
শেষ আপডেট: 23 September 2022 11:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঢাকে কাঠি পড়ার অপেক্ষায় বাঙালি। দু’বছর কার্যত গৃহবন্দি যাপনের পর এবার খানিকটা স্বস্তি। কলকাতার বড় পুজোগুলির উদ্বোধন শুরু হয়ে গেছে। পুজোয় চারটে দিন (Durga puja 2022) উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম মিলিয়ে কবে, কোথায়, কোন ঠাকুর দেখবেন, সুলুক সন্ধান দেব আমরা। এই প্রতিবেদনে রইল সল্টলেক এলাকার সেরা ১৭টি পুজোর সাত–সতেরো।
১. শ্রীভূমি
বছর: ৫০ তম
বাজেট: অপ্রকাশিত
সজ্জা: গতবছর বুর্জ খলিফা মণ্ডপের জন্য ভিআইপি রোড স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। এবছর শ্রীভূমি ক্লাবের থিম ভ্যাটিকান সিটি। মণ্ডপ ৯২ ফুট উঁচু এবং ৫৪ ফুট চওড়া। রয়েছে ৩৫টি অয়েল পেন্টিং। মার্বেলের মূর্তিগুলির প্রতিরূপ তৈরি করা হয়েছে ফাইবার গ্লাস দিয়ে। অন্দরসজ্জা (Durga puja 2022) চোখ ধাঁধিয়ে দেবে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।

২. লেকটাউন অধিবাসীবৃন্দ
বছর: ৬০ তম
বাজেট: ৩৩ লক্ষ টাকা
থিম: সাদা রাবণ
সজ্জা: মণ্ডপটি একটি বড় গুহা। যার ভেতরে রয়েছে রাবণের আটটি সাদা মূর্তি। বিভিন্ন সেই মূর্তির একটিতে রাবণকে বীনা বাজাতে দেখা যাচ্ছে। কোনওটিতে একজন দক্ষ শাসক হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে রাবণকে। কোনও মূর্তিতে প্রজাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন রাবণ। কোনও মূর্তিতে বই লিখতে দেখা যাচ্ছে। একটি মূর্তিতে রাবণ শিবের উপাসনায় মগ্ন। মণ্ডপটি ৩৩ ফুট চওড়া, ১২০ ফুট গভীর। মণ্ডপের ভাবনা শ্রীলঙ্কার সিগিরিয়ার রাবণের গুহাচিত্র। সেগুলিই মুর্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিমা তৈরি করেছেন সুবল পাল। একটি পরিখা দিয়ে ঘেরা পদ্মের উপর বসে রয়েছেন দেবী দূর্গা। রাবণ ও দুর্গার ২০টি হাত রয়েছে। কার্তিক, গনেশরা দুর্গার হাতের তালুতে রয়েছে।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, রাবণ অনেক গুণের অধিকারী একজন রাজা ছিলেন। যা বেশিরভাগ মানুষ জানেন না। কিন্তু রাগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারায় তার পতন হয়েছিল। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে জীবনে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। সেটাই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে।

৩. প্রদীপ সংঘ, নতুন পল্লী
বছর: ৪২ তম
বাজেট: ১৮ লক্ষ টাকা
থিম: রুদ্র
সজ্জা: পাপের বোঝা ভারী হয়ে উঠছে, শিব অবসর নিয়েছেন। কল্পনাকে মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলেছন শিল্পী। নারকেলের দড়ি দিয়ে শিবের জটা তৈরি করা হয়েছে। দুপাশে ছড়িয়ে রয়েছে বাঘের চামড়া এবং ডমরু। প্লাস্টিকের বোতল কেটে ধুতুরো ফুল তৈরি করা হয়েছে।

৪. দম দম পার্ক যুবকবৃন্দ
বছর: ৫৬ তম
বাজেট: ১০ লক্ষ টাকা
থিম: আদি, অন্ত, অনন্ত
লুক: ত্রিদেব। ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শিবের বিশাল মুখ।

