
শেষ আপডেট: 24 February 2024 16:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘুরপথে গিয়েও সন্দেশখালিতে বাধা পেলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। শনিবার পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে সন্দেশখালি পৌঁছন ডিওয়াইএফআই নেত্রী। টোটো করে গ্রামে গ্রামে ঘুরতে শুরু করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সভাপতি সহ অন্যান্যরা। সন্দেশখালিকাণ্ডে ধৃত সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক নিরাপদ সর্দারের বাড়িতেও যান মিনাক্ষীরা। কথা বলেন তাঁর পরিবারের সঙ্গে। সেখান থেকে বেরোনোর খানিকক্ষণের মধ্যেই তাঁদের আটকায় পুলিশ।
এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে, এই প্রেক্ষিতে তাঁদের চলে যেতে বলা হয়। পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন বাম যুবনেত্রী। শুরু হয় দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি। এদিকে এদিন দুপুরেই সন্দেশখালি পৌঁছন মন্ত্রী সুজিত বসু ও পার্থ ভৌমিক। তাঁরাও এলাকা ঘুরে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। আর শাসক দলকে বাধা না দিলেও তাঁদের অযথা কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে, এই প্রশ্ন তোলেন বাম যুবনেত্রী।
শনিবার পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে সন্দেশখালিতে ঢুকলেও পরে মীনাক্ষীর পথ আটকে দাঁড়ায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। এলাকার মানুষদের সঙ্গে কথা বলা যাবে না বলেও জানায় পুলিশ। এরপরই পুলিশের সঙ্গে বাম নেত্রীর উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়।
এদিন মীনাক্ষীর পথ আটকে দাঁড়ায় এক মহিলা পুলিশ আধিকারিক। তাঁর সঙ্গে মীনাক্ষী বচসায় জড়িয়ে পড়েন। ওই পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আপনি বেআইনি কাজ করছেন। আমার নামে কোনও অপরাধের মামলা আছে? কেন আমাকে যেতে দেবেন না?’’ মীনাক্ষী একা গ্রামে যেতে চেয়েছিলেন। তাঁকে যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
ডিওয়াইএফআই নেত্রী এদিন বারবার জানতে চান কেন তাঁরা এলাকায় পৌঁছতে পারবেন না? নিয়ম অনুযায়া, ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও দু-তিন জন প্রতিনিধি অন্তত সেখানে যেতে পারেন। কিন্তু এতেও রাজি হননি পুলিশ আধিকারিকরা। এরপর সন্দেশখালি ফেরিঘাটে সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জীকে আটকে দেয় বসিরহাট থানার পুলিশ। সেখানেই ধর্নায় বসে পড়েন মীনাক্ষী মুখার্জী। তাঁর দাবি, তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা যদি ঢুকতে পারেন তাহলে আমি কেন পারবো না। পুলিশের এই দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বাম যুবনেত্রী।
অন্যদিকে, এদিন অবাধে সন্দেশখালির বিভিন্ন গ্রামে যান রাজ্যের দুই মন্ত্রী সুজিত বসু এবং পার্থ ভৌমিক। সন্দেশখালিতে যেসব জায়গায় ঢালাই রাস্তা ভেঙে দিয়ে মাঠের জমিতে নোনা জল ঢোকানোর অভিযোগ উঠেছে সেই জায়গাগুলি পরিদর্শন করেন তাঁরা। সন্দেশখালির স্থানীয় নেতা সুজয় মণ্ডলের বাড়িতেও যান সুজিত, পার্থরা।
গ্রাম থেকে বেরিয়ে পার্থ ভৌমিক বলেন, “যাঁর যা অভিযোগ আছে সব শোনা হবে। রাম-শ্যাম-যদু-মধু যেই হোক, কেউ যদি জমি দখল করে সে জমি ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের।”
৫১ দিনেও কেন অধরা শেখ শাহজাহান, এই দাবিতে ফুঁসছে সন্দেশখালি। শনিবারও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সন্দেশখালির বিভিন্ন গ্রাম। মহিলারা ঝাঁটা হাতে রাস্তায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এদিন শাহজাহান প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা বলে সুজিত বলেন, ‘‘আমাদের দল কাউকে রেয়াত করে না। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। আমাদের কাছে ইতিমধ্যে আড়াইশো অভিযোগ জমা পড়েছে। দেড়শোর কাছাকাছি অভিযোগের তদন্ত হয়ে গিয়েছে। একশোটি অভিযোগের সমাধান আমরা করেছি। জমি ফেরত দিয়েছি।’’
সুজিত, পার্থর সঙ্গে শনিবার সন্দেশখালিতে যান স্থানীয় বিধায়ক সুকুমার মাহাতো। তাঁর দাবি, দলের প্রতি মানুষের কোনও ক্ষোভ নেই। কিছু প্রবাসী নেতার উপরে ক্ষোভ রয়েছে। উত্তম, শিবুদের কাছে গ্রামবাসীরা টাকা পায়। আমাদের দলের নেতারা চাঁদা তুলে সেই টাকা ফেরত দেব। অন্য দলগুলি সন্দেশখালিতে অশান্তি করছে।