
শেষ আপডেট: 7 January 2024 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ক্ষমতায় না থাকার ১২ বছর পার হয়ে গেছে। গদি হারানোর ১ দশকের মধ্যেই বিধানসভায় আসনের নিরিখে বাংলা থেকে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছে সিপিএম। ১৬ বছর পর দলের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-এর ডাকে ব্রিগেডে ইনসাফ সমাবেশ রয়েছে আজ রবিবার। কার্যত 'শূন্য' হয়ে যাওয়া সেই দলের ব্রিগেডে ভিড় দেখে অনেকেরই চোখ ছানাবড়া। উত্তরবঙ্গ তো বটেই, দক্ষিণবঙ্গ এবং রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা 'লাল ঝান্ডা'র ভিড়ে সমাবেশ শুরুর বহু আগেই কার্যত জনজোয়ার ব্রিগেডের পথে।
এদিন কাকভোরে ঘুম থেকে উঠে নদীপথে নৌকা করে সুন্দরবন থেকে ব্রিগেড সমাবেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বাম নেতা কর্মী সমর্থকরা। উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর, হিঙ্গলগঞ্জ, বাদুড়িয়া ব্লকের একাধিক একাধিক সিপিএম নেতা-কর্মী সাতসকালে লাল পতাকা হাতে বেরিয়ে পড়েছেন। ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্য, সেসব উপেক্ষা করে রায়মঙ্গল নদী পেরিয়ে বাসে উঠে ব্রিগেডের পথে রওনা হয়েছেন কাস্তে-হাতুড়ি সমর্থকরা।
পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর থেকেও ব্রিগেডের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বাস। জানুয়ারির ঠান্ডা গায়ে না মেখে আট থেকে আশি দেখতে যাচ্ছেন মিনাক্ষীদের। সেই নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। এদিন শহরের সাতটি জায়গা থেকে মিছিল যাচ্ছে ব্রিগেড অভিমুখে। জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ ট্রেনে করে এসে নেমেছেন হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশনে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে গড়ের মাঠে যাচ্ছে দুটি মিছিল।
এছাড়া পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট, খিদিরপুর, হাজরা, চাঁদনি চক এবং সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে সমাবেশের অভিমুখে রওনা হয়েছে আরও ৫টি মিছিল। শয়ে শয়ে মানুষ আসছেন শ্যামবাজারের দিক থেকেও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন থেকেও কর্মী সমর্থকরা বাস-ট্রেন বোঝাই করে এসে নামছেন কলকাতায়। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা হারিয়েছে যে সিপিএম, যৌবনের ডাকে ব্রিগেড সমাবেশে যাওয়ার জন্য সেই দলেরই কর্মী সমর্থকদের ভিড়ে ছুটির দিন সকালে কার্যত অবরুদ্ধ শহরের একটা বড় অংশ।
২০০৮ সালের পর এবার দ্বিতীয়বার যুব সংগঠনের ডাকে ভরতে চলেছে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। তার জন্য লোকজন আসতে শুরু করেছিলেন শনিবার থেকেই। গড়ের মাঠেইত্রিপল পেতে রাত কাটিয়েছেন অনেকে। এর আগে সিপিএম ব্রিগেডে একাধিকবার সভা করেছে। তাতে মাঠ ভরলেও ভোটে খুব একটা প্রভাব দেখা যায়নি। যুব সংগঠনের ডাকে আয়োজিত রবিবারের সভার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তিনি দলের অঘোষিত 'ক্যাপ্টেন'। অনেকেই ব্রিগেড ভরাতে আসছেন শুধু তাঁর বক্তৃতা শুনবেন বলেই।
এর আগে যুব সমাবেশের ডাকা ৫০ দিনের ইনসাফ যাত্রা শেষ হয়েছিল গত ২২ ডিসেম্বর। সেই যাত্রায় অভূতপূর্ব সাড়া মেলায় উচ্ছ্বসিত বাম নেতৃত্ব। রবিবার ব্রিগেড সমাবেশেও তার অন্যথা হবে না বলেই আশাবাদী তাঁরা। লোকসভা ভোটের শেষলগ্নে ডিওয়াইএফআই-এর এই ব্রিগেড সমাবেশ সিপিএমকে অনেকটাই অক্সিজেন যোগাবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।