৫. ভারত চক্র
বছর: ২২ তম
বাজেট: ২২ লক্ষ টাকা
থিম: আত্মদর্শন
সজ্জা: প্যান্ডেলের প্রথম ধাপে একটি গোলাকার স্তম্ভে ওড়িশার বিভিন্ন ধরনের পাতার পুতুল (তালপাতার সেপাই) লাগানো হয়েছে। রয়েছে মাটির মূর্তি যা রাড় বাংলার জেলাগুলির হিন্দু ও মুসলিম থানগুলিতে দেওয়া হয়। পাশে মাটির প্যানেলে মুখবিহীন মানব মূর্তি। দেয়ালে কুলুঙ্গিতে রয়েছে মৃত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত জিনিস। বিশাল প্রতিমার পিছনে একটি বিশাল পর্দায় ফুটে উঠঠে একটি জ্বলন্ত শ্মশানের চুল্লি। সমস্ত অহংকারকে ছাই করে দিচ্ছে সেই চিতা।

৬. তরুণ সংঘ
বছর: ৩৭ তম
বাজেট: ৩৬ লক্ষ টাকা
থিম: চলমান
সজ্জা: পরিবহণে বাতিল হয়ে যাওয়া জিনিসগুলি সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে। ঢোকার সময় সিলিং থেকে একটি বিশাল কম্পাস ঝুলছে। দুটি কাঠের টিকিট বুকিং স্টল মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। দেবীর দুই পাশে শহুরে মেসের জানালা রয়েছে। রয়েছে একটি অটোরিকশা এবং একটি রিকশার সামনের অংশ।

৭. দমদম পার্ক সর্বজনীন
বছর: ৭১ তম
বাজেট: ১০ লক্ষ টাকা
থিম: শব্দ–সুরে সর্বজনীন
সজ্জা: শিল্পী ধীমান সুতার ধীমান সুতার জাগতিক আওয়াজ থেকে সঙ্গীত তৈরি করতে চেয়েছেন মণ্ডপে। বিভিন্ন জিনিসের আওয়াজ ব্যবহার করা হয়েছে।

৮. দমদম তরুণ দল
বছর: ৪৫ তম
বাজেট: ৫০ লক্ষ টাকা
থিম: আনন্দের শহর
সজ্জা: ব্রিটিশ আমল। ইউনিফর্ম পরা একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা। গণেশ পাইনের স্টুডিও। পুরোনো ফটোগ্রাফি। থিম নির্মাতা প্রদীপ দাস গোপেশ্বর পালের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। মেট্রো রেল নির্মাণে ব্যবহৃত একটি ক্রেন ব্যবহার করা হয়েছে, যা আধুনিক কলকাতার কথা বোঝাচ্ছে। এক কোণে একটি পুরনো ছাপাখানা তৈরি করা হয়েছে।

৯. বন্ধু মহল
বছর: ৪২ তম
থিম: ভাগের মা
সজ্জা: প্যান্ডেলটি পাপিয়া করের জীবন নিয়ে। গেদের বাসিন্দা পাপিয়া রানাঘাট স্টেশনের পাশে অন্নপূর্ণা হোটেলে ২০০ জনকে বিনামূল্যে খাওয়ান। এবং ধর্মতলার বাসস্টবে দুঃস্থ শিশুদের পড়ান। তাঁর মুর্তি থাকবে মণ্ডপে। হাতে একটি টিফিন ক্যারিয়ার। তিনিও দেবীর পটভূমিতে থাকবেন। একটি রেলের প্ল্যাটফর্ম এবং একটি ওভারব্রিজ তৈরি করা হয়েছে মণ্ডপে।

১০. উল্টোডাঙ্গা বিধান সংঘ
বছর: ৫৪ তম
বাজেট: ৩৫ লক্ষ টাকা
থিম: মোক্ষ
সজ্জা: দর্শনার্থীরা মইয়ের ওপর দিয়ে মণ্ডপে ঢুকবেন। প্রশান্ত পালের ওই মণ্ডপের দেওয়ালের প্রায় প্রতিটি ইঞ্চি জুড়ে মাটি, খড় এবং সিমেন্টের ভাস্কর্য রয়েছে।

১১. তেলেঙ্গাবাগান
বছর: ৫৭ তম
বাজেট: ২২ লক্ষ টাকা
থিম: তোর্মা
চেহারা: বার্লি এবং ইয়াকের মাখন দিয়ে তৈরি বৌদ্ধ নৈবেদ্যের নাম তোর্মা। ২২ ধরনের তোর্মা দেখা যাবে মণ্ডপে গেলে। মণ্ডপের উচ্চতা ৪০ ফুট। প্রতিমা তৈরি করেছেন প্রদীপ রুদ্রপাল।

