গ্রেফতার মানস রায়
শেষ আপডেট: 19 February 2025 08:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়সড় আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ। শেষমেশ গ্রেফতার করা হল দুর্গাপুর নগরনিগমের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর মানস রায়কে। জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের বাসিন্দা মহম্মদ আসিফ নামে এক ব্যক্তি প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে গাড়ি কিনে টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হল মানস ও তাঁর ছেলে অভ্রনীল রায়কেও।
অভিযোগ, দুর্গাপুরের মেইন গেট এলাকার বাসিন্দা আসিফের থেকে একটি পুরনো চার চাকা গাড়ি কেনেন মানস। গাড়ির দাম বাবদ আট লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকার চেকও দেন। কিন্তু সমস্যার সূত্রপাত ঠিক তার পরদিন থেকেই। অভিযোগ, ব্যাঙ্কে চেক জমা করলে তা বাউন্স হয়ে যায়। এরপর বিষয়টি প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরকে জানালে তিনি ফের একটি চেক দেন। অভিযোগ সেটিও বাতিল হয়ে যায়। এরপর টানা ৬ বার চেক বাতিল হতেই দুর্গাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন আসিফ।
এরপর ঘটনার তদন্তে নেমে দুর্গাপুর থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই অভিযুক্ত মানস রায় ও তার ছেলে অভ্রনীলকে গ্রেফতার করে। পরে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর দু'জনকেই গ্রেফতার করা হয়। শুধু গাড়ি কিনে টাকা মেটানোই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল-সহ একাধিক জিনিস কিনে টাকা না মেটানোর অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্গাপুরের গোপালমাঠের বাসিন্দা মানস রায়। ২০১৭ সালে দুর্গাপুর নগরনিগমে শেষবার নির্বাচন হয়েছিল। সেই নির্বাচনে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। মানস রায়ের বিরুদ্ধে এর আগেও জিনিস কিনে সময়মতো টাকা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী জানিয়েছেন, অনলাইনে নিজের গাড়িটি বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। তা দেখেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন প্রাক্তন কাউন্সিলর। ৮ লক্ষ ৪০ হাজার টাকায় গাড়িটি বিক্রিও হয়ে যায়। এরপর চেকও দেন কাউন্সিলর। আর সেই চেক ভাঙাতে গিয়েই মাথায় হাত পড়ে আসিফের। বুধবারই বাবা ও ছেলেকে আদালতে তলা হবে বলে খবর।
আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্তা বলেন, এই মামলার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগাযোগ নেই। এটি একটি আর্থিক প্রতারণার মামলা। ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।