্চলের একাধিক ফেজে। গোটা রাত ছাদে, রাস্তায় ঘুরতে দেখা গেছে এলাকাবাসীদের। প্রমোদনগরের বাসিন্দা রত্না মুখোপাধ্যায়ের কথায়, 'রাতে সব কাজ সেরে, স্নান সেরে বিছানায় শোয়ার পরেই কারেন্ট গেল। ভাবলাম কিছুক্ষণে আসবে, আসেনি। অভিযোগ জানিয়ে ডকেট করা হয় মধ্যরাতে। তাও কারেন্ট এল সেই সকাল সাড়ে ছ'টায়। কোথায়, কী ফল্ট হয়েছিল, তা জানা নেই।'
এই ধরনের সমস্যা অবশ্য বিদ্যুৎ জোগানের অভাব বলে মানতে রাজি নন অরূপ বিশ্বাস। তিনি কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, 'সাময়িক কিছু সমস্যা হতে পারে, কোথাও ট্রান্সফর্মার খারাপ হয়েছিল হয়তো, সেটা আর হবে না। কারণ ট্রান্সফর্মার খারাপ হলে সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লেস করা হচ্ছে।' তবে সোদপুর কালীতলা এলাকার বাসিন্দারা একেবারেই 'সঙ্গে সঙ্গে' কোনও সুরাহা পাননি। গোটা রাত কাটিয়েছেন দমবন্ধ গরমে, মশার কামড়ে।
শুধু দক্ষিণের বেহালা নয়। অন্য প্রান্ত সিঁথিতেও প্রায় রোজই এক-দেড় ঘণ্টা করে কারেন্ট যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সেখানকার বাসিন্দা শিবপ্রসাদ চন্দ জানিয়েছেন, 'আজ, বুধবার দুপুরে ঘণ্টা দেড়েক কারেন্ট ছিল না। এর আগেও কারেন্ট গেছে বেশ কয়েকবার।' একই ছবি কসবাতেও। সেখানকার বাসিন্দা অলোক বিশ্বাস জানাচ্ছেন, 'দু-তিন দিন ধরেই এলাকায় কারেন্ট যাচ্ছে রাতের দিকে। সেই দুটো-আড়াইটেয় আসছে। আজ দিনের বেলাতেও ছিল না অনেকক্ষণ। এই গরমে খুবই মুশকিল পাখা ছাড়া থাকা।'
মঙ্গলবার রাতে বেকবাগান এলাকার বিদ্যুৎ না থাকা তো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। দীর্ঘক্ষণ পাওয়ার কাট থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিজাত কোয়েস্ট মলে ঢুকে পড়েন রাতের বেলায়। সেখানেই মেঝেতে বসে পড়েন সকলে। বিদ্যুৎ দফতরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও দেখান। শেষমেশ পুলিশ এসে তাঁদের বার করতে বাধ্য হয়।
ফলে বিদ্যুৎ দফতর এবং মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস যতই বারবার করে বলুন যে বিদ্যুতের কোনও ঘাটতি নেই, সরবরাহে কোনও খামতি নেই, সে কথা পুরোটা সত্য নয় বলেই জানাচ্ছে শহরবাসী।
বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থাগুলির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। আজ, বুধবারও বৈঠকের পরে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেন তিনি। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, 'স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলায় ১৮ই এপ্রিল ২০২৩ মঙ্গলবার বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৯০২৪ মেগাওয়াট। পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ দফতরের পক্ষ থেকে আমরা গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই রেকর্ড চাহিদা পূরণ করে বাংলার ২ কোটি ২২ লক্ষ গ্রাহকদের সুষ্ঠুভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দিতে আমরা সক্ষম হয়েছি। এটা এখন পর্যন্ত স্বাধীনতা উত্তর বাংলায় সর্বকালীন রেকর্ড।'
শহরবাসীর অভিজ্ঞতা অবশ্য বলছে, 'সুষ্ঠুভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া'র এই দাবি কেবল খাতায়-কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে উত্তর থেকে দক্ষিণ বিভিন্ন এলাকায় গরমের মধ্যে সহ্য করতে হচ্ছে লোডশেডিংয়ের কষ্ট।
শুধু বিদ্যুৎ পরিষেবা নয়, অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে পুরসভার জল সরবরাহ নিয়েও। বেহালার ভিতরদিকের কিছু এলাকা, কুঁদঘাট, রামগড়-- এসব জায়গায় ইতিমধ্যেই জলকষ্ট শুরু হয়েছে। জলের ফোর্স অনেক কম বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ ববি হাকিম বারবারই আশ্বাস দিয়েছেন কলকাতার কোথাও জলকষ্ট নেই, এমনকি কোথাও সমস্যা হলে ভ্রাম্যমান জলের ট্যাঙ্ক পাঠানো হবে, তবে বাস্তবে ছবিটা আলাদা। অনেকেই আবার বলছেন, বিদ্যুতের সংযোগে সমস্যার কারণে জলের জোগানও সমস্যায়। কারণ বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হলে জল পাম্প করার কাজও ব্যাহত হবে।
যদিও এই বছরের তীব্র গরমে যেমন একলাফে বেড়েছে এসি, কুলারের ব্যবহার, তাতে বিদ্যুতের ঘাটতি হওয়ারই কথা। ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ দফতর জানিয়েছে, রেকর্ড চাহিদার সম্মুখীন হয়েছিল তারা গতকাল। ফলে এ কথা নাগরিকরাও স্বীকার করছেন, বিদ্যুতের চাহিদা কয়েকগুণ বেশি। তবে একই সঙ্গে অভিযোগ, এমনটা যে হবে তা আগেই জানত বিদ্যুৎ দফতর। তাপপ্রপাবের পূর্বাভাসও ছিল সেই মার্চ মাসের গোড়া থেকেই। তার পরেও জোগানের দিকটি নিশ্চিত করা দায়িত্ব ছিল দফতরের।
কাঠফাটা গরমে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে নয়া পদক্ষেপ বিদ্যুৎ দফতরের