
শেষ আপডেট: 20 November 2023 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে রাজ্যের একাধিক পুরসভায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং ইডি। জেরা করা হয়েছে একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যান সহ পুর কর্তাদের একাংশকে। সূত্রের খবর, নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক গরমিলের হদিস পেতে এবার একাধিক পুরসভার হাজিরা খাতা এবং বায়োমেট্রিক মেশিনের নথি খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে ইডির নজরে কামারহাটি, বর্ধমান, নিউ ব্যারাকপুর, ব্যারাকপুর, পানিহাটি, দমদম, দক্ষিণ দমদম, বিধাননগর-সহ একাধিক পুরসভা বা পুরনিগম। এমন ১০টি পুরসভার পুরকর্মীদের হাজিরার নথি চেয়ে পাঠানো হয়েছে। ওই নথি থেকে পুর নিয়োগ দুর্নীতির আরও তথ্য মিলবে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।
পুর নিয়োগ দুর্নীতির কথা প্রথম সামনে আসে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অয়ন শীল গ্রেফতার হওয়ার পর। ইডি আদালতে দাবি করেছিল, তাঁর থেকে উদ্ধার হওয়া নথিতে পুর নিয়োগে দুর্নীতির হদিস মিলেছে। ইডি এও দাবি করে, সেইসব নথি দেখে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ৬০টি পুরসভায় বেআইনি নিয়োগ হয়েছে। তারপরেই পৃথকভাবে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। পরে ওই মামলায় যুক্ত করা হয় কেন্দ্রীয় আর এক তদন্তকারী সংস্থা ইডিকে।
সম্প্রতি সিবিআইয়ের পাশাপাশি ইডিও একাধিক পুরসভায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল। সূত্রের খবর, ওই তল্লাশি অভিযানে নেমেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, টাকার বিনিময়ে শুধু চাকরি কেনা নয়, একাংশ নিজেদের দায়িত্বও ঠিক মতো পালন করেননি। এ ব্যাপারে দফতরের একাংশ আধিকারিকের কাছে ওই কর্মীরা নাকি বেশ গর্বের সঙ্গেই বলেছিলেন, 'টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছি, আবার কাজ করব কেন?'
ওই সূত্র ধরেই ইডি জানতে পেরেছে, টাকা দিয়ে চাকরি পাওয়ার পর অনেকে মাসে ২ থেকে ৩ দিন অফিস গিয়েছেন। এই সংক্রান্ত আরও তথ্য জানতে হাজিরা খাতা ও বায়োমেট্রিক নথি খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্রে পুর নিয়োগ দুর্নীতির আরও তথ্য পাওযা যাবে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর জেরে বিপদ বাড়তে পারে পুরসভার একাংশ ফাঁকিবাজ কর্মীদের।