
শেষ আপডেট: 12 December 2023 17:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমাজ এগোচ্ছে। মেয়েরাও পড়াশোনা করে সমস্ত পেশায় ছেলেদের সঙ্গে সমানভাবে পাল্লা দিচ্ছে। কিন্তু তাড়াতাড়ি মেয়ের বিয়ে দিয়ে দায় থেকে মুক্ত হওয়ার বাসনা যে পুরোপুরি গেছে তেমনটা নয়। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে। প্রশাসনিক নজরদারির এড়িয়ে মাঝেমধ্যেই সামনে আসে বাল্যবিবাহের খবর।
মঙ্গলবার শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের সরকারি অনুষ্ঠানে এই বাল্যবিবাহর বিরুদ্ধেই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেয়েদের অভিভাবকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “১৮ বছরের আগে বিয়ে দেবেন কেন? পড়ান পড়ান, সরকার তো টাকা দিচ্ছে, পড়াবেন না কেন? আপনার এই মেয়েই একদিন আপনার অ্যাসেট হবে। ওকে পড়ান।”
মেয়েদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহমিশ্রিত বার্তা, “কোনও কাজই ছোট নয়। জীবনে বড় হতে গেলে ছোট থেকেই শুরু করতে হয়। পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে হবে। দিদি তোমাদের পাশে আছে।” মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, “খারাপ কথা বললে পজেটিভ ভাইব্রেশন নষ্ট হয়। তাই সব সময় পজেটিভ থাকতে হবে।”
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বাল্যবিবাহ রোধে তৎপর হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রামেগঞ্জে যানবাহনের অভাবে স্কুল ছাড়ত অনেক পড়ুয়াই। তাদের কথা ভেবেই চালু করেছিলেন ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্প। এই প্রকল্পে সাইকেল পেয়ে স্কুলে যাওয়া সহজ হয়। মঙ্গলবার থেকে চলতি বছরের সাইকেল বিলির অনুষ্ঠান শুরু হল। এবার ৭ হাজার ৭৭৬টি স্কুল ও মাদ্রাসার নবম শ্রেণির পড়ুয়া ১২ লক্ষ ২৪ হাজার ছাত্রছাত্রীকে সাইকেল দিচ্ছে সরকার। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সমস্ত পড়ুয়ার কাছে পৌঁছে যাবে সাইকেল।
সবুজসাথীর পাশাপাশি পড়ুয়াদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয় তার জন্য মেধাশ্রী প্রকল্পও চালু করে রাজ্য সরকার। চালু হয়েছে স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড। উচ্চশিক্ষার জন্য যেখান থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন পড়ুয়ারা। এছাড়াও মেয়েদের বিয়ের আগে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য রয়েছে রাজ্যের রূপশ্রী প্রকল্পও। যাতে এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এদিন মঞ্চে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রীর থেকে আর্থিক সহায়তা নিতে হাজির হয়েছিলেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দুই সদ্য বিবাহিতা তরুণীও। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “১৩ দিনের সদ্যজাতকে নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। আবেদন করলে সকলেই এভাবে সরকারি সহায়তা পাবেন।”