নতুন পৃথিবীর খোঁজ পেল নাসা, নীল রঙের গ্রহ নিয়ে জল্পনা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই ব্রহ্মাণ্ডে যে আমরা একা নই সেটা ফের প্রমাণ করল নাসা।
অবিকল পৃথিবীর মতো। সেই নীলাভ রঙ, একই রকম আকার। পৃথিবীর মতো আরও একটি গ্রহের সন্ধান মিলেছে বলেই দাবি করলেন নাসার মহাকাশবিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে ১০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে এই
শেষ আপডেট: 6 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই ব্রহ্মাণ্ডে যে আমরা একা নই সেটা ফের প্রমাণ করল নাসা।
অবিকল পৃথিবীর মতো। সেই নীলাভ রঙ, একই রকম আকার। পৃথিবীর মতো আরও একটি গ্রহের সন্ধান মিলেছে বলেই দাবি করলেন নাসার মহাকাশবিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে ১০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে এই গ্রহটি দিব্যি একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে পাক খেয়ে চলেছে। নাসার ‘ট্রানসিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট’ বা টেস (TESS)-এর লেন্সে ধরা দিয়েছে পৃথিবীর মতো দেখতে এই গ্রহ।
এই সৌরজগতের বাইরে কোনও গ্রহ ‘হ্যাবিটেবল জোন’-এ (যেখানে পৃথিবীর মতো প্রাণের সম্ভাবনা থাকতে পারে) আছে কি না, তা নিয়ে বহু বছর ধরে কাজ করছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। আর সে গবেষণার মাধ্যমেই বেরিয়ে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। পৃথিবীর এই যমজের নাম দেওয়া হয়েছে ‘টিওআই ৭০০ ডি (TOI 700 d)।’ নাসার জেট প্রপালসন ল্যাবোরেটরি এই নতুন গ্রহের খোঁজ সামনে এনেছে। নাসার অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ডিভিশনের ডিরেক্টর পল হার্ৎজ বলেছেন, পৃথিবীর মতো দেখতে এই গ্রহ রয়েছে ‘হ্যাবিটেবল জোন’-এ । পাক খাচ্ছে আমাদের সূর্যেরই মতো একটি নক্ষত্রকে ঘিরে। টেসের পরে স্পিৎজার স্পেস টেলিস্কোপেও ধরা পড়ে পৃথিবীর মতো দেখতে এই গ্রহ।
[caption id="attachment_175078" align="aligncenter" width="600"]
নাসার টেস স্যাটেলাইট[/caption]
টিওআই ৭০০ বি গ্রহের সঙ্গেই আরও দু’টি গ্রহ টিওআই ৭০০ সি ও টিওআই ৭০০ ডি রয়েছে ‘হ্যাবিটেবল জোন’। এদের নক্ষত্রের আকার সূর্যের চেয়ে ৪০ শতাংশ ছোট। পৃথিবীর মতো দেখতে যাকে সে তার কক্ষপথে সম্পূর্ণ পাক খেযে আসে ৩৭ দিনে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে এই গ্রহের তাপমাত্রা আমাদের পৃথিবীর থেকে বেশি হলেও হতে পারে। টিওআই ৭০০ সি এবং টিওআই ৭০০ ডি অবশ্য একটু আলাদা। টিওআই ৭০০ সি গ্রহের আকার পৃথিবীর চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। এদের স্বভাব-বৈশিষ্ট্য নিয়ে অবশ্য জোরদার গবেষণা চালাচ্ছে নাসা।
এক্সো-প্ল্যানেটের (সৌরজগতের বাইরের গ্রহ) খোঁজে গত ২০ বছর ধরে কাজ করে চলেছেন বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা। হাজার খানেক এমন গ্রহের সন্ধানও মিলেছিল। তবে ২০০৯-এ কেপলার অভিযান শুরু হলে মাত্র চার বছরেই আরও সাড়ে তিন হাজার তেমন গ্রহের হদিশ দিয়েছিল কেপলার। টেসের এটা প্রথম খোঁজ। এর আগে কেপলার-৪৫২বি গ্রহের খোঁজ মিলেছিল যার সঙ্গেও পৃথিবীর হুবহু মিল। যে নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে এই গ্রহ ঘুরপাক খায়, তার সঙ্গে দূরত্ব, পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের মতোই। তবে ব্যাসার্ধের হিসেবে কেপলার-৪৫২বি গ্রহের কক্ষপথ পৃথিবীর চেয়ে ৬০ শতাংশ বড়। নক্ষত্রের শ্রেণি হিসেবে কেপলারের ‘সূর্য’ ও পৃথিবীর সূর্য একই গোত্রের।
গত কয়েক দশক ধরেই পৃথিবীর মতো গ্রহের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে নাসা। এখনও পর্যন্ত পাঁচশোরও বেশি গ্রহ, বামন গ্রহ ও উপগ্রহের সন্ধান মিলেছে যাদের সঙ্গে পৃথিবীর নানা বিষয়ে মিল পাওয়া যায়। এই গ্রহগুলির মধ্যে কেপলার-৪৫২বি-ই আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলোর মতো। এই গ্রহে আবার জল থাকারও প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।