
শেষ আপডেট: 11 December 2023 20:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: স্কুল থেকে পরীক্ষা দিয়ে হস্টেলে ফেরার পথে সাপের ছোবল খেয়েছিল এক ছাত্র। ছয় দিন ধরে চিকিৎসা চলার পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এর পরেই হস্টেলের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ উঠতে থাকে। সোমবার স্কুল খুলতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, হস্টেল আগাছায় ভরে গেছে। তাই সাপ-খোপের উৎপাত বেড়েছে। ছেলে-মেয়েদের সেখানে রাখা নিরাপদ নয়, বলেই মনে করছেন পড়ুয়াদের বাবা-মায়েরা।
দুর্গাপুর ফুলঝোড়া সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আদিবাসী বিদ্যালয়। স্কুল থেকে বাড়ি অনেক দূরে থাকায় জনজাতি এলাকার বহু ছেলে মেয়ে স্কুলে যেতেই পারত না। ফলে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হত তারা। ২০০৫ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বিরোধী নেত্রী। সেই সময় তিনি রাজ্য জুড়ে আদিবাসী পড়ুয়াদের জন্য আন্দোলন শুরু করেন। এরপরেই অবিভক্ত বর্ধমানের দুর্গাপুর ও আসানসোলে দুটি আবাসিক স্কুল জনজাতির পড়ুয়াদের জন্য গড়ে তোলা হয়। সেগুলির মধ্যে একটি হল এই পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আদিবাসী বিদ্যালয়। দূর থেকে আসা পড়ুয়াদের জন্য হস্টেলও গড়ে ওঠে।
বর্তমানে সেই আবাসিক স্কুলের কঙ্কালসার দশা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান ছাড়াও অন্যান্য পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও পড়ুয়ারা এই স্কুলে নিখরচায় পড়াশোনা করতে আসে। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিনে দিনে হস্টেল ও স্কুলের দশা বেহাল হয়ে পড়ছে।
আগাছায় মুখ ঢেকেছে স্কুল। জঙ্গলে বাসা বেঁধেছে বিষাক্ত সাপ, পোকামাকড়। ছাত্রীদের হস্টেলে নিরাপত্তারক্ষী নেই। খাওয়া দাওয়াও নিম্নমানের। দিনের পর দিন বাথরুম পরিষ্কার হয় না । পানীয় জলের ব্যবস্থা তেমন নেই। বেহাল অবস্থায় চলছে দুর্গাপুরের এই আবাসিক স্কুল।
জানা গিয়েছে, ২৮০জন পড়ুয়া রয়েছে এই হস্টেলে। গত ১ তারিখ পরীক্ষা দিয়ে হস্টেলে ফিরছিল এক ছাত্র। পথে তাকে বিষাক্ত সাপে কামড়ায়। ৬ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা চলার পরে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরে বাবা-মায়েদের অভিযোগ হস্টেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই প্রাণ কেড়েছে ওই সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের।
এদিন স্কুলে তালা মেরে অভিভাবকদের বিক্ষোভ চলে অনেকক্ষণ। গন্ডগোলের খবর শুনে পুলিশকে আসতে হয়। অভিভাবকদের বোঝানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। তবে প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষ বা পুলিশের কোনও কথা বাবা-মায়েরা শুনতে চাননি। পরে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ উঠে যায়। তবে অভিভাবকরা সময় বেঁধে দিয়েছেন। এই মাসের মধ্যে স্কুলের হাল না ফেরালে তাঁরা আন্দোলনে নামবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।