দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান মেক্সিকো সীমান্তে পাঁচিল বানাতে। কিন্তু আমেরিকার কংগ্রেসে প্রেসিডেন্টের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তারা ওই প্রস্তাবে রাজি নয়। ট্রাম্প রেগে গিয়ে কংগ্রেসের বাজেট প্রস্তাবে সই করতে চাননি। তার ফলে পাঁচ সপ্তাহ ধরে বেতন পাননি আমেরিকা সরকারের পাঁচ লক্ষ কর্মচারী। অবশেষে শুক্রবার শোনা যায়, কংগ্রেসের সঙ্গে একটা চুক্তিতে এসেছেন ট্রাম্প। তিন সপ্তাহের জন্য শাট ডাউন উঠছে।
এদিন ট্রাম্প বলেন, আমি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি, আমাদের মধ্যে একটা চুক্তি হয়েছে। তার ফলে শাট ডাউন শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে দুই দলের প্রতিনিধিকে নিয়ে গঠিত একটি কমিটি দেশের সীমান্তে নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।
আমেরিকার ফেডারেল সরকারের বহু সংস্থা প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য কংগ্রেসের ওপরে নির্ভরশীল। সংস্থাগুলি অর্থ চেয়ে কংগ্রেসের কাছে বিল পাশ করে। কংগ্রেস সেই বিল অনুমোদন করার পরে প্রেসিডেন্ট তাতে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু মেক্সিকো সীমান্তে পাঁচিল দেওয়া নিয়ে মতবিরোধ হওয়ায় ট্রাম্প ওই বিলগুলিতে সই করতে রাজি হননি। কিন্তু এতদিন শাট ডাউন চলার পরে তিনি নরম হয়েছেন। আগে বলেছিলেন, পাঁচিল বানানোর প্রস্তাবে কংগ্রেস সায় না দিলে কোনও বিলে সই করবেন না। এখন পাঁচিল বানানোর দাবি না করেই বিলে সই করতে রাজি হয়েছেন। আপাতত কয়েক সপ্তাহের জন্য শাট ডাউন উঠছে বটে কিন্তু তিনি আগামী দিনে ফের কংগ্রেসের কাছে ওই দাবি তুলবেন। তবে কংগ্রেস সদস্যদের ধারণা আগামী দিনে তিনি আর অনড় মনোভাব দেখাবেন না। ডেমোক্র্যাট সেনেটর চাক শুমার বলেছেন, আশা করি এতদিনে ট্রাম্পের শিক্ষা হয়েছে।
মেক্সিকো সীমান্তে পাঁচিল বানাতে খরচ হবে ৫৭০ কোটি ডলার। ট্রাম্প দেওয়াল বানানোর জন্য কংগ্রেস সদস্যদের ওপরে চাপ দিচ্ছিলেন ঠিকই কিন্তু কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট স্পিকার ন্যান্সি পেলসি ছিলেন অনড়। তাঁদের ধারণা ছিল, শাট ডাউনের জন্য সাধারণ ভোটাররা দোষ দেবেন ট্রাম্পকেই। সম্প্রতি এক জনমত সমীক্ষায় দেখা যায়, তাঁদের ধারণা ঠিক। জনপ্রিয়তা কমেছে ট্রাম্পের।
প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অপরাধীরা আমেরিকায় ঢুকে পড়ে। তারা দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক। তাদের ঠেকানোর জন্যই পাঁচিল দেওয়া প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটদের বক্তব্য, পাঁচিল দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অনুপ্রবেশের ইস্যুটি অত্যন্ত জটিল। ট্রাম্প পাঁচিল দিতে চাইছেন ভোটের কথা ভেবে।