
শেষ আপডেট: 3 October 2023 19:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা বৃষ্টির জেরে সোমবারের পর মঙ্গলবার ফের মাইথন এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে জল ছাড়ল ডিভিসি । দুটি জলাধার মিলিয়ে মোট ৯০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। আর তাতেই নবান্নের প্রশাসনিক আধিকারিকদের মাথায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছে রাজ্য প্রশাসন। তাই আগেভাগেই মানুষজনকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে।
ডিভিসি সূত্র খবর, একদিকে যেমন দামোদর উপত্যকা এলাকায় গত দু'দিন ধরে বেশি বৃষ্টি হওয়ায় সেই জল মাইথন জলাধারে এসে জমা হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট থেকে জল ছাড়ায়, সেই জল পাঞ্চেত জলাধারে এসে জমা হয়েছে। মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধারের জল বিপদসীমার উপরে চলে আসার কারণেই জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার ১ লাখ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছিল। মঙ্গলবার ১০ হাজার কিউসেক কম জল ছাড়া হয়েছে।
দ্য ওয়াল এখন হোয়াটসঅ্যাপেও। ফলো করতে ক্লিক করুন।
পরপর এভাবে জল ছাড়ায় প্রমাদ গুনছে নবান্ন। জানা গেছে, মোট ১২৫৯ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে বাঁকুড়ার দামোদর নদীর তীরে সোনামুখী ব্লক থেকেই ৯৭০ জনকে সরানো হচ্ছে। পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া মিলিয়ে মোট ৩৫টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। ১৪, ৪৬৭টি ত্রিপল বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার কোচবিহার, দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, পুরুলিয়া, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে জল জমার খবর মিলেছে। শুধু তাই নয়, বাজ পড়ে পূর্ব মেদিনীপুরের একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম বাসুদেব সান্ত্রা, বয়স ৬০ বছর।
বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে ডিভিসি-র জল ছাড়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতিবছরই এই ঘটনার সাক্ষী থাকেন রাজ্যবাসী। এই কারণেই বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। এই নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে ডিভিসির মধ্যে মতানৈক্য দেখা যায়। এই বছরও জল ছাড়া শুরু করল ডিভিসি। বৃষ্টি এভাবে চলতে থাকলে আগামীদিনে আরও জল ছাড়তে পারে ডিভিসি। ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছেই।