আগে কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল, যেখানে ২৫০টির বেশি বাড়ি রয়েছে অথবা আবাসন, বহুতল কিংবা বস্তি এলাকায় ৫০০-র বেশি ভোটার আছেন, সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দিতে হবে। শহর ও শহরতলির ক্ষেত্রে মানদণ্ড কিছুটা শিথিল করে ৩০০ ভোটারের সীমা নির্ধারণ করা হয়। সেই অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 February 2026 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) আবহে বহুতল আবাসনে ভোটকেন্দ্র (High Rise Building Poll Booths) তৈরির প্রশ্নে অবস্থান বদলাচ্ছে না নির্বাচন কমিশন (ECI)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কড়া আপত্তি সত্ত্বেও কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ হলে আবাসনের ভিতরেই বুথ গড়া হবে। সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, এমন বুথের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৭৮।
আগে এই ধরনের ২১টি বুথ ছিল। নতুন সমীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে আরও ৫৭টি বহুতলে ভোটকেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শর্ত ছিল - যেখানে ৩০০-র বেশি ভোটার রয়েছেন, সেখানেই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পাঠানো রিপোর্টে দেখা যায়, একাধিক আবাসনে এই সংখ্যা অতিক্রম করেছে।
সবচেয়ে বেশি এমন বুথ হচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় - ২৫টি। উত্তর ২৪ পরগনায় ১৬টি। উত্তর কলকাতায় ৫টি এবং দক্ষিণ কলকাতায় ১টি। হাওড়ায় ৪টি, হুগলিতে ৩টি ও পূর্ব বর্ধমানে ১টি বহুতল এই তালিকায় রয়েছে। ফলে আগের ২১টির সঙ্গে নতুন ৫৭ যোগ হয়ে মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ৭৮-এ।
এর আগে কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল, যেখানে ২৫০টির বেশি বাড়ি রয়েছে অথবা আবাসন, বহুতল কিংবা বস্তি এলাকায় ৫০০-র বেশি ভোটার আছেন, সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দিতে হবে। শহর ও শহরতলির ক্ষেত্রে মানদণ্ড কিছুটা শিথিল করে ৩০০ ভোটারের সীমা নির্ধারণ করা হয়। সেই অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কমিশন সূত্রে খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ৮০ হাজার ৬৮১টি বুথ বেড়ে ৯৪ হাজার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আপাতত যে ছবি দেখা দিচ্ছে তাতে আর ১০০ বা ২০০টি বুথ বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে মোট বুথের সংখ্যা ৮১ হাজারের কাছাকাছি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি আবাসন চত্বরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবের বিরোধিতায় সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন, ভোটকেন্দ্র সাধারণত সরকারি বা আধা-সরকারি ভবনে হওয়াই বিধি। এতে সকলের সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়। বেসরকারি প্রাঙ্গণে বুথ হলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং ‘সুবিধাভোগী’ ও ‘অসুবিধাভোগী’ - এই বিভাজন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কমিশন অবশ্য তাদের যুক্তিতে অনড়। তাদের মতে, ভোটারদের সুবিধা ও ভোটদানের হার বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ হলে আবাসনের ভিতরেও ভোটকেন্দ্র করা যায় - এই অবস্থানেই অটল রয়েছে তারা।
ফলে প্রশাসনিক মহলে এখন প্রশ্ন, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েন আরও বাড়বে কিনা। আপাতত কমিশনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকেই নজর।