দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাশোগি হত্যা মামলায় সৌদি রাজপরিবারকে চটাতে নারাজ ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই কারণে, খাসোগি খুনে সৌদি যুবরাজের জড়িয়ে থাকার প্রসঙ্গ সুকৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন।রবিবারও ঠিক তাই হোল।খাশোগি হত্যায় মূল মাথা সৌদি যুবরাজ মহম্মদ-বিন-সলমন, বেশ কয়েকটি প্রমাণ পেয়েই এই তথ্য দেয় সিআইএ। এবার সেই প্রমাণগুলিকে প্রশ্নের মুখে ফেললেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার একটি টিভি চ্যানেলকে তিনি জানান, "সিআইএ-র দেওয়া প্রমাণে বেশ কিছু খামতি আছে।এই তথ্যের উপর নির্ভর করে সৌদি রাজপরিবারকে সন্দেহের তালিকাতেও রাখা যায় না।"
দুটি তথ্যের ভিত্তিতে খাশোগি খুনে সলমনের যোগ স্পষ্ট বলে জানায় সিআইএ। প্রথমটি, একটি অডিও টেপ। যেখানে খাশোগিকে খুন করার পরই সৌদি রাজপরিবারের কাছে একটি ফোন যায়। বলা হয়, 'কাজ শেষ, বসকে জানিয়ে দেবেন।' সিআইএ-র দাবি, সেই 'বস' আসলে মহম্মদ বিন সলমন। দ্বিতীয় তথ্য , খাশোগিকে খুন করতে ১৫ জনের যে হিট স্কোয়াড ইস্তানবুলে যায়, তারা প্রত্যেকেই সৌদির এজেন্ট। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই তথ্যগুলিকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ। এমনকী সিআইএ-র হাতে আসা সেই অডিও শুনতেও চাননি তিনি।
সৌদির যুবরাজের নির্দেশেই সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে খুন, দাবি সিআইএ-র
সম্প্রতি একটি বৈঠকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, খাশোগি খুনের তদন্ত প্রায় শেষ বলে যে দাবি মার্কিন গোয়ান্দেরা করছে, তা একেবারেই সঠিক নয়।এই হত্যাকাণ্ডে অনেকগুলি দেশ জড়িত। আরও তথ্য জোগাড় করা বাকি। এ বিষয়ে সিআইএ প্রধানের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।
সিআইএ-র তদন্তে উপর ভরসা না করে, যুবরাজকে নির্দোষ প্রমাণে কেন ব্যাস্ত ট্রাম্প, তাও কিছুটা হোলেও স্পষ্ট হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছেন ট্রাম্প। বর্তমানে, সৌদির সমর্থন আমেরিকার কাছে প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে, খাশোগি হত্যা নিয়ে ধীরে চল নীতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ওয়াশিংটন পোস্টে-র কলামনিস্ট খাশোগি সৌদি মহিলাদের উপর চলা রক্ষণশীলতার বিরোধিতা করে কলাম লিখেছিলেন। ২০১৮-র এপ্রিলে তা প্রকাশিত হয়। তখন থেকে সৌদি রাজাদের টার্গেটে পরিণত হন তিনি।২ অক্টোবর নিজের তুর্কি বাগদত্তা হ্যাটিস সেনজিজকে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর প্রবেশ করেন খাশোগি। কিন্তু এর পর থেকে তাঁকে আর দেখা যায়নি। খাশোগি খুনে এরপর তদন্ত এগিয়েছে।কিন্তু, ঘটনার ৪৫ দিন পরও খাশোগির দেহ উদ্ধার হয়নি। তুরস্কের গোয়ান্দাদের দাবি, খাশোগি-র টুকরো দেহ ব্যাগে পাচার হয়েছে।