
সুজয় চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: 3 October 2024 20:21
সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে জুনিয়র ডাক্তাররা এখনও কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে অনড়। তাঁদের সেই আন্দোলনে বাম ও অতিবাম সংগঠনগুলির পুরোমাত্রায় প্রভাব রয়েছে বলেও অনেকে মনে করছেন। ঠিক এমনই সময়ে কর্মবিরতি নিয়ে মুখ খুললেন এমনই এক ডাক্তারবাবু যিনি বাম জমানায় জুনিয়র ডাক্তার হিসাবে সরকারি হাসপাতালে কাজ করেছেন। এখন হাওড়া পুরসভার প্রশাসক। অর্থাৎ ডাক্তারবাবু এবং শাসক দলের রাজনীতিকও বটে।
বুধবার সেই তিনি ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী দ্য ওয়ালকে বলেন, “ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছি। ওখানেই ইন্টার্নশিপ করেছি। কিছুদিন আমতা হাসপাতালে কাজও করেছি। আমি ভালমতই জানি সে সময়ে কেমন ভয়ের পরিবেশ ছিল। কী ধরনের স্বজনপোষণ ছিল। আমতা হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার, প্যারাসিটামল আর কিছু বেসিক ওষুধ ছাড়া কিচ্ছু ছিল না। তাও রোগীর চাপ সামলেছি। কখনও না বলিনি”।
সুজয়বাবুর কথায়, “আরজি কর হাসপাতালে যা ঘটেছে একজন চিকিৎসক হিসাবে তার পর প্রতিবাদ না জানিয়ে থাকতে পারি না। কিন্তু চিকিৎসক বলেই বুঝি যে, বাস-ট্যাক্সি ধর্মঘটের সঙ্গে ডাক্তারদের কর্মবিরতির ফারাক রয়েছে। আমাদের পেশার সঙ্গে লাগাতার ধর্মঘট যায় না”।
ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী আরও বলেন, “সরকারি হাসপাতালে আমার বন্ধুরা রয়েছেন। আগে যেখানে দিনে ২০টি অপরাশেন হত এখন সেখানে চার-পাঁচটির বেশি হচ্ছে না। বাকি ১৫ জন রোগী কোথায় যাবেন? জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সিনিয়র ডাক্তাররা যতই পরিষেবা দিন না কেন, যে কাজের জন্য ৫০০ লোক লাগে তা ৫০ টি লোক দিয়ে সম্ভব না”।
কলকাতার একটি স্বনামধন্য বেসরকারি হাসপাতালে শিশুরোগ বিভাগের প্রধান ছিলেন ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। এখন হাওড়া পুরসভার প্রশাসক। হাওড়ায় নিজ উদ্যোগে রেড ক্রস শিশু হাসপাতালের পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছেন। সুন্দরবনে গিয়ে দাতব্য করেন। আর রাত দুটোতেও রোগীর ফোন পেলে যথাসাধ্য করেন। হাওড়া সম্ভবত একমাত্র পুর নিগম যার অধীনে একটি ব্লাড ব্যাঙ্কও খুলেছেন প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী।
তৃণমূলের একাংশ নেতার বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে, তখন সুজয় চক্রবর্তীকে অনেকে বলেন ‘প্রহ্লাদ’। ইদানীং তৃণমূলের গ্রাম প্রধানরা অনেকে স্করপিও চড়েন। কিন্তু সুজয় হাওড়া পুরসভা থেকে গাড়ি, তেল, চালক কিছুই নেন না। নিজের একটি ছোট গাড়ি চড়েন।
তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আবার সহজ ভাবেই বলেন, ‘এ হল ব্যক্তিগত জীবনদর্শন। যে যেভাবে জীবনকে দেখে’। এহেন হাওড়ার প্রশাসক বুধবার আরজি কর প্রসঙ্গে বলেন, “যে রাজ্যের মুখমন্ত্রী নারী সুরক্ষার জন্য এতও পরিশ্রম করেন, সে রাজ্যে এই ঘটনা হলে অত্যন্ত দুঃখজনক। বিচার আমরা সবাই চাই। যে বা যারা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের ফাঁসি হোক, আমরা সকলে চাই। কিন্তু উল্টোদিকটা আমাদের ভাবতে হবে। আমরা প্রত্যেকে চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত। বেসরকারি হাসপাতালের যাঁরা যেতে পারেন না তাঁরা সরকারি হাসপাতালে আসেন। প্রতিদিন বহু মানুষ সুস্থ হওয়ার আশা নিয়ে ভিড় করেন। তাঁদের হতাশ করা, দুর্ভোগের মধ্যে ঠেলে দেওয়াও যথার্থ নয়। কখনওই নয়”।