লন্ডনের এক হ্যাকার দাবি করেছিলেন, ভারতে ব্যবহার করা ইভিএম মেশিনগুলি সহজেই হ্যাক করে ফেলতে পারে সে। এ কথা প্রকাশ্যে আসার পরেই শুরু হয়েছিল চাঞ্চল্য। প্রশ্ন উঠেছিল নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে। কিন্তু তার ওই দাবিকে খারিজ করে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ওই হ্যাকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভেবেছে বলে জানিয়েছে তারা।
শনিবার ব্রিগেডে ওঠা ইভিএম সংক্রান্ত অভিযোগের পরেই লন্ডনের সাংবাদিক সম্মেলনে কারচুপির দাবি তোলেন সৈয়দ সুজা নামের ওই সাইবার প্রযুক্তিবিদ। তিনি আদতে হায়দরাবাদের বাসিন্দা। মঙ্গলবার তাঁৎ দাবি খারিজ করার পরে বিজেপির তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। তিনি লন্ডনের ওই সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে এক গুচ্ছ প্রশ্নের অবতারণা করেন। আবার বিজেপির তরফে এমন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে, বিরোধীদের ব্রিগেডের পরই কেন লন্ডনে সাংবাদিক সম্মেলন করা হল?
শনিবার তৃণমূল কংগ্রসের ব্রিগেড সমাবেশে অর্ধেকের বেশি বক্তার কথায় উঠে এসেছিল এ দেশের নির্বাচনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিন ভোটগ্রহণ যন্ত্র বা ইভিএমের কারচুপির বিষয়টি। তার তিন দিন বাদেই লন্ডনে লাইভ সাংবাদিক সম্মেলনে উঠল সেই একই দাবি। কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি এই দুইয়ের যোগসূত্র খুঁজলেও, বিরোধীরা কিন্তু বিষয়টিকে নিজেদের জয় বলেই দেখছে। একই ভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও লন্ডনের সাংবাদিক সম্মেলনের পর নিজের টুইটার হ্যান্ডলে সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন।
https://twitter.com/MamataOfficial/status/1087332011004571649
সৈয়দ সুজা নামের ওই হ্যাকারের দাবি ছিল, ভারতে ব্যবহৃত ইভিএমের প্রযুক্তিটি পুরনো। এই মেশিন যখন তৈরি হয়, তখন ওয়াইফাই বা ব্লু-টুথের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ছিল না। তাই এই সব প্রযুক্তির সামনে ওই যন্ত্রের নিরাপত্তা তেমন জোরদার নয়। ফলে মেশিনটিকে হ্যাক করা তুলনামূলক ভাবে অনেক সহজ।
এই বিতর্কিত দাবির পরেই ফের শুরু হয়ে গিয়েছিল ইভিএম মেশিন নিয়ে জলঘোলা। বিরোধীরা সরব হয় ইভিএম নিয়ে। গত ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডের সভায় দাঁড়িয়ে ফারুক আবদুল্লা ইভিএম মেশিন সরানোর দাবি তুলেছিলেন। তার মধ্যেই এই হ্যাকারের মন্তব্য যেন আগুনে ঘি ঢালে।
কিন্তু নির্বাচন কমিশনের মুখ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ডক্টর রজত মুনা বলেন, ইভিএম এমনই একটি যন্ত্র, যার অন্য কোনও যন্ত্রের সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান করার কোনও ক্ষমতাই নেই। ভিলাই আইআইটির এই ডিরেক্টরের দাবি, লন্ডনের ওই হ্যাকারের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এই ইভিএম সংক্রান্ত বিতর্ক চলাকালীনই বিদেশ থেকে টুইট করে কংগ্রেসকে একহাত নেন অরুণ জেটলি। বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নাকভি বলেন, “কংগ্রেসের অনেক ফ্রিল্যান্সার আছে। যাদের কাজই হল, পাকিস্তানের থেকে সাহায্য নিয়ে নরেন্দ্র মোদীকে সরানোর চেষ্টা করা। তাদের নতুন নাটক হল এই ইভিএম নিয়ে বিতর্ক তৈরি”।
https://twitter.com/arunjaitley/status/1087366758271459328
এ দিকে হায়দরাবাদের ওই প্রযুক্তিবিদ সৈয়দ সুজার বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। লন্ডনে সুজার সাংবাদিক বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পরেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জানা যাচ্ছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৫ ১(বি) ধারায় (বিভ্রান্তিমূলক নথি প্রকাশ্যে আনা) এফআইআর-র আবেদন জানাবে নির্বাচন কমিশন।