
শেষ আপডেট: 16 August 2023 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার ডার্বি জয়ের পর বুধ সন্ধেয় ডুরান্ডের (Durand Cup) তৃতীয় ম্যাচে রাউন্ডগ্লাস পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে নামল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। বড়ম্যাচ জিতে লাল-হলুদের আত্মবিশ্বাস যে তুঙ্গে, তা মাঠে নামার পর খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষায় স্পষ্ট বোঝা গেল। এদিন প্রথম থেকেই ওপেন ফুটবল খেলেছে দুই দল। ডার্বিতে যেমন নিজেদের দুর্গ সামলে প্রতি আক্রমণে খেলেছেন খাবরা-ক্রেসপোরা, এদিন ঠিক তার উল্টো। ফলত খেলা শুরুর প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছে ইস্টবেঙ্গল ও পাঞ্জাব এফসি (Punjab FC), দু’দলকেই। কিন্তু খেলা শেষের বাঁশি বাজার পর শেষ হাসি হাসল লাল-হলুদই।
রাউন্ডগ্লাস পাঞ্জাব এফসির প্রথম একাদশে ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন ফুটবলার। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হুয়ান মেরা গঞ্জালেস যেন মাঝেমধ্যেই লাল-হলুদের ডিফেন্সে ত্রাস হয়ে দেখা দিল। এই স্পেনীয় মিডফিল্ডারের একের পর এক কর্ণার, ফ্রি-কিক বিষাক্ত তিরের মতো উড়ে এসে পড়ছিল ইস্টবেঙ্গলের গোলের সামনে। তবে কিপার ও রক্ষণের তৎপরতায় গোল হয়নি।

এরমধ্যেই ২১ মিনিটে কর্ণার থেকে নিজেদের একমাত্র গোলটি পেয়ে যায় লাল-হলুদ। হেড করে পাঞ্জাবের জালে বল জড়ান দলের নতুন বিদেশি হাভিয়ের সিভেরিও। এরপর ৩৯ মিনিটে আরও একবার গোলের সুযোগ চলে আসে সিভেরিওর কাছে। কিন্তু তাঁর হেড পাঞ্জাবের পোস্টে লেগে ফিরে যায়। তবে প্রথমার্ধে পাঞ্জাব বেশ কিছু সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধেও খেলার গতিপ্রকৃতি খুব একটা বদলায়নি। তবে পাঞ্জাব এফসির হুয়ান মেরা গঞ্জালেস বারবার ব্যস্ত রাখছিলেন ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সকে। ঘর সামলে পাল্টা আক্রমণ করছিলেন লাল-হলুদের খেলোয়াড়রাও। এরমধ্যেই ইস্টবেঙ্গল কোচ কুয়াদ্রাত পরপর বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করেন। যার মধ্যে সদ্য আসা দুই বিদেশি পার্দো লুকাস ও ক্লেটন সিলভাও ছিলেন। গতবছর ক্লেটন একাই প্রায় দলকে টেনেছিলেন আইএসএলে। এদিনের ম্যাচেও তিনি নামার পর লাল-হলুদের আক্রমণে গতি বেড়েছিল।
৭৩ মিনিটে ক্লেটনের নেওয়া ফ্রি-কিক বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৭৮ মিনিটে ফের গোলের সুযোগ পান তিনি। কিন্তু একা গোলকিপারকে পেয়েও মিস করেন এই ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকার। ঠিকভাবে বলে শট মারতে না পারায় তা সহজেই ধরে ফেলেন পাঞ্জাব এফসির কিপার। তবে ম্যাচের শেষে এদিন একেবারেই খেলতে পারছিলেন না গত ম্যাচের অন্যতম নায়ক হরমনজ্যোৎ সিং খাবরা। তাঁর একের পর এক মিস পাসে ক্রমশ চাপ বাড়ছিল রক্ষণে। তবে পাঞ্জাবের দলটির ফুটবলারদের ব্যর্থতায় গোল হয়নি। শেষ পর্যন্ত এক গোলে জিতেই মাঠ ছাড়েন লাল-হলুদের খেলোয়াড়রা।
ইস্টবেঙ্গলের জয়ের দৌড় ডার্বির পরেও, দুরন্ত গোলে বিষ্ণুই ম্যাচের নায়ক