শেষ আপডেট: 22 January 2020 09:40
বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রিয়ঙ্কর পাল বললেন, "এই অসুখটি একেবারেই নতুন চরিত্রের। যতটা বোঝা গেছে, তাতে মনে হচ্ছে মূলত শ্বাসনালীতে এটি আক্রমণ করে এবং রেসপিরেশন সিস্টেম অকেজো করার চেষ্টা করে। জ্বরও হয় সেইসঙ্গে। আসলে নির্দিষ্ট কোনও উপসর্গ না থাকায় ভাইরাসটিকে চিহ্নিত করাই সমস্যার। আমাদের এখানে এখনও এটি পরিচিত নয়। কোনও ভ্যাকসিন নেই। সতর্ক থাকা জরুরি।"
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রাহুল জৈন জানালেন, করোনা ভাইরাস যে একেবারেই নতুন ও অচেনা তা নয়। এই ভাইরাস সাধারণত পশু-পাখির দেহে থাকে। মাছ, গরু, উটের রক্তে এই ভাইরাস দেখা যায়। কিন্তু মানুষের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ এবং তা এক জন থেকে আর এক জনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়াটা সবচেয়ে আতঙ্কের। তার কথায়, "মানুষের দেহ এই ভাইরাসের সঙ্গে পরিচিত নয় কোনও ভাবেই। ফলে তার দেহে মারাত্মক খারাপ প্রভাব ফেলে এই ভাইরাস।"
একই কথা বললেন আর এক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রভাসপ্রসূন গিরি। তিনি বললেন, "এ দেশে এখনও আসেনি এই ভাইরাস এবং অসুখ। তবে এই অসুখ এতই মারাত্মক, যে সাবধানতা নিতে হবে অনেক বেশি করে। গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে কোনও রোগী এলেই আমরা তাকে আলাদা করে চিকিৎসা করছি প্রাথমিক ভাবে। নিশ্চিত হওয়ার পরেই জেনারেল ওয়ার্ডে রাখছি।"
ভাইরাস গবেষক সুমন পোদ্দারও বলেন, "এখনও এই ভাইরাসের আসল উৎস নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানা যায়নি। এখনই ভয়ের কিছু নেই। আগে থেকে কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে বিপদ হতে পারে। তবে আমরা এখনও ধোঁয়াশার মধ্যেই। আমাদের দেশে এখন অস্তিত্ব নেই।"
কিন্তু যে সতর্কতার কথা চিকিৎসকরা বলছেন, তা ঠিক কী? তাঁরা বলছেন, সর্দি-কাশি-জ্বরেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। শ্বাসকষ্টকে অবহেলা করা যাবে না কোনও ভাবেই। খোলা মাছ বা মাংসের বাজারে গেলে হাত-পা ভাল করে ধোয়াটা আবশ্যক। পোষ্যের শরীরে হাত দিলে সেই হাত কখনওই নাকে-চোখে বা মুখে দেওয়া ঠিক হবে না। মাংস ভাল করে রান্না করে খাওয়াই উচিত। অর্ধসিদ্ধ মাংস বা দুধ না ফুটিয়ে খাওয়াটা উচিত হবে না। মৃত পশুপাখির সংস্পর্শে না আসাই ভাল।
এখন লেখাপড়ার সূত্রের উহান শহরে থাকেন বহু ভারতীয় ছাত্র। এখন চিনা নববর্ষ উপলক্ষে আপাতত ছুটির মেজাজ সে দেশে। তাই এই সময়টা দেশে ফিরবেন সেই ভারতীয় পড়ুয়ারা। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আশঙ্কা, যদি তাঁদের কেউ ওই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে এ দেশে আসেন, তাহলে তাঁর থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে অন্য মানুষের মধ্যে। সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই দেশের সমস্ত বিমানবন্দরেই স্বাস্থ্য পরীক্ষার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
চিনের চিকিৎসা মহল বলছে, এই ভাইরাসের একটি ছোবল পাঁচ দিনের মধ্যেই ফুসফুসের দফারফা করে দিচ্ছে। প্রথমে শ্বাসকষ্ট, নিউমেনিয়া, সংক্রমণ, তার পরে তা ছড়িয়ে তারপর শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে কাবু করে ফেলে। শেষে মৃত্যু। চিনের উহান প্রদেশের সি-ফুড বাজার থেকেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা উহানের স্বাস্থ্য দফতরের। ভারতও যে এই সংক্রমণের তালিকা থেকে বাদ নয় সে সতর্কতাও জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।