
জ্যোতি বসুর আমলে শিল্পের ধ্বংস হওয়া নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালের।
শেষ আপডেট: 3 June 2024 00:43
তাঁকে সাধারণত ধোপদুরস্ত বিজনেস স্যুট বাজহর কোটে দেখতেই অভ্যস্ত আমরা। অর্থনীতিবিদ পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি যে একেবারে খোদ প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা! কিন্তু রবিবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে নিপাট বাঙালি অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যাল মঞ্চে উঠলেন সাদা ধুতি ও নীল পাঞ্জাবিতে।
ইদানিং নানা ব্যাপারে সঞ্জীববাবুর বিভিন্ন মন্তব্যকে ঘিরে বেশ আলোচনা শোনা যায়। দেশের সিভিল সার্ভিস হোক বা বিচারব্যবস্থা, এমনকি বাঙালির 'আঁতলামো' থেকে বামপন্থার প্রভাব—সব কিছু নিয়েই নানা সময় নানা বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন অক্সফোর্ডের তুখোড় ছাত্র সঞ্জীববাবু। তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে৷ বিচারব্যবস্থা নিয়ে তাঁর মন্তব্যের পালটা জবাব দিয়েছেন খোদ দেশের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। বিচারপতিদের ছুটি নেওয়া নিয়ে তাঁর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে তামিলনাড়ু বার কাউন্সিল। কিন্তু তিনি অনমনীয়। কলকাতার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বণিকসভা "বঙ্গীয় বাণিজ্য পরিষদ"-এর বার্ষিক সম্মেলনে অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে সঞ্জীববাবু ফের পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারকে লক্ষ্য করে আক্রমণ শানালেন। যার কেন্দ্রবিন্দুতে রইলেন—বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু।
কথা হচ্ছিল বাংলার সমৃদ্ধ মধ্যযুগীয় ইতিহাস ও ঔপনিবেশিক আমলে বাঙালির ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়ে। এখন কলকাতায় স্টার্ট-আপের ধুম লেগেছে। অথচ আজও গৃহস্থের অন্দরে প্রায়ই বলাবলি হয়, 'আর যাই হোক, বাঙালির দ্বারা ব্যবসা হয় না!' ঘটনা হচ্ছে, বাঙালির বাণিজ্যের ইতিহাসও বেশ লম্বা। এককালে গাঙ্গেয় বঙ্গের তাম্রলিপ্ত, সপ্তগ্রাম, চট্টগ্রাম ছিল নাম করা বন্দর৷ প্রাচীন ঐতিহাসিক প্রত্নক্ষেত্র চন্দ্রকেতুগড়ের সাক্ষ্য মানলে, বাঙালির সমুদ্রবাণিজ্যের কথা এককালে গ্রিক-রোমানরাও লিখে গিয়েছে। কথকতায়, লোকায়ত গল্পে সেসবের বহু উল্লেখ রয়েছে। বক্তৃতায় সঞ্জীববাবু বলেন, 'মানুষের অগ্রগতির অন্যতম প্রধান অংশ হল গল্প। মানব ইতিহাসের প্রতিটি জনজাতি তাদের অগ্রগতিরনানা গল্প নিজেদের শুনিয়ে থাকে। বাঙালিও নিজেকে এই কথাটা বলেছে, তারা সবকিছু পারে, কিন্তু ব্যবসা চালাতে পারে না। আমরা যদি নিজেরা নিজেদের এটা বলি, তাহলে কি আমরা আদৌকখনো ব্যবসা করতে পারব?'
