ভোটের দিন প্রতিটি বুথের ভিতরে এবং বাইরে কড়া নজরদারি চালানো হবে। সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, একটি ক্যামেরা থাকবে বুথের একেবারে অন্দরে এবং অন্যটি থাকবে বাইরে। তবে গোপনীয়তা রক্ষায় কমিশন বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করছে। কোনও ক্যামেরা দিয়েই ইভিএম বা ভোটার কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা দেখা যাবে না।

সুব্রত গুপ্ত
শেষ আপডেট: 7 April 2026 21:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি মাসের ২৩ তারিখেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। আর তার আগে বুথের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিন্ত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপের কথা জানাল নির্বাচন কমিশন (ECI)। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের হাজারো বিরোধিতা এবং ভোটার তালিকা নিয়ে তপ্ত রাজনীতির মধ্যেই কমিশন স্পষ্ট করে দিল, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে তারা বিন্দুমাত্র আপস করতে নারাজ। এবার প্রতিটি বুথে একটি নয়, বরং দুটি করে ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। মঙ্গলবার এই কথা জানিয়েছেন ইলেকশন অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta)।
ভোটের দিন প্রতিটি বুথের ভিতরে এবং বাইরে কড়া নজরদারি চালানো হবে। সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, একটি ক্যামেরা থাকবে বুথের একেবারে অন্দরে এবং অন্যটি থাকবে বাইরে। তবে গোপনীয়তা রক্ষায় কমিশন বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করছে। কোনও ক্যামেরা দিয়েই ইভিএম বা ভোটার কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা দেখা যাবে না। বুথের ভিতরের ক্যামেরা মূলত পোলিং এজেন্ট এবং ভোটারদের গতিবিধির ওপর নজর রাখবে। অন্যদিকে, বাইরের ক্যামেরাটি ব্যবহার করা হবে লাইনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বুথ চত্বরে কোনও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে।
ভোটের দিন বিশৃঙ্খলা রুখতে এবার প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে কমিশন। ইতিমধ্যেই একটি কন্ট্রোল রুম খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ৭২টি বড় স্ক্রিনের মাধ্যমে একসঙ্গে ৫০০টি বুথে সরাসরি নজরদারি চালাবেন মাইক্রো অবজার্ভাররা। শুধু তাই নয়, এবারই প্রথম কন্ট্রোল রুমে কৃত্রিম মেধা বা 'এআই' (AI) ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। কোনও বুথে যদি কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার ছবি ধরা পড়ে, তবে এই কৃত্রিম মেধার সাহায্যেই দ্রুত সেই ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে।
সুব্রত বাবু আরও জানিয়েছেন, কন্ট্রোল রুমে আপাতত ১০টি টেলিফোন রাখা হয়েছে। কোনও বুথ থেকে অভিযোগ আসামাত্রই সেখান থেকে সরাসরি সেক্টর অফিসার, অবজার্ভার, পুলিশ অবজার্ভার এবং কুইক রেসপন্স টিমকে নির্দেশ পাঠানো হবে। লক্ষ্য একটাই - অভিযোগ পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই যাতে বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।
ভোটার তালিকা সংশোধন বা 'এসআইআর' প্রক্রিয়া নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সরব হয়েছে রাজ্যের শাসক দল। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন 'ষড়যন্ত্রের' অভিযোগ তুলছেন, ঠিক সেই আবহেই কমিশনের এই কঠোর অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রযুক্তির এই নিশ্ছিদ্র বেষ্টনী আসলে বুথ দখল বা ছাপ্পা ভোটের মতো অভিযোগগুলো অঙ্কুরেই বিনষ্ট করার একটি প্রয়াস। এখন দেখার, ২৩ তারিখের প্রথম দফার ভোটে এই 'ডবল' নজরদারি কতটা কার্যকর হয়।