১২. সংগ্রামী
বছর: ৬০ তম
বাজেট: ২০ লক্ষ টাকা
থিম: মুল্যবোধ
সজ্জা: অন্যদের ক্ষতি করে কী ভাবে এখন মানুষ নিজের কেরিয়ার গড়ে তোলে, তা মণ্ডপে একটি সিঁড়ির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ভেতরে বাঁশ দিয়ে মানুষের ক্ষয়ে যাওয়া মেরুদণ্ড তৈরি করা হয়েছে। রয়েছে একটি সোফা। যা পুঁজিবাদের প্রতীক। দেখানো হয়েছে সবচেয়ে বেশি শোষিত হয় শ্রমিক, রাজমিস্ত্রি ও কৃষকরা। প্যান্ডেল তিনটি প্রয়োজনীয় তিনটি বিভাগে বিভক্ত - খাদ্য, পোশাক এবং একটি ছাদের উপরে। একটি ভাঙা নৌকা মৎস্যজীবীদের একটি মাথার উপর ঝুলছে। দেয়ালে চাকায় ঘুরছে গামছা ও শাড়ি। রাজমিস্ত্রিদের ছাদের অভাব বোঝাতে একটি অংশে ওপরে ছাদ রাখা হয়নি।

১৩. কাঁকুড়গাছি যুবকবৃন্দ
বছর: ৯৩ তম
বাজেট: ৩০ লক্ষ টাকা
থিম: রূপ-অন্তর
সজ্জা: মণ্ডপ রুপান্তকামীদের যন্ত্রণা তুলে ধরেছে। যারা জন্মগতভাবে পুরুষ কিন্তু নারী হতে চায়। রঙিন ঘোমটা দিয়ে গেটের উপরে মুখের একটি সিরিজ ঝোলানো হয়েছে।

১৪. মিতালী
বছর: ৮৬ তম
বাজেট: ১৫ লক্ষ টাকা
থিম: দুর্গোৎসব
সজ্জা: কাঠামো পুজো থেকে দর্পণ বিসর্জন পর্যন্ত আচারের বিভিন্ন পর্যায়কে তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে। এককোণে একটি টেবিলে একটি রেডিও রাখা হয়েছে, যাতে মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠানের সম্প্রচার হচ্ছে।
শিল্পী জানিয়েছেন, আমরা বিভ্রান্ত। একদিকে আমরা গাছ কাটা বন্ধ করতে চাই। কিন্তু অন্যদিকে, আমরা প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে চাই এবং কাগজের ব্যাগে ফিরে আসছি কিন্তু তাতে আরও গাছ কাটা পড়বে।

১৫. বেলেঘাটা ৩৩ পল্লী
বছর: ২২ তম
বাজেট: ৫৫ লক্ষ টাকা
থিম: চুপকথা
সজ্জা: গতবছরের থিমের সিকোয়েল। করোনার পরে জীবনযাত্রার পরিবর্তনকে তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে। মানুষ জীবিকা বদলাতে বাধ্য হয়েছে। সেসবই উঠে এসেছে মণ্ডপে।

১৬. সন্ধানী
বছর: ৫৩ তম
বাজেট: ২৫ লক্ষ টাকা
থিম: সিঁদুর: ভালোবাসার রঙ, না নারীসত্ত্বার জ্যোতিচিহ্ন
সজ্জা: মহিলাদের মুখের রূপরেখা। ৯ ফুট সিঁদুরের পাত্রে দেবী থাকবেন। সিঁদুর একজন নারীর জন্য একটি মূল পরিচয় চিহ্ন, সেটা বিয়েতে হোক বা দশমীর সিঁদুর খেলায়। কিন্তু একবার স্বামী মারা গেলে এবং একজন মহিলার সিঁথি থেকে সিঁদুর মুছে ফেলা হলে তার জীবনে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়। সেই চিহ্নই ফুটে উঠবে মণ্ডপে।

১৭. নবমিলন
বছর: ৯৫ তম
বাজেট: ১২ লক্ষ টাকা
থিম: পুরাতনের পুরাতন
সজ্জা: শান্তিনিকেতনের শিল্পীদের একটি দল বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা মন্দিরের আদলে ইট দিয়ে মণ্ডপ তৈরি করেছেন।