বরং বাঙালির ইতিহাস জুড়ে জলপথ বাণিজ্য একটাবড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলা নদীমাতৃক অঞ্চল। নদীর সঙ্গে আমাদের চিরন্তন যোগাযোগ। এই সূত্রধরেই সঞ্জীববাবু খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকের প্রত্নক্ষেত্র চন্দ্রকেতুগড় ও খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের বন্দর তাম্রলিপ্তের কথা মনে করিয়ে দেন। বলেন, 'এই নদীমাতৃক এলাকার অন্যতম সমস্যা হল, এখানে নদী তার গতিপথ ক্রমাগত পরিবর্তন করে। যার ফলে এলাকার ভূগোল কখনো নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। যার ফলে এই বন্দরগুলোর অবস্থানও বদলে যেত, এবং আমরা দেখি, মধ্যযুগে এসে নতুন করে অন্যান্য নানা বন্দর গড়ে উঠতে থাকে। আমরা যদি মনসামঙ্গল কাব্য পড়ি, দেখতে পাব—তাতে অসংখ্য নদী-বাণিজ্যের উল্লেখ আছে।' এই প্রসঙ্গে চাঁদ সদাগরের কথা উল্লেখ করেন তিনি। আজও যা বাঙালির লোকায়ত সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা জুড়ে রয়েছে।
মধ্যযুগের বাঙালি বণিকের আলোচনার পরে ঔপনিবেশিক আমলের অর্থনীতি ও বাঙালি উদ্যোগপতিদের গল্প তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা। উঠে আসে স্বদেশী আন্দোলনের কথা। ঘটনাচক্রে, সঞ্জীব সান্যালের পূর্বপুরুষ শচীন্দ্রনাথ সান্যাল ছিলেন অগ্নিযুগের প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী। গদর আন্দোলন-সহ একাধিক চরমপন্থী বৈপ্লবিক সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত শচীন্দ্রনাথের নেতৃত্বেই উত্তর ভারতে ভগৎ সিং, চন্দ্রশেখর আজাদের মত বীর বিপ্লবীদের উত্থান ঘটে। সেই সূত্র ধরেই স্বদেশী যুগের দেশীয় ব্যবসার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন সঞ্জীববাবু। বলেন, 'স্বদেশী আন্দোলনের হাত ধরেই একাধিক বাঙালি উদ্যোগপতি সাফল্যের সঙ্গে নানা ব্যবসায়িক উদ্যোগ হাতে তুলে নেন। তাদের অন্যতম ছিল ক্যালকাটা কেমিক্যালস—১৯১৬ সালে যার প্রতিষ্ঠা করেন কেসি দাস। এই সংস্থাই পরে মার্গো সাবান বানানোর জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠে। ছিল লক্ষ্মী টি। বানিয়েছিলেন পি সি চট্টোপাধ্যায়। আজ তাঁরাই মকাইবাড়ি চা বাগানের মালিক। আর একজন ছিলেন রাধানাথ সাহা। ইনি ছিলেন বাংলার অন্যতম ফাউন্টেন পেন বানানোর কারিগর। রবীন্দ্রনাথ, মহাত্মা গান্ধী, অম্বেদকর প্রমুখ অনেকেই তাঁর বানানো পেন ব্যবহার করতেন।'
এই কথা বলতে গিয়েই সঞ্জীববাবু বলেন তাঁর অপর এক পূর্বপুরুষের কথা। তিনি—মোহিনীমোহন চক্রবর্তী। 'কতজন এখানে তাঁর নাম জানেন?' প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি। খুব বেশি উত্তর এল না। সঞ্জীববাবু বলে চলেন, 'মোহিনীমোহন চক্রবর্তী মাঝারি মানেন একজন আমলা হিসেবে জীবন শুরু করেছিলেন। