দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। শেষমেশ চালু হতে চলেছে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো। সব ঠিক থাকলে আজ থেকেই চলবে ট্রেন। আজ, বৃহস্পতিবার ইস্ট-ওয়েস্টের এই রুটের উদ্বোধন উপলক্ষে শহরে আসছেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। সেক্টর ফাইভ স্টেশনে এই মেট্রো পরিষেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
মেট্রো রেল সূত্রের খবর, প্রথম পর্যায়ে ইস্ট-ওয়েস্ট চলবে সেক্টর ফাইভ স্টেশন থেকে সল্টলেক স্টেডিয়াম স্টেশন পর্যন্ত। ৫.৮ কিলোমিটার এই পথে ট্রেনটি অতিক্রম করবে ৬টি স্টেশন। সেগুলি হল, সেক্টর ফাইভ করুণাময়ী, সেন্ট্রাল পার্ক, সিটি সেন্টার, বেঙ্গল কেমিক্যাল এবং সল্টলেক স্টেডিয়াম। প্রতিটা স্টেশনকে এক একটা থিমে সাজানো হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্বোধনের দিন এই গোটা পথটাই অতিক্রম করবে ট্রেন। একটি ট্রেনই চালানো হবে। সময় লাগবে ১৪ মিনিট। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সবকিছু ভাল করে খুঁটিয়ে দেখে নিয়েছেন মেট্রো কর্তারা।
শুরুর দিনে কোনও অসুবিধা নতুন করে ধরা না পড়লে, কাল অর্থাৎ শুক্রবার থেকেই যাত্রীদের নিয়ে পুরোদমে ট্রেন চলবে এই রুটে। গোটা পরিকল্পনাটি মেট্রোকর্তারা যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। শেষ ক’দিন ধরে প্রতিটা স্টেশন ধুয়ে-মুছে ঝকঝকে করে তোলা হয়েছে।
শুরুর পরে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ট্রেন চলবে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক ভাবে ২০ মিনিট অন্তর ট্রেন চালানো হবে। পরে যাত্রীসংখ্যা বাড়লে ট্রেনের সময়সূচিরও পরিবর্তন হবে। কলকাতা মেট্রোর মতোই ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোতেও স্মার্ট কার্ড ও টোকেনের ব্যবস্থা থাকছে। তবে তা দেখতে আলাদা। মেট্রো রেল সূত্রের খবর, আপাতত থাকছে ৫ ও ১০ টাকার টিকিট।
আধুনিকতম ব্যবস্থায় সজ্জিত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ট্রেন চালানোর জন্য চালকদের বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মেট্রোয় আত্মহত্যা রোখার জন্য প্ল্যাটফর্মে বিশেষ স্ক্রিন ডোরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রথম রাজ্যে কোনও মেট্রো স্টেশনে স্ক্রিন ডোর চালু হচ্ছে। ট্রেন থামার পরে মেট্রোর দরজা ও স্ক্রিন ডোর সমন্বয় করে খুলবে। এছাড়াও প্ল্যাটফর্মে রাখা থাকবে ফোন। কোনও যাত্রী সমস্যা দেখলেই ওই ফোন থেকে মেট্রোর কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করতে পারবেন।
এই গোটা আয়োজনে কোথাও কোনও রকম ত্রুটি যাতে না থাকে, তা এতদিন ধরে ক্রমাগত ট্রায়াল রান করে নিশ্চিত করা হয়েছে। তার পরেই আজ উদ্বোধন ও চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেট্রো সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার উদ্বোধনের জন্য যে ট্রেনটি ব্যবহার করা হবে, সেই ট্রেনের সঙ্গে আরও কয়েকটি ট্রেন মজুত রাখা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যাতে সকলে ভাল ভাবে দেখতে পান, সে জন্য বড় এলইডি পর্দারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে খোলা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুমও। আরপিএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা থাকবেন সেখানে। থাকবেন বম্ব ডিসপোজাল কর্মীরা এবং প্রশিক্ষিত কুকুরেরা।
আজ বিকেলে এই উদ্বোধনের অনুষ্ঠান ভালয়-ভালয় মিটলে শুক্রবার থেকেই নতুন রুটে মেট্রো পরিষেবা পাবেন সাধারণ মানুষ। আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে শহরবাসী।
অন্যদিকে, উদ্বোধন নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয়েছে। কারণ মেট্রোর তরফে এই উদ্বোধনের যে নিমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে তাতে লেখা রয়েছে, প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। সম্মানীয় অতিথি হিসােবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তাছাড়া ‘গৌরবময় উপস্থিতি’ থাকবে রাজ্যের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মন্ত্রী সুজিত বসু, সাংসদ কাকলী ঘোষদস্তিদার ও বিধাননগর পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর।
একে তো আমন্ত্রণপত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম নেই। তার উপর বুধবার রাতে জানা গিয়েছে, সুজিত বসু, কাকলি ঘোষদস্তিদার বা কৃষ্ণা চক্রবর্তী কেউই ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না। কাকলি ঘোষদস্তিদার যেমন জানিয়েছেন, তিনি আমন্ত্রণপত্র পাননি। তা ছাড়া পেলেও যেতে পারতেন না, কারণ তিনি দিল্লিতে রয়েছেন। সাংবাদ মাধ্যমকে সুজিত বসুও তাঁর অপারগতার কথা জানিয়েছেন।
প্রশ্ন হল, কলকাতায় এতো বড় একটি প্রকল্পের উদ্বোধন হবে, রেলমন্ত্রী তা উদ্বোধন করবেন, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে কি আমন্ত্রণ করা হয়নি। কারণ, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোড়া থেকেই প্রবল আগ্রহ ও উৎসাহ ছিল।
এ ব্যাপারে এ দিন রেল বা মেট্রো রেলের তরফে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তাঁর মোবাইলই বন্ধ ছিল। তবে বিজেপি সূত্রের খবর, কাল এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিশদে ব্যাখ্যা দিতে পারেন বাবুল।
অন্যদিকে রেলমন্ত্রকের এক অফিসার বলেন, “এটুকু বুঝতে হবে যে রেলমন্ত্রক চাইলেই আমন্ত্রণ পত্রে মুখ্যমন্ত্রীর নাম রাখতে পারেন না। তাতে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের সম্মতি প্রয়োজন”। এর অতিরিক্ত অবশ্য তিনি কিছু বলতে চাননি।