
শেষ আপডেট: 4 October 2023 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: কুড়ি হাজার টাকা দিতে পারেননি রোগীর আত্মীয়রা। তাই মাঝপথে অপারেশন থামিয়ে দিলেন চিকিৎসক! এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠল বাঁকুড়ার এক বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। ডাক্তারবাবুর এমন অমানবিক আচরণে হতবাক সকলেই। এই ঘটনার পরেই বাঁকুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রোগীর আত্মীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটজুড়িডাঙা গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ডের পাশেই রয়েছে এই বেসরকারি হাসপাতাল। রঘুনাথপুর থানার ফুলবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ আলমগীর পেটের অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি পেশায় অটোচালক।
মঙ্গলবার সকালে তাঁকে অপারেশন থিয়েটারের নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর ল্যাপ্র্যোস্কপি শুরু করেন ডাক্তার। অভিযোগ, সেই সময় ওই চিকিৎসক নিমাই মুর্মু অপারেশন থামিয়ে রোগীর স্ত্রী শামিমা বিবিকে ডেকে পাঠান। তাঁর কাছে অপারেশন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ২০ হাজার টাকা চান ওই চিকিৎসক। টাকা দিতে না পারায় অপারেশন থামিয়ে টেবিল থেকে রোগীকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে শামিমার অভিযোগ। আত্মীয়রা অপারেশন শুরু করার জন্য কাকুতি-মিনতি করতে থাকলেও শোনেননি ওই চিকিৎসক। পরে আলমগীরের দাদা শেখ জাহাঙ্গির ওই বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হন।
রোগীর আত্মীয়রা জানিয়েছেন, তাঁরা স্বাস্থ্য সাথী কার্ডেই রোগীকে এই হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু তবুও অপারেশন থামিয়ে চিকিৎসক তাদের কাছ থেকে টাকা চেয়েছেন বলে তাঁদের অভিযোগ।
এই ঘটনা নিয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ মুখ খুলতে চায়নি। ঘটনার খবর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পর্যন্ত গড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছে সিএমওএইচ শ্যামল সাঁতারা। বাঁকুড়ার সদর থানার ওসি দেবাশিস পাণ্ডেও ঘটনা কথা শুনে হতবাক। তিনি বলেছেন, 'ব্যবসা করছে বলে হাসপাতালের মানবিক দায়িত্ব থাকবে না, তা কী করে হয়!'