
শেষ আপডেট: 23 February 2024 10:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালিকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত শাহজাহান কবে ধরা পড়বে তা বলা মুশকিল। তবে তাঁর ওপর চাপ আরও বাড়ল। শুক্রবার সকাল থেকে ‘শাহজাহান ঘনিষ্ঠ’ একাধিক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি। কলকাতা, হাওড়া সহ রাজ্যের অন্তত ৬টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে তাঁরা। পাশাপাশি আমদানি-রফতানি ব্যবসা সংক্রান্ত একটি মামলায় নতুন করে এফআইআর দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
কলকাতার বিজয়গড়, হাওড়ার হালদারপাড়া সহ আরও ৪ জায়গায় ইডি এই তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। যে সব ব্যবসায়ীদের বাড়িতে হানা হয়েছে তাঁরা শাহজাহান ঘনিষ্ঠ বলেই জানতে পেরেছে ইডি। গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, আমদানি-রফতানি ব্যবসায় জমি-ভেড়ির টাকা বিনিয়োগ করা হতে পারে। সেই প্রেক্ষিতেই সকাল থেকে তৎপর হয়েছে ইডি। আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত ব্যবসায় ‘অনিয়ম’ নিয়ে তারা নতুন একটি ইসিআইআর বা অভিযোগ দায়ের করে এই তল্লাশি অভিযান করছে।
যাদের বাড়িতে ইডি হানা দিয়েছে তাঁরা মূলত আমদানি-রফতানির ব্যবসা করতেন। পাশাপাশি অন্য ব্যবসাও ছিল। তবে শাহজাহানের সঙ্গে তাঁদের ভালরকম সম্পর্ক ছিল বলেই সন্দেহ ইডির। ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন অরুণ সেনগুপ্ত। চিংড়ি মাছ প্রসেসিং করে রফতানির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীর বিরাটির কমল পার্কের বাড়ি ও অফিসে হানা দিয়েছে ইডি। শেখ শাহজাহানের যে ভেড়িতে চিংড়ি চাষ হত সেই মাছ তাঁর কাছ থেকে নিয়েই প্রসেসিং করে বিদেশে রফতানি করা হত। কোম্পানির নাম ম্যাগনাম প্রাইভেট লিমিটেড। মাইকেল নগর, নাগেরবাজার, গঙ্গানগর এইসব জায়গাতে রয়েছে তাঁর প্রসেসিং ফার্ম।
অনুমান, এই ব্যবসায়ীদের মাধ্যমেই বিপুল টাকা লেনদেন করেছেন ফেরার নেতা। শিবু এবং উত্তম গ্রেফতার হওয়ার পর কিছুটা খুশি হয়েছিলেন সন্দেশখালির মানুষ। তবে শাহজাহান গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ থামাবেন না।
শাহজাহানের বিরুদ্ধে অন্যের জমি দখল করে ভেড়ি বানানো, খামার বানানোর অভিযোগ আছে। সন্দেশখালির স্থানীয় বাসিন্দারা এই নিয়েই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে। তাঁরা শাহজাহানের গ্রেফতারির দাবি করেছে। যদিও এতদিনে শাহজাহানের দুই অনুগামী শিবু হাজরা এবং উত্তম সর্দার গ্রেফতার হলেও মূল অভিযুক্তের খোঁজ মিলছে না। গত ৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডি শাহজাহানের বাড়িতে গেছিল তদন্তের জন্য। সেদিন তাঁদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তারপর থেকেই বেপাত্তা সন্দেশখালির মুকুটহীন বাদশা।