দ্য ওয়াল ব্যুরো : এক অদৃশ্য শত্রু আমাদের আক্রমণ করেছে। গ্রেট আমেরিকান সিটিজেনদের বাঁচানোর জন্য আমি একটা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে সই করছি। তাতে আপাতত আমেরিকায় অভিবাসন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে এমনই টুইট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আমেরিকা এখন সারা বিশ্বে করোনার এপিসেন্টার হয়ে উঠেছে। সেদেশে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় আড়াই লক্ষ। গত মাসে আমেরিকা রুটিন ভিসা সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছিল। এবার অভিবাসনই বন্ধ করে দিল।
করোনা অতিমহামারীর জেরে আমেরিকায় চাকরি গিয়েছে রেকর্ড সংখ্যক কর্মীর। গত সপ্তাহে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ বেকারভাতার জন্য আবেদন করেছেন। দেশের নানা প্রান্তে যাতায়াতের ওপরে নিষেধাজ্ঞা আছে। তাছাড়া ভারত সহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসও বন্ধ।
আগামী নভেম্বরেই নির্বাচনে যেতে হবে ট্রাম্পকে। আমেরিকা যেভাবে করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে, তাতে সমালোচনা শুরু হয়েছে নানা মহল থেকে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার জন্যই ট্রাম্প আপাতত অভিবাসন বন্ধ করে দিলেন।
এর আগে তিনি দাবি করেন, ভারত ছাড়াও আরও ন’টি দেশে মিলিত ভাবে যত করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে তার থেকে একা আমেরিকার টেস্টের সংখ্যা বেশি। আমেরিকায় এখনও পর্যন্ত ৪১ লাখ ৮০ হাজার টেস্ট করা হয়েছে। এটা একটা রেকর্ড বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ফ্রান্স, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত, অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন এবং কানাডা মিলিত ভাবে যত কোভিড-১৯ টেস্ট করেছে তার থেকে বেশি টেস্ট হয়েছে আমেরিকায়।
বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন ২৪ লক্ষেরও বেশি। ১৯৩টি দেশে থাবা বসিয়েছে নোভেল করোনাভাইরাস। এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা মোট ২৪,০৭,৬০২। মৃত্যু হয়েছে ১,৬৫,০৮৩। পরিসংখ্যান অনুযায়ী এর মধ্যে এক লক্ষেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে ইউরোপে। সারা বিশ্বে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন মোট ৬,২৫,৩১৭ জন।
স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা ১,৯৮,৬৭৪। আর মৃত্যু হয়েছে ২০,৪৫৩ জনের। আক্রান্তের সংখ্যায় ইতালি পিছিয়ে রয়েছে স্পেনের থেকে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১,৭৮,৯৭২। তবে মৃতের সংখ্যায় স্পেনকে ছাপিয়ে গিয়েছে ইতালি। সেখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ২৩,৬৬০ জনের। ক্রমশ ইতালি এবং স্পেনের পথেই এগোচ্ছে ফ্রান্স। সেখানে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ১,৫২,৮৯৪। আর এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৯,৭১৮ জনের। একই অবস্থা ব্রিটেনেরও। ইউনাইটেড কিংডমে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোট ১,২০,০৬৭। মৃত্যু হয়েছে ১৬,০৬০ জনের। ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা প্রচুর হলেও সেই তুলনায় মৃতের সংখ্যা অনেক কম জার্মানিতে। এখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১,৪৫,৭৪২। আর মৃত্যু হয়েছে ৪,৬৪২ জনের।