.webp)
শেষ আপডেট: 7 January 2024 16:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পায়ের তলায় জমি পেতে তখন মরিয়া সিপিএম। তাই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একা লড়ার বদলে বাংলার সিপিএম জোট করেছিল কংগ্রেস আর সদ্য তৈরি হওয়া দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট-এর সঙ্গে। সংযুক্ত মোর্চা নাম নিয়ে সেবারের ভোটে লড়েছিল বাংলার এই ৩ বিরোধী দল। বাম নেতৃত্বের আশা ছিল, আইএসএফ কংগ্রেসের হাত ধরে তলিয়ে যাওয়া থেকে রেহাই মিলবে, ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠে আসা যাবে রাজ্য রাজনীতিতে। কার্যক্ষেত্রে হয় উল্টো। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় কার্যত শূন্য হয়ে যায় বামেরা। আর একদা বাংলার দুই শাসক দলের হাত ধরে পায়ের তলার জমি শক্ত করে নেয় আইএসএফ। কিন্তু মোর্চার একমাত্র বিধায়ক তথা প্রাক্তন জোটসঙ্গী আইএসএফ নেতা নওসাদ সিদ্দিকি ডাকই পাননি রবিবারের ব্রিগেডে!
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বামেদের সঙ্গে আইএসএফের জোট নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। সেবার সিপিএম-এর ব্রিগেডের মঞ্চে অনেকখানি জুড়ে ছিলেন আইএসএফ নেতা তথা ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী। এমনকী, আব্বাসকে বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আর এক জোটসঙ্গী কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীকেও বলার সুযোগ না দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছিল। যদিও ভোটে আব্বাস নয়, ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মোর্চার হয়ে একমাত্র জিতেছিলেন তাঁর ভাই নওসাদ সিদ্দিকী। সেই নওসাদকে রবিবার ব্রিগেডের মাঠে সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের ডাকা ইনসাফ সমাবেশে আমন্ত্রণে না জানানোর অভিযোগ উঠেছে।
সে কথা স্বীকার করে নিয়েছেন নওশাদ নিজেই। তিনি জানিয়েছেন, যতটুকু জেনেছেন, মিডিয়ার সূত্রেই। তবে এতে তিনি আহত বা ক্ষুন্ন, তেমনটা নয়। বরং ব্রিগেড কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে ভাঙড়ের বিধায়ক জানিয়েছেন, "ফিজিক্যালি না থাকলেও মেন্টালি আছি (পড়ুন ব্রিগেডে)। ওরা বাংলায় মানুষকে একটা নতুন দিশা দেখাচ্ছে।" আমন্ত্রণ না জানানো প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, এটা তো সংযুক্ত মোর্চার ব্রিগেড নয়, এটা ডিওয়াইএফআই-এর কর্মসূচি। তাই আলাদা করে আমন্ত্রণ জানানোর ব্যাপার নেই।
এদিন ডিওয়াইএফআই-এর ব্রিগেড কর্মসূচি নিয়ে কুণাল ঘোষের কটাক্ষ করার প্রসঙ্গ উঠলে নওসাদের দাবি, তাঁর ধারণা সিপিএম নেতৃত্ব কুণালবাবুর কথায় তেমন গুরুত্ব দেবে। কারণ ওঁর কথা এবং কাজের কোনও সামঞ্জস্য নেই। সেই সঙ্গে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের বিধায়কের আরও দাবি, শুধুমাত্র অপসংস্কৃতি প্রচারের জন্যই কুণালকে রেখেছে তৃণমূল। নওসাদের বক্তব্যে এটুকু স্পষ্ট, জোট ভাঙ্গার পর বামেরা তাঁকে মনে না রাখলেও একদা জোটসঙ্গীদের প্রতি তাঁর মনে কোনও অসূয়া তো নেইই, বরং তিনি মানসিকভাবে বামেদের লড়াইয়ের পাশেই আছেন।