দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার থাবা থেকে মুক্ত নয় কুমোরটুলি। তার উপর অর্ধেকের বেশি শিল্পী, কর্মীর এখনও টিকা পাননি। এমন হতাশাজনক পরিস্থতির মধ্যেই খানিক খুশির হাওয়া। বিগত বছরগুলোর মত এবারও পৃথিবীর নানা প্রান্তে যাচ্ছে কুমোরটুলির দুর্গা প্রতিমা।
যদিও ঢাকে কাঠি পড়তে এখনও অনেক দেরি। তবে জাহাজে যেতে লাগবে প্রায় ৫০ দিন। তাই আগেভাগেই বাইডেনের দেশে রওনা দিচ্ছে কুমোরটুলির দুর্গা। শাড়ি, গয়না, মাথায় মুকুট পরে সাজগোজ সম্পূর্ণ। এখন শুধু যাওয়ার অপেক্ষায় দশ হাতে অস্ত্র নিয়ে দশপ্রহরণধারিণী। প্যাকিংও হয়ে গেছে ৭ ফুটের দুর্গা-সহ কার্তিক, সরস্বতীদের।
দু’একদিনের মধ্যেই সাবেকি ঘরানার মৃন্ময়ী দুর্গা জাহাজে চেপে সপরিবারে রওনা দেবে মার্কিন মুলুক টেক্সাসে।
তবে অন্যান্যবার বহু প্রতিমা ভিনদেশে পাড়ি দেয়। এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে সাত-আট। কম হলে তবুও তো যাচ্ছে। শিল্পী অমল পাল বললেন, ‘রাজ্যের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আসা প্রতিমার বরাতও এবার অন্যবারের তুলনায় বেশ কম। যে সমস্ত প্রবাসীরা গত বছর বরাত দিয়ে রেখেছিলেন, সেই প্রতিমাই বিদেশে পাড়ি দেওয়া শুরু করছে। করোনার তৃতীয় ঢেউ আসার আগেই এখানকার দুর্গা প্রতিমা পৌঁছে যাবে বিদেশে৷ এক টুকরো কলকাতার উৎসবমুখর ছবি সেখানেও ফুটে উঠবে।’
এই একই আশায় বুক বাঁধছেন কুমোরটুলির অন্য শিল্পী-কারিগররাও। তারা বিদেশে পূজার সূচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন৷ অমল বলেন, ‘আমাদের প্রতিমা তৈরি করেই পেট চলে। সরকারের সাহায্য তেমন পাই না৷ বিদেশে কিছু প্রতিমা গেলে সমস্যা কিছুটা দূর হবে৷’
ফাইবার গ্লাসের প্রতিমার দাম নিয়ে বললেন, ‘প্রতিমার দাম ঠিক হয় কাজ আর প্রতিমার সাইজের উপরে। ফাইবার গ্লাসের বানানো প্রতিমা সাজ-সহ এক একটির দাম পড়ে দেড় থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো। প্যাকিং করতেই খরচ পড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। প্যাকিং–এরও রকমফের আছে। একচালার মূর্তি হলে খরচ কম। পার্ট পার্ট হলে খরচ বেড়ে যায়। নিয়ে যাওয়ার খরচ উদ্যোক্তাদের।’
কয়েকদিন আগেই কুমোরটুলির মিন্টু পালের তৈরি প্রতিমা জার্মানির বার্লিন ও আমেরিকার নিউজার্সি পাড়ি দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ‘প্রতি বছরই তাঁর তৈরি প্রতিমা বিদেশে যায়। গত বছরও তিনি পাঁচটি প্রতিমা বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। সুইৎজারল্যান্ড, ব্রিটেন, আমেরিকা, ফ্রান্স ও বেজিংয়ে গিয়েছিল ওই প্রতিমাগুলি। এবার দুবাই যাবে দুটি প্রতিমা।