বিপন্ন তরুণীর প্রসব করালেন বিধায়ক! মিজোরামের ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত এলাকা দেখতে গিয়ে কাজে লাগল পুরনো ডাক্তারি পেশা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমানে কাজের সূত্রে তিনি বিধায়ক। তবে একসময় তাঁর পেশা ছিল ডাক্তারি। তাই বিপদের সময়ে বাড়িয়ে দিলেন সাহায্যের হাত। বিপন্ন অবস্থায় অসহায় প্রসূতির সন্তানের জন্ম হল তাঁরই হাত ধরে। ঘটনাটি সামনে আসার পরেই মিজোরামের বিধায়ক জেডআর থ
শেষ আপডেট: 11 August 2020 14:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমানে কাজের সূত্রে তিনি বিধায়ক। তবে একসময় তাঁর পেশা ছিল ডাক্তারি। তাই বিপদের সময়ে বাড়িয়ে দিলেন সাহায্যের হাত। বিপন্ন অবস্থায় অসহায় প্রসূতির সন্তানের জন্ম হল তাঁরই হাত ধরে। ঘটনাটি সামনে আসার পরেই মিজোরামের বিধায়ক জেডআর থিয়ামসাঙ্গাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন নেটিজেনরা।
সোমবার মিজোরামের মায়ানমার সীমান্তের কাছে অবস্থিত চম্পাই জেলার এক প্রত্যন্ত এলাকায় ভূমিকম্প বিধ্বস্ত পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন থিয়ামসাঙ্গা। গত এক সপ্তাহ ধরে একটানা দফায় দফায় ভূমিকম্প হয়েছে সে এলাকায়। বহু বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। ঘরহারা মানুষজন আশ্রয় নিয়েছেন শিবিরে।

নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের ক্ষতিকর অবস্থা ঘুরে দেখতে গিয়েই বিধায়ক থিয়ামসাঙ্গা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলার সময়ে জানতে পারেন, স্থানীয় হাসপাতালে একজন প্রসূতি মহিলা প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক ছুটিতে থাকায় প্রসব করানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্য হাসপাতাল বলতে যেতে হবে সেই আইজল, ২০০ কিলোমিটার দূরে। যা এই সময়ে প্রায় অসম্ভব।
এই খবর পাওয়া পরেই হাসপাতালে গিয়ে তড়িঘড়ি নিজে ওই মহিলার সন্তান প্রসব করান জেড আর থিয়ামসাঙ্গা। ৩৮ বছরের লালমাঙ্গাইসাঙ্গি নামের ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন। রক্তপাত বন্ধ না হওয়ায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও, তা শেষমেশ সামাল দেওয়া গেছে থিয়ামসাঙ্গার দক্ষতায়। বর্তমানে মা ও সন্তান সুস্থ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনাচক্রে থিয়ামসাঙ্গা নিজে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। ফলে তাঁর পক্ষে আরওই সুবিধা হয়েছে ওই মহিলার প্রসব করাতে। তবে এমনটা যে প্রথম তা নয়। এর আগেও বেশ কয়েক বারই এমার্জেন্সি পরিস্থিতিতে তাঁর ডাক্তারি বিদ্যাকে কাজে লাগিয়েছেন।
জুন মাসেই বিধায়ক থিয়ামসাঙ্গার নাম সামনে এসেছিল কারণ তিনি ভারত-মায়ানমার সীমান্তে মোতায়েন এক নিরাপত্তারক্ষীর অসুস্থতার খবর শুনে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে, নদী পেরিয়ে পৌঁছে যান। চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলেন ওই রক্ষীকে। এবার বিপন্ন প্রসূতিকে বাঁচিয়ে তাঁর সন্তানকে নতুন জীবনের আলো দেখালেন তিনি।