দ্য ওয়াল ব্যুরো: হায়দরাবাদ, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশের পরে এবার উত্তরপ্রদেশ। ফের স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটল। উন্মত্ত জনতার রোষের শিকার হলেন পুলিশকর্মীরাও। স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ কনস্টেবলদের লক্ষ্য করে নাগাড়ে চলল ইটবৃষ্টি। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরেরও চেষ্টা চালানো হল। সূত্রের খবর, একশো জনেরও বেশি হামলাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের উপর জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ধারা লাগু করার নির্দেশ দিয়েছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার।
মোরাদাবাদের নবাবপুরার নাগফণি এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে বুধবার বিকেলের দিকে। পুলিশ জানিয়েছে, ইটের ঘায়ে কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীর মাথা ফেটেছে। জখম কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবলও। দুটো অ্যাম্বুলেন্স এবং দুটো পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়েছে। এলাকায় এখনও যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পৌঁছেছেন জেলাশাসক ও মোরাদাবাদ পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা।
পুলিশ জানিয়েছে, নবাবপুরা এলাকার এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান সোমবার। গত ৯ এপ্রিল তাঁর উপসর্গ ধরা পড়ে। তাঁকে তীর্থঙ্কর মহাবীর ইউনিভার্সিটিতে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। অবস্থা ছিল সঙ্কটজনক। তাঁর পরিবারের লোকজনের থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা করেও সংক্রমণের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। আজ মৃত ব্যক্তির ছোট ভাইকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার জন্য গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবল। স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেছেন, ওই ব্যক্তির ছোট ভাইয়ের দিনকয়েক ধরে জ্বর। সব উপসর্গই দেখা দিচ্ছে ধীরে ধীরে। তাই তাঁকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠাবার কথা বললেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।
অভিযোগ, এলাকার একশো জনের বেশি লোক ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন স্বাস্থ্যকর্মীদের। পুলিশের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া শুরু হয়। জখম হন অনেকে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের কড়া শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যোগী সরকার। জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ধারা লাগু করার কথাও বলা হয়েছে।
রোগীদের থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীদের এবং লকডাউনের নিয়ম বোঝাতে গিয়ে পুলিশকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেই চলেছে নানা রাজ্যে। কিছুদিন আগেই মুজফফরনগরের মোরনা গ্রামে জমায়েত তুলতে গিয়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েন পুলিশকর্মীরা। অভিযোগ, লাঠি, রড নিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল পুলিশের উপর।
এর আগে, দিল্লির গৌতমনগরের কাছে একটি বাজারে চরম হেনস্থা করা হয় দুই মহিলা ডাক্তারকে। হায়দরাবাদের গান্ধী হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর পরেই হাসপাতাল ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় রোগীর পরিজন ও স্থানীয় লোকজনেরা। মারধরের চেষ্টা করা হয় ডাক্তারদেরও। সংক্রমণের পরীক্ষার জন্য স্থানীয়দের নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে চূড়ান্ত হেনস্থার মুখে পড়তে হয় স্বাস্থ্যকর্মীদের। ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে দেখা যায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে। ইটের ঘায়ে গুরুতর জখম হন দুই মহিলা ডাক্তার। আহত হন বেশ কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী।