দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালবাহী গাড়ি খাদে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ। কিন্তু চালককে উদ্ধার করার বদলে, গাড়িটি উদ্ধার করতেই যেন বেশি তৎপর তারা। বলা ভাল, গাড়ির ভিতরের জিনিসপত্রকে। এমনই অভিযোগ উঠল বুধবার, কেরলের গুরুথিক্কালাম এলাকার একটি দুর্ঘটনায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশের গাফিলতিতে এক ঘণ্টা গাড়ির নীচে চাপা পড়ে থাকা অবস্থায় প্রাণ হারায় ৪৭ বছরের ইসমাইল।
কিন্তু কেন এমন করল পুলিশ?
স্থানীয়দের দাবি, যে গাড়িটি খাদে পড়ে গেছিল, সেটিতে ৫০০ বোতল বিয়ার ছিল। তাই পুলিশের নজর ছিল সেগুলি ঠিক ভাবে 'উদ্ধার' করার দিকেই। জানা গিয়েছে, থোডুপুঝা থেকে চেরুথোনির একটি বারে বিয়ারের বোচল পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল গাড়িটি। বিকেল চারটে নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশে খবর দেওয়া হলে, ঘটনাস্থল দেখে এলাকা 'সিল' করে দেয় তারা।
অভিযোগ, চালককে উদ্ধার করার কথা জিজ্ঞেস করলে পুলিশ জানায়, চালক আগেই পালিয়ে গিয়েছে। এভাবেই কাটে প্রায় ঘণ্টা খানেক। তার পরে গাড়িটি সরাতে গিয়ে দেখা যায়, চালক চাপা পড়ে ছিলেন গাড়ির নীচেই! এবং তত ক্ষণে মৃত্যু হয়েছে তাঁরা। স্থানীয়দের ক্ষোভ, সঙ্গে সঙ্গে চালককে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে হয়তো প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হতো।
মৃত চালক ইসমাইলের পরিবারের তরফে সামসুদ্দিন নামের এক ব্যক্তির অভিযোগ, "আমরা খবর পেয়েই ছুটে যাই। তখন এক ঘণ্টা হয়ে গেছে দুর্ঘটনার। আমরা গিয়ে দেখি, কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না ঘটনাস্থলে। আমরা পুলিশকে জিজ্ঞেস করি ইসমাইলের কথা, ওরা বলে কেউ নেই লরিতে। আমরা তবু নিজে চোখে দেখার জন্য জোর করে খাদে নামি। গিয়ে দেখি, চাপা পড়ে রয়েছে রক্তাক্ত ইসমাইল! এক ঘণ্টা ওভাবেই পড়ে ছিল! আরও আগে ওকে বার করলে হয়তো..."
[caption id="attachment_118394" align="aligncenter" width="607"]

মৃত ইসমাইল।[/caption]
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিয়ারের বোতলগুলি কেউ নিয়ে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করে পুলিশ কাউকে নামতে দেয়নি খাদে। শুরু করতেই দেয়নি উদ্ধারকাজ। বিয়ারের বোতলগুলি যাতে কোনও ভাবে এদিক-ওদিক না হয়, তা দেখতেই ব্যস্ত ছিল তারা!
এ সব অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে স্থানীয় কুলামাভু থানার পুলিশ। সাব ইনস্পেক্টর সিএস নাসের জানিয়েছেন, স্থানীয়রা দুর্ঘটনা স্থলে পৌঁছে বিয়ারের বোতল নেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিল, তাই তাদের আটকানো হয়েছে। কিন্তু কোনও ভাবেই বোতলের জন্য চালকের উদ্ধারকাজে দেরি করা হয়নি।
তিনি বলেন, "আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে বোতলগুলি সরাতে শুরু করি। ভাঙা বোতল খুব সাবধানে সরাতে হচ্ছিল। এই সময়ে আমার কাছে একটা অজানা নম্বর থেকে ফোনকল আসে। ইসমাইলের আত্মীয় বলে নিজের পরিচয় দিয়ে কেউ এক জন বলেন, যে লরিটির দুর্ঘটনা ঘটেছে তার চালক ইসমাইল নিরাপদে বেরিয়ে গিয়েছে লরি থেকে। এটা শোনার পরেও আমি এক অফিসারকে থানায় পাঠাই, চালক সত্যিই বেরোতে পেরেছে কি না খোঁজ নেওয়ার জন্য। লরিটি এমন ভাবেই পড়ে ছিল, যে চালক বা কেউ তলায় আটকে রয়েছেন কি না, বোঝা যাচ্ছিল না। ওই অফিসার থানা থেকে ফিরে জানান, চালক বেরিয়ে যাওয়ার খবর সত্যি নয়। তখন আমরা ফের খুঁজতে শুরু করি। তবে তত ক্ষণে এক ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। ইসমাইলের পরিবারের লোকজনও এসে গিয়েছেন।"
যদিও সামসুদ্দিনের অভিযোগ, এ সবই মিথ্যে বলছে পুলিশ। তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জোর করে খাদে নামার আগে অবদি কোনও পুলিশই উদ্ধারকাজে হাত লাগায়নি। "আমরা নামার পরে মাত্র ১০ মিনিট লেগেছে ইসমাইলকে খুঁজে পেতে। আমরা বুঝতে পারছি না, পুলিশ কেন খুঁজে পেল না। আমরা তা হলে কী করে পেলাম এত সহজে!"--বলেন তিনি।