
শেষ আপডেট: 25 August 2023 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিপক্ষ গোকুলাম কেরালা মোটেই সহজ ছিল না। এর আগেও ডুরান্ড কাপে (Durand Cup) এদের কাছে হেরেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে (East Bengal)। তাই সতর্ক ছিলেন কোচ কার্লোস কুয়াদ্রাত। খেলা শুরুর ৪৪ সেকেন্ডেই প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে দিয়েছিলেন লাল-হলুদের অজি ডিফেন্ডার জর্ডন এলসে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে সেই গোল শোধ করে দেন গোকুলামের খেলোয়াড় বোউবা। তবে সবাই যখন ভাবছিলেন খেলা টাই ব্রেকারে গড়াবে, তখনই যেন জ্বলে উঠল লাল হলুদ ব্রিগেড। ক্রেসপোর শট গোকুলামের প্লেয়ারের গায়ে লেগেই জড়িয়ে গেল জালে।
ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের শুরুতেই চমক দিল কার্লোস কুয়াদ্রাতের ইস্টবেঙ্গল। এদিন খেলা শুরু হতেই কর্ণার পায় ইস্টবেঙ্গল। মহেশের নেওয়া ছোট কর্ণার থেকে বল পেয়ে তা বক্সে তুলে দেন বোরহা হেরেরা। সেই বল হেড করে বক্সে ফেলেন সিভেরিও। সেখান থেকেই হেড করে গোকুলামের জালের বাঁদিক দিয়ে বল ঢুকিয়ে দেন জর্ডন। ম্যাচের সময় তখন মোটে ৪৪ সেকেন্ড। খেলার শুরুতেই যা বড় ধাক্কা দাঁড়ায় গোকুলামের কাছে।
প্রাথমিক বিপত্তি সামলে উঠে কেরালার দলটি যখন সবেমাত্র ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, সেসময় বক্সের বাইরে ফের সুযোগ পেয়ে যান ইস্টবেঙ্গলের তরুণ স্ট্রাইকার সিভেরিও। গোলার মতো শট মারেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপরও বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল কুয়াদ্রাতের দল। তবে কখনও সেটা নিজেদের ব্যর্থতায়, আবার কখনও প্রতিপক্ষ সজাগ থাকায় গোল হয়নি। শেষ অবধি জর্ডনের দ্রুততম গোলে এগিয়ে থেকেই ড্রেসিংরুমে ফেরে লাল-হলুদ।
তবে গোকুলাম যে একেবারেই ইস্টবেঙ্গলের সামনে দাঁড়াতে পারেনি, তেমন নয়। বরং প্রথমার্ধের মাঝামাঝি এবং দ্বিতীয়ার্ধের বেশিরভাগ সময়ই কেরালার দলটি ভাল খেলেছে। সেকেন্ড হাফে একের পর এক আক্রমণে ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্সে রীতিমতো ত্রাহি ত্রাহি রব পড়ে গিয়েছিল একটা সময়। আর সেই চাপের মুখেই ভেঙে যায় লাল-হলুদ রক্ষণের শক্ত প্রাচীর। ৫৭ মিনিটে হেডে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান আমিনৌ বোউবা। এরপরও গোকুলামের আক্রমণ থামেনি। কেন তাঁরা ইস্টবেঙ্গলের শক্ত প্রতিপক্ষ, তা নিজেদের খেলায় ভালমত বুঝিয়ে দিয়েছেন ফুটবলাররা।
একটা সময় সবাই যখন ভেবেছে ম্যাচ হয়ত ৯০ মিনিটের শেষে টাই ব্রেকারের দিকে গড়াবে, তখনই খেলায় নাটকীয় পট পরিবর্তন। নিশু কুমারের দুরন্ত শট হেডে ফ্লিক করে দেন লাল-হলুদের মাঝমাঠের স্তম্ভ সল ক্রেসপো। আর সেই বলই গোকুলামের বোউবার গায়ে লেগেই জড়িয়ে যায় জালে। যেই বোউবা গোল শোধ করে খেলায় ফিরিয়ে এনেছিল দলকে, তাঁর ভুলেই বৃষ্টিস্নাত যুবভারতীতে ডুবে গেল কেরালার দলটি।