দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরনো ৯ এমএম কার্বাইন বাতিল করে অত্যাধুনিক কার্বাইন ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে তুলে দিচ্ছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই কার্বাইনের ট্রায়াল চলছিল এতদিন। অস্ত্র ব্যবহারে সায় দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
এতদিন ৯ এমএম কার্বাইন নিয়ে কাজ চালাচ্ছিল দেশের সশস্ত্র বাহিনী। এবার তার বদলে জয়েন্ট ভেনচার প্রোটেকটিভ কার্বাইন হাতে উঠবে। সিআরপিএফ, বিএসএফ, রাজ্য পুলিশ বাহিনী এই অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে।
৫.৫৬*৩০ মিলিমিটার কার্বাইন পুরোপুরি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এই কার্বাইন বানিয়েছে ডিআরডিও। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি জয়েন্ট প্রোটেকটিভ ভেঞ্চার কার্বাইন যা আসলে সেমি-অটোমেটিক মেশিনগান। প্রতি মিনিটে ৭০০ রাউন্ড গুলি ছুড়তে পারে।
এই মেশিনগানের ট্রায়াল করেছে ডিজিকিউএ (ডিরেক্টোরেট জেনারেল অব কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স)। ১০০ মিটার পাল্লায় নিপুণ নিশানা করতে পারে এই সাব-মেশিনগান। প্রয়োজনে পাল্লা বাড়ানোও যায়। ওজনে প্রায় তিন কিলোগ্রাম। পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়ার যে কোনও পরিস্থিতিতেই এই মেশিনগান ব্যবহার করতে পারবেন সেনা জওয়ানরা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞর বলছেন, লাদাখের পাহাড়ি শীতেও এই সাব-মেশিনগান নির্ভুল লক্ষ্যস্থির করতে পারবে। গুলি ছুটে যাবে ঝড়ের বেগে। প্রাথমিকভাবে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স ও বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের হাতে এই সাব-মেশিনগান পৌঁছে দেওয়া হবে। এরপরে সেনাবাহিনীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। দরকার পড়লে লাদাখেও পাঠানো হবে এই সেমি-অটোমেটিক সাব-মেশিনগান।
অন্যদিকে, আমেরিকার থেকে দ্বিতীয় দফায় অত্যাধুনিক সিগ সর ৭১৬ অ্যাসল্ট রাইফেল আনতে চলেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। আমেরিকার দ্য স্মল আর্ম ম্যানুফ্যাকচারার এই অ্যাসল্ট রাইফেল তৈরি করে। প্রথম দফায় মার্কিন অস্ত্র সংস্থার থেকে ৭২ হাজার ৭.৬২ এমএম অ্যাসল্ট রাইফেল চলে এসেছে ভারতীয় বাহিনীর হাতে। এবার দ্বিতীয় দফায় আরও ৭২ হাজার সিগ সর অ্যাসল্টের বরাত দিতে চলেছে সেনাবাহিনী। সিগ ৭১৬ অ্যাসল্ট রাইফেল মূলত ব্যবহার করেন ফ্রন্টলাইন সেনা জওয়ানরাই। ৫.৫৬X৪৫ মিমি কার্তুজের ইনসাস রাইফেলের চেয়ে ৭.৬২X৫১ মিমি কার্তুজের সিগ সর অ্যাসল্ট রাইফেল অনেক বেশি আধুনিক ও আক্রমণাত্মক। ১৬ ইঞ্চির ব্যারেলের এম-এলওএম হ্যান্ডগার্ড রাইফেলে রয়েছে ৬ পজিশন টেলিস্কোপিক স্টক। এই রাইফেল দিয়ে বিপক্ষকে ঘায়েল করা যাবে যে কোনও দিক থেকেই। তাইওয়ানের ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের হাতে থাকে এই রাইফেল।