
শেষ আপডেট: 12 April 2023 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার সময়েও ইকমো (ECMO) সাপোর্ট দিয়ে অনেক সঙ্কটাপন্ন করোনা রোগীর প্রাণ বাঁচিয়ে নজির গড়েছিল মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল (Medica Superspecialty Hospital)। অ্যাডেনোভাইরাসের সময়েও একই রকমভাবে বহু রোগীর প্রাণ বাঁচায় মেডিকা। বিশেষ করে তীব্র শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা করে, তাদের ইকমো সাপোর্ট দিয়ে সুস্থ করে বাড়ি পাঠিয়েছে কলকাতার এই হাসপাতাল।
অ্যাডেনোভাইরাসে শিশুরাই বেশি ভুগেছে। রাজ্যজুড়ে অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসের সংক্রমণে। অ্যাডেনো আক্রান্তদের জ্বর, সর্দি-কাশি ছাড়াও শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। ভেন্টিলেশনে রাখার দরকার পড়েছিল রোগীদের। অনেককেই কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দিতে হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল অ্যাডেনোভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ পরিকাঠামো তৈরি করে। শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের ইকমো সাপোর্ট দেওয়া হয় সঠিক সময়। অনেকেই প্রাণ বাঁচিয়ে সুস্থ শরীরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।
ইকমো হল ‘একস্ট্রা কর্পোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন’ (ECMO) পদ্ধতি। একে ‘একস্ট্রা কর্পোরিয়াল লাইফ সাপোর্ট’-ও (ECLS) বলা হয়। হার্ট ও ফুসফুসের রোগে এই পদ্ধতির প্রয়োগ করেন ডাক্তাররা। শ্বাসপ্রশ্বাসে যখন স্বাভাবিক ভাবে অক্সিজেন ঢুকতে পারে না শরীরে, ভেন্টিলেটরের মতো যান্ত্রিক পদ্ধতিতেও কাজ হয় না, তখন কৃত্রিম ভাবে এই পদ্ধতিতে শরীরে অক্সিজেন ঢোকানো হয়। সাধারণত হাইপোক্সেমিক রেসপিরেটোরি ফেইলিওরের রোগীদের এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়। এর জন্য শরীরে থেকে রক্ত বার করে, তার মধ্যে অতিরিক্ত কার্বন-ডাই অক্সাইড ছেঁকে বার করে পরিশোধন করে আবার শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
২০১৪ সাল থেকে ইকমো সাপোর্ট দেওয়া শুরু হয়েছে মেডিকায়। এখন এশিয়ার অন্যতম বড় ও আধুনিক ইকমো সেন্টার রয়েছে মেডিকাতেই। পূর্ব ভারতে যতগুলি ইকমো সেন্টার আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় মেডিকা। আধুনিক যন্ত্রপাতি শুধু নয়, ২৪ ঘণ্টা ইকমো সাপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে মেডিকায়। রয়েছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররাও। এখনও অবধি তিনশোর বেশি রোগীকে ইকমো সাপোর্টে রাখা হয়েছে মেডিকায়। সাফল্যের হার ৫০ শতাংশের বেশি।
ইকমো সাপোর্টে বেঁচে ফিরেছেন যে রোগীরা তাদের নিয়ে একটি আলোচনাসভা হয়েছে মেডিকায়। ইকমোর প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন ডাক্তারবাবুরা। সেই প্যানেলে ছিলেন মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কার্ডিও-পালমোনারি ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটের প্রধান ও ইকমো বিশেষজ্ঞ ডা. দীপাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, মেডিকার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ডা. কুনাল সরকার, ইকমো বিশেষজ্ঞ ও কার্ডিও-পালমোনারি ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটের কনসালট্যান্ট ডা. হীরক শুভ্র মজুমদার ও ডা. ঋতুপর্ণা দাস।
পাঁচ বছরের আরভ কাশি আর জ্বর নিয়ে ১৯ জানুয়ারি ভর্তি হয়েছিল মেডিকায়। তীব্র শ্বাসকষ্ট ছিল তার। মেডিকায় তাকে ইকমো সাপোর্টে রাখা হয়। পরীক্ষায় ধরা পড়ে অ্য়াডেনোভাইরাস ও রাইনোভাইরাসে আক্রান্ত ছিল সে। পাশাপাশি নিউমোনিয়াও হয়েছিল। ১৮ দিন ইকমো সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে। আরও সাত দিন পর্যবেক্ষণে রেখে সুস্থ করে বাড়ি ফেরানো হয় তাকে।
১৫ বছর বয়সি সুদেষ্ণা বসুর হার্ট এবং ফুসফুসের অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং তার শ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছিল। ২৬ জানুয়ারি তাকে মেডিকাতে ভর্তি করা হয় এবং ইসিএমওতে রাখা হয়েছিল। পারকিউটেনিয়াস ট্র্যাকিওস্টমি করার পরে ৪৭ দিন এবং পরে আরও ১২ দিন ইকমো সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে। ৬৬ দিন হাসপাতালে থাকার পর ১ এপ্রিল তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এখন সুদেষ্ণা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছে এবং ভাল আছে।
চার বছরের বিক্রমজিৎ প্রবল জ্বর নিয়ে মেডিকায় ভর্তি হয়েছিল। অ্যাডেনোভাইরাসের কারণে তার মারাত্মক সংক্রমণ ধরা পড়ে। ডান ফুসফুস অকেজো হতে বসেছিল। নিউমোনিয়াও ধরা পড়েছিল। ব্রঙ্কো প্লুরাল ফিস্টুলায় আক্রান্ত হয়েছিল সে। মেডিকায় আট দিন টানা ইকমো সাপোর্টে রেখে সুস্থ করা হয় তাকে।