দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত তখন সোয়া ১২টা। মঙ্গলবার। দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ল্যান্ড করল ইন্ডিগোর এয়ারবাস এ৩২০। সঙ্গে সঙ্গেই বেজে উঠল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের দূরাভাষ। ও পারের কণ্ঠে তখন খুশির রেশ। কণ্ঠস্বর বলল, ‘‘জানাব, আপনি এখনও জেগে। ইদ মুবারক।’’ ফোনের এ পারে তখন দায়িত্বে ছিলেন ইন্ডিগোর এক অফিসার। তিনি বললেন, ‘‘আমি বিমান ওঠানামার তদারকি করছি। পাকিস্তান থেকে ভারতে আপনাকে স্বাগত।’’
খুশির ইদে মিটে গেল দীর্ঘদিনের টানাপড়েন। কিছুটা হলেও ঘুচল দূরত্ব। ফেব্রুয়ারি মাসের পর পাকিস্তানের আকাশপথ পেরিয়ে প্রথম বিমান নামল ভারতের মাটিতে। ইন্ডিগোর ডিউটি অফিসারকে যিনি ফোন করেছিলেন, তিনি পাকিস্তানের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (CAA)-র ডিরেক্টর। ভারতকে ইদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘পরীক্ষামূলক ভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে পাকিস্তান থেকে ভারতে আসার বেশ কয়েকটা এন্ট্রি পয়েন্ট। আমরা কথা দিয়েছিলাম, কথা রেখেছি।’’
বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার হামলার পর থেকেই পাকিস্তানের আকাশসীমা ভারতীয় বিমানের জন্য একপ্রকার বন্ধই করে দিয়েছিল ইসলামাবাদ। পাকিস্তান থেকে ভারতে ঢোকার মুখের অন্তত ১১টি এন্ট্রি পয়েন্ট নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি এই নিষেধাজ্ঞা যে এত সহজে উঠবে না চলতি মাসে সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছিল পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও বিমান পরিবহন মন্ত্রক। জানানো হয়েছিল, আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে এই নিষেধাজ্ঞা। পরে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ইদের আগে সুর কিছুটা নরম করে পাকিস্তান। বলা হয়, পুরোপুরি না হলেও কয়েকটা এন্ট্রি পয়েন্ট খুলে দেওয়া হতে পারে ভারতীয় বিমানের জন্য।
পাক সরকারের কড়াকড়ির ফলে সমস্যায় পড়ে দক্ষিণ এশিয়া থেকে দিল্লি গামী বিমানগুলি। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাগামী বিমানগুলিকে ঘুরপথে যেতে যথেষ্ট সময় ও জ্বালানি খরচ হতে হচ্ছিল। এর ফলে যেমন যাত্রী অসন্তোষ বেড়েছিল, তেমনি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েছিল ভারতের বিমান সংস্থাগুলি। ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে ইন্ডিগোর এয়ারবাস এ-৩২০ বিমানটি জুবাইয়ের মাটি ছাড়ে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ৮টা ২৪ মিনিটে। সাড়ে ৯টা নাগাদ পাকিস্তানে ঢুকে জ্বালানি ভরিয়ে সাড়ে ১০টা নাগাদ দিল্লির দিকে উড়ে যায়। রাত ১২টার পর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে সেটি।
ইন্ডিগোর পাইলটের কথায়, ‘‘পশ্চিম সীমানার তালেম এন্ট্রি পয়েন্ট দিয়ে মঙ্গলবারই ৯টি বিমান ভারতে ঢুকেছে। পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করায় সময় অন্তত ২২ মিনিট করে বেঁচেছে, সেই সঙ্গে ১,১০০-১,২০০ কিলোগ্রাম জ্বালানির খরচও বেঁচে গিয়েছে।’’