দ্য ওয়াল ব্যুরো : একসময় ছিলেন বিজেপির নির্ভরযোগ্য মিত্র। কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগে এনডিএ ত্যাগ করেছেন কিছুদিন আগে। এখন দেশ জুড়ে বিজেপি বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সক্রিয় হয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু । সেই লক্ষে তিনি শুক্রবার চেন্নাইতে গিয়ে দেখা করেন ডিএমকে নেতা এম কে স্তালিনের সঙ্গে ।
চন্দ্রবাবুর সঙ্গে বৈঠকের পরে স্তালিন সাংবাদিকদের বলেন, বিজেপির আমলে রাজ্যগুলির অধিকার ক্রমাগত খর্ব করা হচ্ছে । দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং গণতন্ত্র বিপদের মুখে । আমি দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক শক্তির কাছে আবেদন জানাচ্ছি, বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য উদ্যোগী হন ।
চন্দ্রবাবুর সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে স্তালিন বলেন, তিনিও আমার সঙ্গে একমত । আমি তাঁকে বলেছি, বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার লড়াইয়ে তাঁর পাশে থাকব ।
বিজেপি বিরোধী জোট সম্পর্কে স্তালিন বলেন, প্রথমে আমরা একসঙ্গে বসে অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচি স্থির করব। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য, কেন্দ্র থেকে বিজেপিকে হটানো ।
চন্দ্রবাবু সাংবাদিকদের বলেন, আমি স্তালিনকে বলেছি, আমরা দেশ বাঁচানোর লড়াই করছি । আমাদের সঙ্গে যোগ দিন । দেশ ও গণতন্ত্র এখন বিপন্ন । বিজেপি সরকার প্রতিটি স্বশাসিত সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করছে। একসময় সরকার বলেছিল, কালো টাকার বিরুদ্ধে হাতিয়ার হয়ে উঠবে নোটবন্দি । কিন্তু তার দুবছর পরে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলছেন, কর আদায়ের জন্য নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার চন্দ্রবাবু একই লক্ষে গিয়েছিলেন দক্ষিণের আর এক রাজ্য কর্ণাটকে । দেখা করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীর সঙ্গে । কয়েকদিন আগেই কর্ণাটকের পাঁচটি আসনের উপনির্বাচনে ভালো ফল করেছে কুমারস্বামীর জেডি এস এবং কংগ্রেসের জোট । বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকের সময় চন্দ্রবাবু বলেন, ওই উপনির্বাচন থেকে প্রমাণিত হয়, বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের সামনে বিজেপি দাঁড়াতে পারে না । মানুষের মুড এখন বিজেপির বিরুদ্ধে ।
কুমারস্বামী বলেন, চন্দ্রবাবু যেভাবে জাতীয় রাজনিতিতে সক্রিয় হয়েছেন, তাতে আমার ১৯৯৬ সালের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে । সেবার যা হয়েছিল, ২০১৯ সালেও তাই হবে । ১৯৯৬ সালে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কেন্দ্রে শাসক কংগ্রেসকে পরাজিত করে । দেবগৌড়া প্রধানমন্ত্রী হন ।
এবার বিরোধী জোটের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না চন্দ্রবাবু । তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিজেপিকে হারানোই এই মুহূর্তের প্রধান কাজ । কে প্রধানমন্ত্রী হবেন পরে ঠিক করা যাবে।
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, বিজেপি বিরোধী জোটের মুখ হিসাবে কি আপনাকেই তুলে ধরা হবে? তিনি বলেন, এমন কোনও সম্ভাবনা নেই । আমি জোট গঠনে সাহায্য করছি মাত্র ।