দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমেরিকার সীমান্তে এমন পাঁচিল দেওয়া হবে, যা টপকানো সাধ্য হবে না কোনও অনুপ্রবেশকারীর। পাঁচিলের গায়ে লাগানো থাকবে বর্শার ফলা। কেউ পাঁচিল ডিঙোতে গেলে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, পাঁচিলের গায়ে থাকবে গভীর পরিখা। তার জলে ছাড়া থাকবে বিষধর সাপ ও কুমির। কেউ যদি কোনক্রমে পাঁচিল টপকায়, সাপ ও কুমিরের আক্রমণে মারা পড়বে। গত মার্চ মাসে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক বৈঠকে এমনই প্রস্তাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের তিনি নির্দেশ দেন, খুব তাড়াতাড়ি মেক্সিকো সীমান্তে ২ হাজার কিলোমিটার এলাকায় বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। কেউ যদি বেড়া টপকাতে চায়, সোজা গুলি করতে হবে তার পায়ে। হোয়াইট হাউসের এক ডজনের বেশি কর্তার সাক্ষাৎকার নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস সংবাদপত্রে এসম্পর্কে একটি রিপোর্ট ছেপেছে গত মঙ্গলবার। তার শিরোনাম, বর্ডার ওয়ারস : ইনসাইড ট্রাম্পস অ্যাসল্ট অন ইমিগ্রেশন। বিষয়টি নিয়ে কিছুদিনের মধ্যে একটি বইও প্রকাশ করতে চলেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। মঙ্গলবার যে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে, তা সেই বইয়েরই অংশ বিশেষ।
রিপোর্টে আছে, ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ক্রিস্টেন নিয়েলসেন, বিদেশ সচিব মাইক পম্পিও, তৎকালীন শুল্ক ও সীমান্ত নিরাপত্তা দফতরের প্রধান কেভিন কে ম্যাক অ্যালিনান প্রমুখ।
বৈঠক চলাকালীন নিয়েলসন ও পম্পিও-র ওপরে প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর ধারণা ছিল, ওই দু'জন অনুপ্রবেশকারীদের সম্পর্কে যথেষ্ট কড়া মনোভাব দেখাচ্ছেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস করতেন, মেক্সিকো সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে তবেই অনুপ্রবেশ সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। নিয়েলসেন তাঁকে বোঝাতে চাইছিলেন, শুধু সীমান্তে বেড়া দিলেই বিদেশ থেকে আসা লোকজনকে আটকানো যাবে না। কারণ আইনত অনেক বিদেশি আমেরিকায় আশ্রয় চাইতে পারে। কিন্তু ট্রাম্প কারও কথা শুনতে রাজি হননি। তিনি বলেছিলেন, আমি জানি, মেক্সিকোয় আপনাদের অনেক বন্ধু আছে। আপনারা তাদের হয়ে কথা বলছেন। আমি চাই, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সীমান্তে পাঁচিল দেওয়া হোক।