
শেষ আপডেট: 22 November 2023 16:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেশন বণ্টন দুর্নীতির আঁচ খাদ্য দফতরে। বাকিবুরের চালকল, গমকলে কত ধান বা গম পাঠানো হয়েছে এবার সেই তথ্য তলব করল ইডি। বাকিবুরের চালকলে তল্লাশি করে পাওয়া তথ্য খাদ্য দফতরের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। যার জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
গত অক্টোবর মাসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র হাতে গ্রেফতার হয়েছেন চালকল মালিক বাকিবুর রহমান। ইডি সূত্রের খবর, খাদ্য দফতর থেকে বাকিবুরের মিলে আসা চাল, গম ভাঙিয়ে আটা এবং চাল বিক্রি করা হত। সেক্ষেত্রে সরকারের থেকে বাকিবুরকে কত গম, চাল দেওয়া হয়েছে, খাদ্য দফতরের থেকে সেই তথ্যই চেয়েছে ইডি।
বাকিবুর গ্রেফতারের পরই উদ্ধার হয় তাঁর বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি। উঠে আসে তাঁর হেভিওয়েট ঘনিষ্ঠ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসূত্রের নানান তথ্য। সেই সূত্র ধরে কয়েকদিনের মধ্যে গ্রেফতার হন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বাকিবুরের নদিয়ার আটা এবং চালকল ‘মেসার্স এনপিজি রাইস মিল প্রাইভেট লিমিটেড’সংস্থার ডিরেক্টর বাকিবুর নিজেই ছিলেন। পরে ওই সংস্থার ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে দুর্নীতির বিভিন্ন তথ্য ইডির হাতে আসে। কিন্তু এই একই তথ্য বাকিবুরের কাছ থেকে যাচাই করতে গিয়ে অবাক হন ইডি আধিকারিককরা। কারণ সরকারি রেশন সরানো নিয়ে বাকিবুর এবং তাঁর ম্যানেজারের তথ্যে ছিল আকশ পাতাল তফাৎ। তবে আটা যে সরানো হত, তা ‘মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ’ ওই ব্যবসায়ীও স্বীকার করে নিয়েছেন বলে ইডি সূত্রের খবর।
চাল এবং আটা কলের মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি আধিকারিকরা জানতে পারে, হিসেবে যথেষ্টই গরমিল ছিল এবং এই গরমিলের কথা জানত দু’পক্ষই। পুরোটাই মিল মালিক এবং সরকারি সরবরাহকারীদের বোঝাপড়ায় হত বলেই দাবি ইডি আধিকারিকদের। সেই কারণেই সামগ্রিক তথ্য এবার খাদ্য দফতরের কাছে জানতে চাইল ইডি। জেল হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বুধবার বাকিবুরকে আদালতে তোলা হবে।