শুধু নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন নয়, এই প্রকল্প রাজ্যে কর্মসংস্থানেরও এক নতুন দিশা খুলে দিতে পারে, এমনটাই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 2 August 2025 08:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অঙ্গনওয়াড়ির ছাদ চুঁইয়ে পড়ে জল, স্কুলের দেওয়ালে বহুদিন রং পড়েনি, পঞ্চায়েতের নলকূপ খারাপ—এমন হাজারো ছোটখাটো সমস্যা দিনের পর দিন পড়ে থাকলেও তাতে নজর দেওয়ার সময় বা সুযোগ মেলে না প্রশাসনের। সেইসব সমস্যা এবার মেটাতে সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসন (Doorstep Governance Initiative)।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ঘোষণা অনুযায়ী আজ, শনিবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প—‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ (Amader Para Amader Samadhan)।
শনিবার থেকেই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় একযোগে বসছে ৫০০-রও বেশি শিবির, যার মধ্যে কলকাতাতেই রয়েছে চারটি। চলতি বছরের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ কর্মসূচি। যদিও দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর ছুটির সময় শিবির বন্ধ থাকবে। লক্ষ্য একটাই—পাড়ার ছোটখাটো নাগরিক সমস্যা দ্রুত সমাধান।
প্রতি তিনটি বুথের জন্য একটি করে শিবির হবে। মোট ২৮ হাজারেরও বেশি শিবির আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকার।
কী কী কাজ হবে এই শিবিরে?
নবান্ন থেকে পাঠানো নির্দেশিকা অনুযায়ী এই প্রকল্পের অধীনে এখন ১৬টি ধরনের সমস্যা সমাধানের কথা বলা হয়েছে। আগে সংখ্যাটি ছিল ১৪। মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবের জেলা শাসকদের সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন করে দুটি বিষয় তালিকায় যোগ হয়েছে—
প্রধান কাজগুলির মধ্যে রয়েছে:
নলকূপ বসানো বা মেরামতি
বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহ
রাস্তার LED বা সোলার লাইট বসানো/মেরামতি
অঙ্গনওয়াড়ির ছাদ সংস্কার
প্রাইমারি স্কুলে রং করা, বেঞ্চের ব্যবস্থা
শৌচালয় নির্মাণ বা সংস্কার
পুকুর সংস্কার, ঘাট বাঁধানো
বর্জ্য ও নিকাশি ব্যবস্থাপনা
কমিউনিটি সেন্টার ও বাসস্টপ মেরামতি
ফুটপাত তৈরি বা সংস্কার
এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবস্থা
বিদ্যুৎ সংযোগ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান
রিকশা/অটো স্ট্যান্ড তৈরি
এ জন্য প্রতি বুথে বরাদ্দ ১০ লক্ষ টাকা মোট বাজেট: প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকা। আগামী বছরের জানুযারির মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে প্রশাসন।
শুধু নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন নয়, এই প্রকল্প রাজ্যে কর্মসংস্থানেরও এক নতুন দিশা খুলে দিতে পারে, এমনটাই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। কেন্দ্রের তরফে ‘১০০ দিনের কাজ’-এর টাকা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বহু প্রকল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগ সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রে বার্তা স্পষ্ট—এই প্রকল্পে সমাধান যেমন হবে, তেমনই বাড়বে মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর ‘ডোরস্টেপ গভর্নেন্স’ মডেল বাস্তবায়নে এটি হতে চলেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।