দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতদাস দর্শনদাস। নিবাস গুজরাতের জুনাগড় জেলার গির অরণ্য। সিংহের জন্য বিখ্যাত গির ভারতদাসের জন্যও বিখ্যাত। কারণ, যেখানে তিনি থাকেন সেখানে আর কোনও মানুষ নেই। কোনও বসতি নেই। গভীর জঙ্গলে একাই থাকেন তিনি। পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ওই এলাকায় তিনি ছাড়া কোনও ভোটার নেই। তাই একা ভারতদাস দর্শনদাসের জন্য যে কোনও নির্বাচনে আলাদা ব্যবস্থা করতে হয়। করেও যায় নির্বাচন কমিশন।
আসলে ভারতদাসও নির্বাচনে অংশ নিতে ভালোবাসেন। এনিয়ে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, "প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভোটের জন্য বিজেপি সরকার পড়ে গিয়েছিল অনাস্থা ভোটে। সুতরাং, একটা ভোটও অনেক কিছু বদলে দিতে পারে। আমার একার জন্য যে এত আয়োজন করা হয় তার জন্য আমি ধন্য।"
আয়োজনটাও কম নয়। গভীর জঙ্গলে একটি শিব মন্দির। আর তার দেখাশোনার দায়িত্বে ভারদাস দর্শনদাস। সিংহ, হরিণ আর ময়ূরে ভরা সেই জঙ্গলে যেতে হয় ভোটকর্মীদের বড় একটি দলকে। সঙ্গে পর্যাপ্ত নিরাপত্ত কর্মীও। নির্বাচন কমিশনের নীতি অনুযায়ী এমন ভাবে বুথ তৈরি করা হয় যাতে কোনও ভাবেই কোনও ভোটারকে দু'কিলোমিটারের বেশি যেতে না হয়। সেখানে ভারতদাস দর্শনদাসের ভোটটি নিতে কর্মীদের যেতে হয় ৩৫ কিলোমিটারেরও বেশি দুর্গম পথ।
একলা ভোটারের বুথ তালিকায় এবার যুক্ত হচ্ছে অরুণাচলের আনজাও জেলা। রাজধানী ইটানগর থেকে ৩০০ মাইল দূরে আনজাও জেলার মালোগামে ভোটার এক মহিলা। প্রধান সড়ক থেকে ২৪ মাইল পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হবে ভোটকর্মীদের। হাঁটতে হবে প্রায় ১১ ঘণ্টা। চীন, মিয়ানমার ও ভুটানের সীমান্তবর্তী ওই গ্রামে ভোট দেবেন গৃহবধূ সকেলা।
অরুণাচল প্রদেশে এমন সাতটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র আছে যেখানে ভোটার দশ জন বা তাঁর কম। তবে একলা ভোটার একা সকেলাদেবী। তাঁর জন্য ১৮ জন ভোটকর্মী যাবেন মালোগামে।
৩৯ বছর বয়সি সকেলা একজন গৃহবধূ। স্বামী, সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন চীন, মিয়ানমার ও ভুটান লাগোয়া ওই গ্রামে। গতবার তার স্বামীও ভোট দিয়েছিলেন। এবার যে-কোনো কারণেই হোক অন্য বুথে স্ত্রীর নাম স্থানান্তর করিয়েছেন তার স্বামী। তবে, আগের মতোই ভোট দেবেন সকেলা।