দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবীণ বাবা-মায়ের প্রতি অপ্রীতিকর আচরণ বা তাঁদের দেখভালে কোনও গলদ থাকলে তার মাসুল দিতে হবে সন্তানদের। আইন করে এমনটাই জানাল বম্বে হাই কোর্ট। কী সেই মাসুল? সন্তানের নামে উইল করা সম্পত্তির পুরোটাই ফিরিয়ে দিতে হবে তাঁদের। বয়সকালে প্রায়শই বৃদ্ধ বাবা-মাকে তাঁদের সন্তানের কাছে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তাই প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থরক্ষার খাতিরেই সোমবার এমন রায় শুনিয়েছে বিচারপতি রঞ্জিত মোরে এবং বিচারপতি অনুজা প্রভুদেশাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ।
আদালত সূত্রে খবর, উত্তরাধিকার সূত্রে বৃদ্ধ বাবা-মায়েরা প্রায়ই তাঁদের সম্পত্তি উইল করে দেন সন্তানের নামে। কিন্তু, তাঁদের দেখভাল তো দূরের কথা, বাবা-মায়ের প্রতি সামান্য কর্তকব্যটুকুও পালন করতে চান না সন্তানেরা। সাম্প্রতিক কালে এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি।
মেইনটেনেন্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অব সিনিয়র সিটিজেন অ্যাক্ট অনুযায়ী, ষাট বছর এবং তার চেয়ে বেশি বয়সের বাবা-মায়ের উপরে অত্যাচার অথবা তাঁদের যত্নের ব্যাপারে কোনও অবহেলা করলে সন্তানদের শাস্তির মেয়াদ তিন মাস থেকে বাড়িয়ে ছ’মাস করার প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্র। দত্তক সন্তান ও সৎ ছেলে-মেয়েও সন্তান হিসেবে গণ্য হবেন। এমনকি জামাই, বৌমা, নাতি, নাতনিরাও পড়বেন সন্তানের তালিকায়। নিঃসন্তান দম্পতিদের আত্মীয়ের তালিকায় যুক্ত করা হবে তাঁদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারীকে।
সন্তানেরা দেখভাল না করলে প্রবীণেরা যাতে নির্দিষ্ট ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে পারেন, সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে খসড়া আইনে। সে ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ খতিয়ে বাবা-মায়ের কাছে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেবে সন্তানদের। নিঃসন্তান দম্পতিদের ক্ষেত্রে ওই নির্দেশ দেওয়া হবে নিকটতম আত্মীয়দের। টাকার অঙ্ক ঠিক হবে বাবা-মায়ের জীবনযাত্রা ও দু’তরফের আর্থিক অবস্থার উপরে ভিত্তি করে। দেখভালের মাসিক অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে শাস্তি এক মাসের জেল। বর্তমানে দেখভালের অঙ্ক প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা।
বিচারপতি রঞ্জিত মোরে এবং বিচারপতি অনুজা প্রভুদেশাই জানিয়েছেন, ছেলে ও ছেলের বৌয়ের কাছে হেনস্থার শিকার হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আন্ধেরির এক বৃদ্ধ দম্পতি। ২০১৪ সালে ওই প্রবীণ ব্যক্তির প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে দ্বিতীয় বার বিয়ে করেন তিনি। তার পরই তাঁকে এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে চূড়ান্ত ভাবে হেনস্থা করা শুরু করেন তাঁর পুত্র ও পুত্রবধূ। এমনকি নিজের ফ্ল্যাটের ৫০ শতাংশ ছেলের নামে লিখে দিয়েও নিস্তার পাননি ওই বৃদ্ধ দম্পতি. বাধ্য হয়েই আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা। আদালত, ওই দম্পতির ছেলে ও ছেলের বৌকে পুরো সম্পত্তিই ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।