
শেষ আপডেট: 1 September 2022 12:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ওদের বিশ্বাস নেই। ওরা সব পারে।’ কুমোরটুলির ১ নম্বর বনমালী সরকার স্ট্রিটে নিজের স্টুডিওয় বসে বলছিলেন চায়না পাল (Durga puja 2022)।
২০১৮ সালের পর চিন (China) থেকে আর তাঁর কাছে ঠাকুরের বায়না আসেনি। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, চিনারাই এখন দুর্গা প্রতিমা (Durga puja 2022) তৈরি করছে। চায়না জানালেন, চিনারা সব কিছুরই নকল করতে সিদ্ধহস্ত। চাইলে নকল চাঁদও তৈরি করে ফেলতে পারে বলেও শোনা যায়। তাই দুর্গাঠাকুরের মূর্তি তৈরি করা ওদের কাছে খুব একটা শক্ত হবে না।
চায়না আরও জানালেন, ওই বছর এপ্রিল মাসের এক দুপুরে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন এসেছিল। এক ব্যক্তি অনভ্যস্ত হিন্দিতে চায়নাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন খড়ের কাঠামো ছাড়া পুরো মাটির দুর্গা (Durga puja 2022)তৈরি করে দিতে হবে। যা চিনে যাবে। অর্ডার পেয়ে এক চালচিত্রের মধ্যে সপরিবার দুর্গা তৈরি করেছিলেন তিনি। পরে ওই মূর্তি নিয়ে সে দেশের কুনমিংয়ে (China) একটি প্রদর্শনীতে যাওয়ার ডাক পান। সেই মূর্তি চিনা সংগ্রহালয়ে জায়গা পায়।
পাঁচ দিনের প্রদর্শনীতে সেখানকার লোকজনকে মাটির মুখ ও আঙুল বানানো শিখিয়েছিলেন। এক ভাগ বেলে মাটির সঙ্গে দু’ভাগ এঁটেল মাটি মিশিয়ে বানাতে হয় দুর্গার মুখ। আবার এঁটেল মাটিতে পাট কুঁচো মিশিয়ে তৈরি করতে হয় আঙুল। এসব হাতে কলমে শিখিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তারপর আর চিন থেকে প্রতিমা তৈরির ডাক পাননি চায়না। চায়না পালের ধারণা, তাঁর দেখানো কৌশল আয়ত্ত করে ফেলেছে চিনারা (Durga puja 2022)। নিজেরাই তৈরি করছে দূর্গা।
তবে এবছর চায়না পালের তৈরি এক চালচিত্রের দুর্গা প্রতিমা যাচ্ছে শ্রীনগর ও ভোপাল। এছাড়াও কলকাতা বহু বনেদি বাড়ি ও বারোয়ারি দুর্গাপুজোর প্রতিমা (Durga puja 2022) তৈরি করছেন তিনি। তাঁর স্টুডিওর কর্মীদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। তার মধ্যেই চীনের (China) বিষয়ে কথা উঠলেই চায়না বলছেন, ‘চিনারা খুব দ্রুত কাজ শিখে নেয়। ওরা পারে না এমন কোনও কাজ নেই। ওরা নির্ঘাৎ শিখে নিয়ে নিজেরাই বানাচ্ছে।’
কুমোরপাড়ায় খোঁজ নিয়ে যানা গেল, করোনা আসার আগে কুমোরটুলিতে ক’য়েকবার চিন থেকে প্রতিমার অর্ডার (Durga puja 2022) এসেছিল। কিন্তু করোনার পর চিনের সঙ্গে কুমোরপাড়ার যোগাযোগ ছিন্ন হয়। তারপর থেকে সে দেশ কোনও অর্ডারও আসেনি। কিন্তু বেজিংয়ে বাঙালিদের ‘বেজিং বংগস’ গ্রুপ নিয়ম করে সরস্বতী পুজো বা নববর্ষ ও দুর্গা পুজো করে। বাংলা থেকে চিনে পড়তে যাওয়া পড়ুয়ারা অংশ নেয় সেই পুজোয়। সেখানকার কোনও ঠাকুরের অর্ডার আসেনি কুমোরটুলিতে। ফলে তাঁরা ধরে নিচ্ছেন, চিনেই এখন তৈরি হচ্ছে দুর্গা ঠাকুর।
মহামেডান দুর্গা দিল ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদের, কলকাতা আছে কলকাতাতেই