
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 November 2024 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন মন্দারমণির অবৈধ ১৪০টি হোটেল ও রিসর্ট ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। আরও বেশ কিছু সংখ্যক হোটেলকেও এ ব্যাপারে নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। যার জেরে একসঙ্গে ভাঙা পড়বে একঝাঁক হোটেল।
জেলা প্রশাসনের এহেন হোটেল ভাঙার সিদ্ধান্তে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে হোটেল মালিকদের। রাজ্যে পর্যটনের মানচিত্রে মন্দারমণি বেশ পরিচিত জায়গা। অনেকেই সময় সুযোগ করে কম দিনের জন্য বেড়িয়ে পড়েন সময় কাটাতে।
পর্যটকদের ভিড় যতই বেড়েছে তত এলাকায় ইতিউতি গজিয়ে উঠেছে হোটেল-রিসর্ট। ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আর এখানেই গলদ। অভিযোগ উঠছে, সমুদ্রের পারে হোটেল বা রিসর্ট বানাতে গিয়ে অনেকেই নিয়মের পরোয়া না করে মন মতো বেআইনি নির্মাণ তৈরি করছেন।
অভিযোগ, এই কারণেই কুপ্রভাব পড়ছে পরিবেশে। যে জল গড়িয়েছে কেন্দ্রীয় পরিবেশ আদালত পর্যন্ত। সেখান থেকে নির্দেশ আসার পরপরই জেলা প্রশাসনের তরফে বেআইনি হোটেলগুলি ভেঙে ফেলতে উদ্যোগী হয়েছে।
নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২০ নভেম্বরের মধ্যে এই বেআইনি নির্মাণ সরিয়ে বা ভেঙে ফেলতে হবে। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে মন্দারমণির হোটেল মালিকরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন।
মন্দারমণির হোটেল মালিক সংগঠনের সভাপতি মীর মমরেজ আলি জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের কাছে আমাদের আবেদন এর ফলে কয়েক লক্ষ লোক রোজগার হারাবেন।
বিষয়টি যেন পুনর্বিবেচনা করে দেখা হয় সেই আর্জি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি জানিয়েছেন, 'নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ২০ নভেম্বর একটি দিনও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলব না।'
১১ নভেম্বর সিআরজেড (কোস্টাল রেগুলেটেড জ়োন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি)-র জেলা কমিটির তরফে মন্দারমণি এবং সংলগ্ন আরও চারটি মৌজায় ১৪০টি হোটেল, লজ, রিসর্ট এবং হোম স্টে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০ নভেম্বরে মধ্যে ওই সব বেআইনি নির্মাণ ভেঙে জায়গা পরিষ্কার করতে হবে, নির্দেশ দিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাঝি। প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০২২ সালে এই বেআইনি হোটেলগুলি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিল জাতীয় পরিবেশ আদালত।
কারণ, হোটেলগুলি উপকূল বিধি না মেনেই গড়ে উঠেছিল। এর মধ্যে শুধু দাদনপাত্রবাড়েই রয়েছে ৫০টি হোটেল, সোনামুইয়ে ৩৬টি, সিলামপুরে ২৭টি, মন্দারমণিতে ৩০টি হোটেল এবং দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুর মৌজায় একটি লজ রয়েছে। এ সব ক'টিই ভাঙার কথা।