
শেষ আপডেট: 3 January 2024 20:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র তথা কালীঘাটের কাকুর কন্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ নিয়ে অনেক দিন ধরে টালবাহানা চলছিল। কলকাতা হাইকোর্টের কড়া ধমকের পর এবার আর জট রইল না। বুধবার রাত পৌনে ৮টা নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছে গেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের টিম।
কালীঘাটের কাকুকে নিতে এদিন সন্ধেয় জোকা ইএসআই হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ফাইভ-জি অ্যাম্বুলেন্স। হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের গেটে এনে দাঁড় করানো হয়েছে। এর আগে সুজয়কৃষ্ণবাবু তাঁর হৃদযন্ত্রে সমস্যার কথা বলেছিলেন। সেই কারণে আইসিইউ-তে ছিলেন তিনি। ফলে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে জোকা ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ে যাতে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ না ওঠে তাই আটঘাট বেধেই নেমেছে ইডি। সূত্রের খবর, এসএসকেএম হাসপাতালে যে চিকিৎসকরা সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রর চিকিৎসা করছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও কথা বলেছেন ইএসআই হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রর কন্ঠস্বরের নমুনা নিতে কেন দেরি হচ্ছে তা নিয়ে মঙ্গলবার উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। বুধবার তিনি তাঁর এজলাসে ইডির জয়েন্ট ডিরেক্টরকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে বলেছিলেন, গলার স্বরের নমুনা কীভাবে সংগ্রহ করতে হয় তা আদালতে এসে জানাতে হবে কোনও চিকিৎসককে। এ ব্যাপারে জোকার ইএসআই হাসপাতালকে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টিম গড়তে হবে। এদিন সেই দলের প্রধানকে সাড়ে ৩টেয় এজলাসে এসে নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি জানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। বুধবার বিকেল ৫টা নাগাদ বিচারপতি সিনহার রুদ্ধদ্বার এজলাসে সেই শুনানি শেষ হয়। তার পরই সব নজর গিয়ে পড়ে এসএসকেএম হাসপাতালের উপর।
সূত্রের মতে, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের জন্য তাঁকে একবার জোকা ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আদৌ এসএসকেএমে ফেরানো হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। জোকা হাসপাতালেই তাঁকে আধা সামরিক বাহিনীর প্রহরায় রেখে দেওয়া হতে পারে।
তবে ঘটনা হল, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অর্থাৎ রাত ৮টা পর্যন্ত কালীঘাটের কাকুকে এসএসকেএম থেকে বের করা হয়নি। সে ব্যাপারে এখন তৎপরতা চলছে। শেষমেশ কী হয় সেটাই এখন দেখার।