চিনা অনুপ্রবেশ নিয়ে নথি মুছে দেওয়া হল প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সাইট থেকে
দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত মে মাসের শুরুতে চিনা সৈনিকরা লাদাখে ঢুকে পড়ে। গত মঙ্গলবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তার ওয়েবসাইটে এসম্পর্কে একটি নথি প্রকাশ করে। দু'দিন বাদে সেই ওয়েবপেজটি দেখা যাচ্ছে না। তা নিয়ে নানা মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রক
শেষ আপডেট: 6 August 2020 09:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত মে মাসের শুরুতে চিনা সৈনিকরা লাদাখে ঢুকে পড়ে। গত মঙ্গলবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তার ওয়েবসাইটে এসম্পর্কে একটি নথি প্রকাশ করে। দু'দিন বাদে সেই ওয়েবপেজটি দেখা যাচ্ছে না। তা নিয়ে নানা মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রকের ওয়েবসাইটে 'হোয়াটস নিউ' নামে একটি সেকশন আছে। তাতেই চিনা আগ্রাসন নিয়ে ওই নথি প্রকাশ করা হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, "২০২০ সালের ৫ মে থেকে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বরাবর চিনের আগ্রাসন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত গালওয়ান উপত্যকা এলাকায় চিনাদের উপস্থিতি লক্ষ করা গিয়েছে। ১৭-১৮ মে চিনারা বেআইনিভাবে কুংরাং নালা, গোগরা এবং প্যাংগং তাসো অঞ্চলের উত্তর দিকে ঢুকে পড়েছিল।"
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে কথা হয়েছে। গত জুন মাসে এক কোর কম্যান্ডার চিনের সেনাকর্তাদের সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিং করেছেন। গত ১৫ জুন দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। তাতে দু'পক্ষেই কয়েকজন হতাহত হয়েছে।
২২ জুন দ্বিতীয়বার দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে কোর কম্যান্ডার স্তরের বৈঠক হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সেনাকর্তারা আলোচনা করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রক মন্তব্য করেছিল, "উত্তেজনা কমানোর জন্য সেনাবাহিনী ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে। চেষ্টা হচ্ছে যাতে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়। কিন্তু তার পরেও মনে হচ্ছে, সমস্যা আরও কিছুদিন থাকবে।"
এরপরে বলা হয়েছে, "চিনারা একতরফা পূর্ব লাদাখে আগ্রাসন চালিয়েছিল। সেখানকার পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল। আমরা পরিস্থিতির ওপরে নজর রাখছি।"

বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রকের সাইট থেকে সেই নথি উধাও হয়ে যায়। তার লিঙ্কটি কাজ করছে না। প্রতিরক্ষামন্ত্রকের এক মুখপাত্র বলেন, এসম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
মে মাসে চিন সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেওয়ার পরে এই প্রথমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রক স্বীকার করেছিল, চিনারা আগ্রাসন চালিয়েছে। গত ১৫ জুন চিনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। তারপরে বিদেশমন্ত্রক বলে, চিনারা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের ঠিক ওপারেই পাঁচিল বানাতে চেষ্টা করেছিল। ভারতীয় সৈনিকরা টহল দেওয়ার সময় বাধা দিচ্ছিল চিনা সেনা।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুছে দেওয়া নথির কথা উল্লেখ করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী মিথ্যা কথা বলছেন কেন? জুনে সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, "আমাদের এলাকায় কেউ ঢোকেনি। ভারতের সেনা ছাউনিও কেউ দখল করে নেয়নি। দেশরক্ষার জন্য যা করা প্রয়োজন আমাদের সেনাবাহিনী তাই করেছে। আমরা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বরাবর পরিকাঠামো গড়ে তুলেছি। এর ফলে আমাদের সৈনিকদের টহল দিতে সুবিধা হচ্ছে।"