
শেষ আপডেট: 26 October 2023 11:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ কাণ্ডে তদন্ত শুরু করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। সেই তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা খোঁজ পান পুর নিয়োগ দুর্নীতির। পুজোর আগে সেই ঘটনায় অন্তত এক ডজন পুরসভায় বর্তমান কিংবা প্রাক্তন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, কাউন্সিলরকে জেরা করেন ইডি গোয়েন্দারা। তাঁদের বাড়িতে তল্লাশিও চলে। সেই সূত্রে খোঁজ পাওয়া যায় রেশন ডিলার তথা চালকল মালিক বাকিবুর রহমানের। তাকে গ্রেফতার করেছে ইডি। এবার বাকিবুরকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেলেঘাটায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিলেন ইডির গোয়েন্দারা। ওই ব্যবসায়ীর ছেলে মাত্র তিন মাস আগে খাদ্য দফতরে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন।
নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের তদন্ত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। অর্থাৎ এ বছরের মধ্যে চার্জশিট পেশ করতে হবে ইডি ও সিবিআইকে। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের ওই নির্দেশের পরই বিভিন্ন পুরসভার চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চলে। ইডি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, তদন্তের গতি যত বাড়ছে ততই যেন তার পরিধি বেড়ে যাচ্ছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডের সূত্রে জেরা করা হয়েছিল বাকিবুরকে। সেখান থেকে উঠে এসেছে রেশন দুর্নীতির কাণ্ড। এখন খাদ্য দফতরে নিয়োগের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।
বেলেঘাটার যে ব্যবসায়ীর বাড়িতে এদিন ইডির গোয়েন্দারা তল্লাশি চালিয়েছেন, তাঁর নাম দেবাশিস দে। সকাল পৌনে ৭টা নাগাদ ইডির অফিসাররা তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
দেবাশিস দের বাড়ি বেলেঘাটার লতাফৎ হোসেন লেনে। তাঁর ছেলে রনিত দে তিন মাস আগে খাদ্য দফতরে চাকরি পেয়েছেন। রনিত আগে থিয়েটার-নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এখন সরকারি চাকরি করেন। তবে তিনি অনিয়ম বা দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন, তা এখনও প্রমাণিত নয়। সবটাই সন্দেহ। বাকিবুরের সঙ্গে দেবাশিসের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের আপ্ত সহায়ক অমিত দে-র সঙ্গে দেবাশিস দে-র কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখছেন ইডির অফিসাররা।