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। বঙ্গভঙ্গের সময় স্বদেশী হাওয়ায় তিনি কুষ্টিয়ায় নিজের বাড়িতে ১৯০৫ সালে একটা ছোট্ট সুতোর কাপড়কল খুলেছিলেন। নাম দিয়েছিলেন চক্রবর্তী ব্রাদার্স। ধুতি, শার্ট ইত্যাদি বেশ ভালই হত সেখানে। ১৯০৮ সালের মধ্যে সেটি 'মোহিনী মিলস লিমিটেড' নামে নথিভুক্ত হয়। সেই সংস্থার চোদ্দজন ডিরেক্টরের একজন ছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সংস্থার বৃহত্তম বিনিয়োগকারী ছিলেন কবিগুরু। তরতরিয়ে বাড়তে শুরু করে সেই সংস্থা। ভারতের অন্যতম বড় 'মিল' হয়ে ওঠে। স্বাভাবিকভাবেই ব্রিটিশরা এতে খুশি হতে পারেনি। চাপানো হয় বাড়তি করের বোঝা। তাতেও কিন্তু ব্যবসা দমাতে পারেনি। ১৯৪২ সালে যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পুরোদমে চলছে, তখনও মোহিনী মিলস ২৫ শতাংশ ডিভিডেন্ডে প্রায় ৩৫.৬ লক্ষ টাকা ঘোষণা করে। ৪৮০০০ সুতোকাটার টাকু বা স্পিন্ডল ছিল সংস্থার। কুষ্টিয়ার পাশাপাশি কলকাতার বেলঘরিয়াতে কাপড়কলের একটা শাখা খোলা হয়।'
কিন্তু ব্রিটিশদের দমননীতি বা বিশ্বযুদ্ধের ছায়াও যা করতে পারেনি, সেইটেই হয়ে গেল দেশভাগের পর। কুষ্টিয়া চলে গেল নবনির্মিত পূর্ব পাকিস্তানে। এককালের 'রোডস স্কলার' সঞ্জীব সান্যাল বলে চলেন, 'দেশভাগের পরে পাঁচের দশকেও সেই মিল চলেছিল। কিন্তু ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে মোহিনী মিলকে শত্রুপক্ষের সম্পত্তি ঘোষণা করে পাক বাহিনী। চক্রবর্তীদের অনেকেই যদিও ততদিনে এপারে চলে এসেছেন। একটি শাখা তখনও রয়ে গিয়েছিল কুষ্টিয়ায়। কিন্তু '৭১-এর গণহত্যার সময় তারাও বিপদে পড়ে যায়। এই পরিবারেরই উত্তরসূরি হচ্ছেন লেখক সুদীপ চক্রবর্তী। সবাইকেই চলে আসতে হয় এপারে। আপনারা অনেকেই আমার বাবার দিক থেকে ঐতিহ্যের কথা শুনেছেন। কিন্তু এই পরিবার আমার মায়ের দিক থেকে আমার পূর্বপুরুষ। মোহিনীমোহন চক্রবর্তী ছিলেন আদতে আমার মায়ের দিক থেকে বৃদ্ধপ্রপিতামহ।'
এপারে এসেও মোহিনীমোহনের পরিবারের উত্তরসূরিরা কলকাতার কাছে বেলঘরিয়ায় সেই কাপড়কলের ব্যবসাকে চালিয়ে যেতে চায়। কিন্তু সঞ্জীববাবুর অভিযোগ—বাধা হয়ে দাঁড়ায় তৎকালীন বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। 'পাকিস্তানি সেনাও যা করতে পারেনি, আটের দশকের শুরু থেকে লোডশেডিং, শ্রমিক আন্দোলন মোটামুটিভাবে সেটা শেষ করে দিতে সক্ষম হয়! জ্যোতি বসুর বামফ্রন্ট সরকারের আমলে বেলঘরিয়ায় মোহিনী মিলস বন্ধ হয়ে যায়। সেটাই মোহিনী মিলসের কফিনে শেষ পেরেক। ফার্স্ট, ডেস্ট্রয়েড বাই পার্টিশন, অ্যান্ড লেটার, জ্যোতি বসু অ্যান্ড দ্য লেফট ফ্রন্ট ফিনিশড দ্য জব দ্যাট দ্য পাকিস্তানি আর্মি স্টার্টেড। বহু হিন্দু রিফিউজি পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে এপারে পালিয়ে এসেছিল। তাঁদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয় মরিচঝাঁপিতে।'
