
শেষ আপডেট: 24 January 2024 15:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার সকাল পৌনে সাতটা। সন্দেশখালিতে ফেরার তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাড়িতে পৌঁছেছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। তালা ভেঙে সকাল ৭ টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাড়িতে ঢোকে ইডি। ভাঙা হয় বাড়ির ভেতরের আরও একাধিক তালা। অবশেষে দেড়টা নাগাদ তল্লাশি অভিযান শেষে বেরিয়ে যান তদন্তকারীরা।
ফেরার সময় শাহজাহানের বাড়ির দরজায় নোটিস সাঁটিয়ে ফেরেন তদন্তকারীরা। কী লেখা রয়েছে নোটিসে? রেশন দুর্নীতি মামলায় ডকুমেন্ট নিয়ে ২৯ জানুয়ারি সকাল ১১ টায় সিজিও কমপ্লেক্স এ হাজিরার নির্দেশ দেওযা হয়েছে শাহাজাহানকে। সূত্রের খবর, ওই দিনের মধ্যে হাজিরা না দিলে ফের আইনি পদক্ষেপ করবে ইডি।
নির্দিষ্ট দিনে আধার কার্ড, পাসপোর্ট, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড এবং নিজের পাসপোর্ট আকারের ছবি নিয়ে সিজিওতে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছেন তদন্তকারীরা।
প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টার তল্লাশি অভিযানে সন্দেশখালির তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে কী কী উদ্ধার করলেন তদন্তকারীরা?
সূত্রের খবর,একটি আলমারির পাল্লা খোলা ছিল। বাকি আলমারিগুলিতেও জামাকাপড় ছা্ড়া কোনও নথি বা অন্য কিছু পাওয়া যায়নি। এমনকী বাড়ির ভিতরে থাকা একাধিক সুটকেসের চেন খুলে গোয়েন্দারা দেখেন সেগুলি ফাঁকা। তদন্তকারী সংস্থার আশঙ্কা, পালিয়ে যাওয়ার আগে যাবতীয় নথি সরিয়ে ফেলেছেন সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা।
তবে বেশ কিছু জমি বাড়ির দলিল এবং গয়নার বিল পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, শাহজাহানের বাড়ি থেকে ১৯টি অরেজিস্ট্রিকৃত দলিল পেয়েছে ইডি। কলকাতার দু’ট নামি সোনার দোকান থেকে কেনা বেশকিছু গহনার বিলও পাওয়া গিয়েছে। এমনকী শাহজাহানের বাজার’ বা শেখ শাহজাহান মার্কেটের বিস্তারিত প্রজেক্ট রিপোর্টও পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
এছাড়াও শাহজাহানের নিজের নামে তিনটি জীবনবিমার কাগজপত্রও পেয়েছে ইডি। পাওয়া গিয়েছে ২০১৮ সালে শাহজহানের দেওয়া আয়কর রিটার্নের ফাইল। শাহজাহান শেখের বাড়ি থেকে বহু ব্যাক্তির বিমানের টিকিট, ভিসা, বিমার সার্টিফিকেট সংক্রান্ত নথির কাগজও বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারী দলের এক সদস্যের কথায়, "শাহজাহানের বাড়ি থেকে হয়তো নগদ অর্থ মেলেনি, তবে অনেক কাগজপত্র পাওয়া গিয়েছে। যা তদন্তের কাজে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।"
গত ৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতির তদন্তে সন্দেশখালিতে শাহজাহানের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। সেদিন রীতিমতো মার খেয়ে এলাকা ছাড়তে হয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সির কর্তাদের। মাথা ফেটেছিল তিন অফিসারের। তারপর থেকেই খোঁজ নেই শাহজাহান শেখের।
হদিশ পেতে আদালতের নির্দেশে গত ১৬ জানুয়ারি শাহজাহানের বাড়ির সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়। সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর আগেই কি বাড়ির যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে ফেলা্ হয়েছে? এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে সিসিটিভি ক্যামেরার ছবি দেখার জন্য বুধবারই আদালতে আবেদন জানানো বলে বলে ইডির একটি সূত্রের দাবি।