দ্য ওয়াল ব্যুরো : লোকজনশক্তি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা রামবিলাস পাসোয়ানের ছেলে চিরাগ পাসোয়ান (Chirag Paswan) বনাম তাঁর কাকা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পশুপতিনাথ পরশ। দু'জনের মধ্যে বিরোধ চলছে বেশ কয়েকমাস ধরে। পরশের নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠীর দাবি, তারাই প্রকৃত লোকজনশক্তি পার্টি। এই পরিস্থিতিতে শনিবার বিবৃতি দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানাল, কিছুদিনের মধ্যে বিহারে কুশেশ্বর আস্থান ও তারাপুরে উপনির্বাচন হবে। সেখানে এলজেপি-র দু'টি গোষ্ঠী একই দলীয় নামে লড়াই করতে পারবে না। কোনও গোষ্ঠীই দলের বাংলো প্রতীকও ব্যবহার করতে পারবে না।
নির্বাচন কমিশন দু'টি গোষ্ঠীকেই বলেছে, সোমবার বেলা ১ টার মধ্যে নতুন প্রতীক বেছে নিতে হবে। নির্বাচন কমিশন সেই প্রতীক অনুমোদন করলে তবেই তারা ভোটে তা ব্যবহার করতে পারবে। রামবিলাস পাসোয়ানের ভাই পরশের সঙ্গে আছেন সাংসদ প্রিন্স রাজ, চন্দন সিং, বীণা দেবী এবং মেহবুব আলি কায়সার। তাঁরা চিরাগকে দলের শীর্ষস্থান থেকে অপসারণ করেছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা গত জুন মাসে পরশকে এলজেপির দলনেতা বলে মেনে নিয়েছেন।
রামবিলাস পাসোয়ানের মৃত্যুর পর থেকেই কাকার সঙ্গে চিরাগের ঝগড়া শুরু হয়। চিরাগ কাকাকে হুমকি দিয়ে বলেন, তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করবেন। পরশ বলেন, তুমি ধরে নাও তোমার কাকা মারা গিয়েছেন। এরপর থেকে কাকার সঙ্গে কথা বলতেন না চিরাগ। গতবছর বিহারে ভোটের সময় দলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে চিরাগ কাকার সঙ্গে আলোচনাও করেননি। তাতে অপমানিত বোধ করেন পরশ।
এলজেপি-র কর্মীদের একাংশের মতে দলে বিদ্রোহ হওয়া অবশ্যম্ভাবী ছিল। চিরাগের খারাপ ব্যবহারের জন্য অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। গত বিধানসভা ভোটের পরে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পুরো বিহার ঘুরবেন। দলের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাঁদের অভিযোগের কথা শুনবেন। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি।
একসময় চিরাগ বিদ্রোহীদের সঙ্গে মিটমাটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তাঁর মা হবেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি। এখন ওই পদটি আছে চিরাগের দখলে। কিন্তু বিদ্রোহীরা তাঁর প্রস্তাবে রাজি হননি। তাঁরা পরশকে নেতা বলে মেনে নিয়েছেন। একদিন চিরাগ নিজে ড্রাইভ করে কাকার বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করার পরেও কেউ তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি।
পরশ বলেন, "আমাদের দলে ছ'জন সাংসদ আছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন দলকে রক্ষা করতে চেষ্টা করছেন। দলে কোনও ভাঙন হয়নি। আমরা দলকে রক্ষা করেছি।" চিরাগ সম্পর্কে পরশ বলেন, "সে আমার ভাইপো। তার প্রতি আমার কোনও রাগ নেই।" পরে তিনি বলেন, "আমি এনডিএ-তে রয়েছি। নীতীশ কুমার একজন ভাল নেতা। তিনি বিকাশ পুরুষ।"