মোহিনীমোহনের পাশাপাশি আরও একজনের কথা বলেন সঞ্জীববাবু। বলেন, 'তার পরেও একটা ব্যবসায়িক প্রজন্ম অবশিষ্ট ছিল বাংলায়। ওটাই শেষ প্রজন্ম। যার একজন ছিলেন বাংলার খেলাধুলোর ইতিহাসের সম্ভবত শ্রেষ্ঠ সাঁতারু মিহির সেন। ১৯৩০ সালে মিহিরবাবুর জন্ম পুরুলিয়ায়। পরে তাঁর পরিবার চলে যান ওড়িশায়। তাঁর মা কোনওভাবে তৎকালীন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী বিজু পট্টনায়ককে ধরে তাঁর ছেলেকে যাতে ব্যারিস্টারি পড়ানোর জন্য বিলেত পাঠানো যায়, তার অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধ রাখেন বিজু। মিহির লন্ডনে যান। ভর্তি হ'ন আইনের ক্লাসে। কিন্তু টাকা শেষ হওয়ার কারণে তাঁকে নানা ছোটোখাটো কাজ করতে হত। পাঁচের দশকে তখন অভিযানের যুগ। কেউ এভারেস্টে উঠছেন, কেউ অন্যত্র অভিযান করছেন। মিহির লন্ডনে গিয়ে শোনেন, এক মার্কিন মহিলা প্রথম ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পেরিয়েছেন। তাঁর ঝোঁক চাপে, তিনিও এমন কিছু করবেন। স্থানীয় ওয়াইএমসিএ-তে গিয়ে তালিম নিতে শুরু করেন। পরে তিনিই প্রথম ভারতীয় সাঁতারু হিসেবে ইংলিশ চ্যানেল সফলভাবে সাঁতরানোর রেকর্ড করেন।'
কিন্তু অনেকেই যেটা জানেন না, মিহির সেই শিরোপার পরে পৃথিবীর নানা প্রান্তে সাঁতারের রেকর্ড করেছিলেন, কিন্তু পরে কলকাতায় ফিরেও এসেছিলেন। যোগ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টে। ফৌজদারি অপরাধের উকিল হিসেবে রীতিমত নাম করেছিলেন। সঞ্জীববাবু বলেন, 'কলকাতায় এসে মিহির আইনের পেশায় সফল হয়ে একটা রফতানির ব্যবসা শুরু করেন। কাপড় ছিল তাঁর রফতানির প্রধান বস্তু। সাতের দশকের মধ্যে তিনি ভারতের অন্যতম শীর্ষ সিল্কের রফতানির ব্যবসাদার হিসেবে পরিচিত হ'ন। কিন্তু '৭৭ সালে ভোট আসে। জ্যোতি বসু তাঁর কাছে টাকা চান নির্বাচনী কাজের জন্য। দলের হয়ে প্রচার করতেও বলেছিলেন। রাজি হ'ননি মিহির। তাই জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই আগে হাওড়ায় মিহিরের কাপড়ের গুদাম বন্ধ করিয়ে দেন। রীতিমত দেউলিয়া হয়ে যান মিহির। যখন মারা যান, তখন সামান্য সঞ্চয়টুকুও ছিল না।'
এর আগে একাধিকবার বাংলার ট্রেড ইউনিয়ন সংস্কৃতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন সঞ্জীব সান্যাল। আজ আবারও সেই কথা তোলেন। বক্তব্যের শেষে বলেন, 'আমরা যদি নিজেদের ট্রেড ইউনিয়ন করার গল্প বলি, আমাদের কপালে ওই জুটবে। আমরা যদি নিজেদের রকে বসে আঁতেলবাজির গল্প শোনাই, আমাদের ওই হবে। বাংলায় উদ্যোগপতিদের মাথা তোলার জন্য অনেক কিছুই বদল করা দরকার। কিন্তু সবার আগে আমরা নিজেদের যে গল্পগুলো শোনাই, তাতে বদল আনতে হবে।'
সঞ্জীববাবুর এই বক্তব্যের পরে দর্শকদের মধ্যে বেশ বিতর্ক হয়। কেউ কেউ তাঁকে মনে করিয়ে দেন, জ্যোতি বসু তো জোর করে অতদিন মুখ্যমন্ত্রী থাকেননি! তাঁকে জনতাই নির্বাচিত করেছিল। সভার শেষে সঞ্জীববাবুর কাছে কিছু প্রশ্ন রাখা হলেও ব্যস্ততার কারণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে রাজি হ'ননি। সামনেই ভোটের ফলাফল—তাই কোনও রাজনৈতিক প্রশ্নেরও উত্তর দেবেন না বলে যান। শেষে লিফটে ওঠার আগে তাঁকে দ্য ওয়াল একান্তে প্রশ্ন করে, আঁতেলবাজি বলতে কি তিনি আড্ডাকে বোঝাচ্ছেন? নাকি বৌদ্ধিক চর্চার কোনও বিশেষ প্রকারভেদকে? বিস্তারিত জবাবে না গেলেও লিফটে ওঠার আগে সঞ্জীববাবু বলে যান, 'আমার আড্ডায় আপত্তি নেই, কিন্তু আঁতেলবাজিতে আছে। ওটা বাঙালির সংস্কৃতি নয় বলেই মনে করি।'