
শেষ আপডেট: 20 January 2024 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: এগরায় একটি পরিবারকে সামাজিক বয়কটের অভিযোগ উঠল গ্রামেরই মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শোরগোল পড়েছে ওই এলাকায়। এগরা ১ ব্লকের বরিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তনা গ্রামের বাসিন্দা ছবিরানি মাইতি। অভিযোগ, তাঁর পরিবারকে গ্রামবাসীদের একাংশ বয়কট করে রেখেছে। ওই একাংশ আবার তৃণমূল আশ্রিতদের মদতপুষ্ট হওয়ায় বাকি গ্রামবাসীরা মহিলাকে সাহায্য করতে সাহস পাচ্ছেন না।
ছবিরানি জানান, তাঁর দিদি ছিলেন বিশেষভাবে সক্ষম। বিয়ে করেননি তিনি। ভাইয়েরা বাড়িতে রাখতে না চাওয়ায় দীর্ঘদিন তাঁদের বাড়িতেই থাকতেন। মারা যাওয়ার আগে তাঁর নামে থাকা একটি ৪ ডেসিমেল জায়গা ছবিরানিকে দানপত্র করে দিয়ে যান। তিনি বলেন, “১৭ নভেম্বর আমার দিদির মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই আমার ভাইয়েরা ওই জায়গাটি দখল করতে উঠেপড়ে লাগে। এলাকার তৃণমূল নেতাদের দিয়েও চাপ সৃষ্টি করে। ওই দিন একটা সাদা কাগজে সই করিয়ে নিয়ে তবেই মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যেতে দেয়। তারপরে গ্রামের মাতব্বররা একটা মিটিং ডেকেছিল। আমি সেখানে না যাওয়ায় আমাকে পুরোপুরি একঘরে করে দেয়। চাষের জমিতে জল বন্ধ, কল বন্ধ, হাটবাজার দোকান থেকে জিনিসপত্র এমনকী ওষুধও আনতে পারছি না। জল বন্ধ হওয়ায় জমি পড়ে রয়েছে, চাষ করতে পারছি না।”
গ্রামের কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাঁদের ডাকা হচ্ছে না বলে জানান ছবিরানি। এদিন সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। জানান, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, এগরা থানা, জেলা পুলিশ সুপার ও মহকুমাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু নির্বিকার প্রশাসন। আজও পর্যন্ত তাঁর সমস্যার সুরাহা হয়নি।
বারিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সিদ্ধেশ্বর বেরা জানিয়েছেন, ওই মহিলা পঞ্চায়েতে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। তবে ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল জড়িত বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা মানতে রাজি হননি তিনি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, জমি ও টাকার গন্ধ পেয়েই তৃণমূলের নেতারা ওখানে ভিড়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা অরূপ দাস বলেন, “একজন অসহায় ভদ্রমহিলার জমি আত্মসাৎ করতে এই চক্রান্ত। এটাই এখন তৃণমূলের কালচার হয়ে গেছে। গোটা রাজ্যেই টাকার পিছনে ছুটছে তৃণমূলের নেতারা।”
এই রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই এখন বাঁচার উপায় খুঁজছেন ছবিরানি আর তাঁর পরিবার।