
শেষ আপডেট: 6 February 2024 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: সবে ভোর হয়েছে। ঘন কুয়াশার জেরে তখনও আলো ফোটেনি ভাল করে। হঠাৎই দরজায় ধাক্কা। হতচকিত হয়ে বাড়ির লোক দরজা খুলতেই দেখেন কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে ফেলেছে চারপাশ। দরজা খোলা পেয়ে ঢুকে পড়লেন ইডি আধিকারিকরা। ঘরে ঢুকেই তাঁরা খোঁজ করেন সন্দীপ সাধুখাঁর। সন্দীপবাবু তখন তৈরি হচ্ছেন টাটা মেমোরিয়ালে যাওয়ার জন্য।
বাড়ির লোক বোঝানোর চেষ্টা করেন যাঁর খোঁজে এসেছেন নামটাই শুধু মিলছে। বাকি কিছুই নয়। এই নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডাও হয়। তারপরেই ভুল বুঝতে পারেন ইডির আধিকারিকরা। ততক্ষণে গোটা পাড়ার লোক জেনে গেছেন ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগে সন্দীপ সাধুখাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা উৎসাহী কাউকে বাড়ির ধারেকাছে ঘেঁসতে না দিলেও উকিঝুঁকি চলছিলই। ভুল বুঝে ইডি আধিকারিকরা বেরিয়ে যেতেই সব জল্পনার অবসান ঘটে।
চুঁচুড়ার ময়নাডাঙায় বাড়ি সন্দীপ সাধুখাঁর। মহেশপুরে একটি লজেন্স কারখানা রয়েছে তাঁর। নাম বিভ্রাটে মঙ্গলবার ভোরে তাঁরই বাড়িতে হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। তাই নিয়ে শোরগোল পড়ে গোটা এলাকায়। বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এক ইডি আধিকারিক বলেন, “নাম বিভ্রাট হয়েছে। ভদ্রলোকের সঙ্গে এই মামলার কোনও যোগই নেই। উনি অসুস্থ রোগী। টাটা মেমোরিয়ালে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। কেমো নেওয়ার জন্য। নামের মিল থাকায় আমাদের ভুল হয়েছে।”
সন্দীপবাবুর ছেলে শুভদীপ সাধুখাঁ বলেন, “ভুল ঠিকানায় ভুল লোকের কাছে চলে এসেছিল ইডি। সকাল ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলি। সিআরপিএফ দেখে ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। ওদের বোঝানোর চেষ্টা করি যে ভুল জায়গায় এসেছে। একটু পরে ওরাও সেটা বুঝতে পারে। চলেও যায়। তবে সাতসকালে এমন অভিযানে আমাদের সামাজিক সম্মান তো নষ্ট হয়েইছে।”
মঙ্গলবার ভোর থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ইডির অভিযান। এবার তাদের নিশানায় ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতিতে অভিযুক্তরা। হুগলির পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম ও মুর্শিদাবাদেও চলছে ইডির অভিযান।