দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর জনসভায় স্লোগান দিয়েছিলেন, ‘গোলি মার গদ্দারোঁ কো’। বিজেপির সাংসদ পরবেশ সাহেব সিং ভোটারদের বলেছিলেন, যারা শাহিনবাগে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে, তারা একদিন আপনাদের ঘরে ঢুকে পড়বে। আপনাদের, বোন ও মেয়েদের ধর্ষণ করবে। বুধবার বিকালে নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে নির্দেশ দিল, এই দুই নেতাকে যেন ‘স্টার ক্যাম্পেনার’ না রাখা হয়।
স্টার ক্যাম্পেনার না হলেও অনুরাগ ও পরবেশ প্রচার করতে পারবেন। কিন্তু তাঁরা কোনও প্রার্থীর হয়ে জনসভা করলে যে খরচ হবে, তা সেই প্রার্থীর প্রচারের খরচ হিসাবে ধরা হবে। নিয়মমতো প্রার্থীরা প্রচারে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি অর্থ খরচ করতে পারেন না। কিন্তু স্টার ক্যাম্পেনারের ক্ষেত্রে খরচের কোনও উর্ধ্বসীমা নেই। এবার থেকে অনুরাগ ও পরবেশকে নির্দিষ্ট খরচের মধ্যে থেকেই প্রচার করতে হবে। আগের মতো যখন তখন প্রচারে যেতে পারবেন না।
অনুরাগ ঠাকুর উত্তর-পশ্চিম দিল্লির রিথালা কেন্দ্রের প্রার্থীর হয়ে প্রচার করছিলেন। তখনই তিনি বিতর্কিত স্লোগান দেন। জনতার উদ্দেশে তিনি স্লোগান দেন, “দেশ কো গদ্দারোঁ কো…”, জনতা স্লোগানের শেষাংশ বলছে, “গোলি মারো…”। ‘দেশ কি গদ্দার’ বলতে নাগরিকত্ব আইনেরত বিরোধীদের বোঝানো হয়েছে। এর আগেও একাধিক বিজেপি নেতা নাগরিকত্ব আইনের বিরোধীদের ‘গদ্দার’ বলে উল্লেখ করেছেন।
অনুরাগ ঠাকুর যে সভায় বিতর্কিত স্লোগান দেন, সেখানে পরে বক্তব্য পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ওই কেন্দ্রের প্রার্থী মনীশ চৌধুরিও সেখানে ছিলেন।
দিল্লি পশ্চিম-এর বিজেপি এমপি পরবেশ সাহিব সিং বর্মা ভোটের প্রচার করতে গিয়ে বললেন, শাহিনবাগে যারা অবস্থান করছে, তারা আপনার বাড়িতে ঢুকে পড়বে। আপনার বোনকে, মেয়েকে ধর্ষণ করবে। পরে তিনি বলেন, দিল্লিতে যদি বিজেপি ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসে, এক ঘণ্টার মধ্যে শাহিনবাগের অবস্থান তুলে দেওয়া হবে।
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে দিল্লিতে। ফলপ্রকাশ হবে ১১ ফেব্রুয়ারি। সোমবার দিল্লির বিকাশপুরি অঞ্চলে ভোটের প্রচার করেন পরবেশ। তিনি বলেন, “এটা নিছক ভোটের লড়াই নয়। এই ভোটে স্থির হবে, দেশ ঐক্যবদ্ধ থাকবে কিনা। ১১ ফেব্রুয়ারি বিজেপি যদি জেতে, এক ঘণ্টার মধ্যে আপনারা দেখবেন, একজনও বিক্ষোভকারী নেই। এক মাসের মধ্যে আমরা নিয়ম করব, সরকারি জমিতে মসজিদ তৈরি করা যাবে না।”
তিনি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “শাহিনবাগে রোজ লক্ষ লক্ষ লোক জড়ো হচ্ছে। ওরা একদিন আপনাদের বাড়িতে ঢুকে পড়বে। আপনাদের, বোন ও মেয়েদের ধর্ষণ করবে। খুন করবে। এখনও সময় আছে। আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি বা অমিত শাহ আপনাদের বাঁচাতে আসবেন না।”