
শেষ আপডেট: 29 September 2022 13:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ির নামকরণ হয়ে গেছে, কিন্তু পুজোর আগে গৃহপ্রবেশ হল না! গতবছরের মতো এবারের পুজোও (Durga Puja 2022) ত্রিপলের ছাউনিতে গাদাগাদি করে কাটবে হাজার বস্তির ঘর পোড়াদের। নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে–হবে করে প্রায় দু’বছর কেটেছে। চরম কষ্টে দিন কাটছে ১০৬টি পরিবারের সাতশো বাসিন্দার। ইতিমধ্যেই বস্তিতে মাথা তুলেছে নতুন বাড়ি। যার নামকরণ করা হয়েছে ‘মমতা নিবাস’। কিন্তু সেই ঘরে কবে ঢুকতে পারবেন, জানেন না বাসিন্দারা।

২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি সন্ধেয় পুড়ে গিয়েছিল হাজার বস্তি (Hazar Basti)। তার পরে আশ্রয় মিলেছে বস্তি থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে বাগবাজারের নিবেদিতা উদ্যানের শিবিরে। হলঘরের মতো তিনটি বড় এবং দু’টি ছোট ছাউনিতে প্রায় দেড়শো শিশু-সহ বসবাস করছেন পরিবারগুলি। প্রথমে এক একটি ত্রিপলের নীচে গাদাগাদি করেই থাকছিলেন প্রায় ৩০-৪০টি পরিবার। এখন অনেকেই আলাদা করে ছাউনি তৈরি করেছেন। ছাউনির নীচে অনেকেই সিমেন্টের মেঝে বানিয়েছেন। উদ্যানটি হাজার বস্তির বাসিন্দাদের আশ্রয় শিবিরে পরিণত হয়েছে। মাঠ জুড়ে খেলছে ছোটরা।
কবে পাকা ছাদ? জানতে বহুবার তৃণমূল (TMC) কাউন্সিলর বাপি ঘোষের কাছে গিয়েছিলেন বাসিন্দারা। কিন্তু টাকা পয়সার অভাবের জন্য কাজ থমকে রয়েছে বলে জানানো হয়। তখনই তাঁরা বুঝে গিয়েছিলেন, খুব তাড়াতাড়ি ঘর মিলবে না। আর কার্যত হলও তাই।
বাসিন্দারা জানালেন, গত বিধানসভা ভোটের আগে বলা হয়েছিল সেবছর ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেও ঘর দেওয়া হবে। কিন্তু আজও ঘর পাননি। কলকাতা পুরসভা উদ্যোগ নিয়েছিল নতুন বাড়িতে বাসিন্দাদের চলতি বছর জুন বা জুলাই মাসেই ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তাও হয়নি। বার বার পিছিয়েছে ঘর পাওয়া। আজ দিচ্ছি, কাল দিচ্ছি বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বার বার।

নতুন ঘরের খরচের অর্থ বরাদ্দ করেছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। তবে কাজের গতি বারবার থমকেছে টাকার অভাবে। কবে কাজ সম্পূর্ণ হবে, এখনই কেউ স্পষ্ট বলতে পারছেন না। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বাপি ঘোষ বললেন, ‘কাজ শেষ। পুজোর আগেই বাসিন্দারের নতুন ঘর দেওয়া যেত, কিন্তু বাথরুম এখনও কমপ্লিট হয়নি। তাই চাইলেও পুজোয় নতুন ঘর দেওয়া গেল না। একাদশীর দিন নতুন বাড়ির চাবি দেওয়া হবে। থাকবেন মন্ত্রী শশী পাঁজা। মোট ১০৬টি পরিবারের জন্য দুটি করে ঘর বরাদ্দ। বাধরুম কমন।’
পুজোর মধ্যেও রাস্তার আন্দোলনে উত্তীর্ণরা, প্রতিশ্রুতি ভেসে যায় উৎসবের শহরে