
শেষ আপডেট: 5 October 2023 18:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বিশ্বজুড়ে পরিচিতি। তবুও কোভিড অতিমারী পর থেকে মন্দা কাটছে না দরিয়াপুরের ডোকরা শিল্পে। পুজোর মুখেও তাই হাসি ফুটল না শিল্পীদের মুখে।
দুর্গাপুজো বরাবরই বাঙালির কাছে নিজস্ব স্টাইল স্টেটমেন্ট বদলের সময়। সে দিকে তাকিয়ে আধুনিক ফ্যাশনের নানা অলংকার ও শিল্প সামগ্রী তৈরি করেন পূর্ব বর্ধমানের দরিয়াপুরের ডোকরা শিল্পীরা। কিন্তু তৈরি করলে কী হবে! কোভিড অতিমারীর সময় যে মন্দার অন্ধকার ঢেকেছিল এই গ্রামকে, তা থেকে এখনও বেরোতে পারেনি দরিয়াপুর। এমন কী পুজোর মণ্ডপ সাজাতেও ডোকরা শিল্পের বরাত মিলছে না।
আউশগ্রামের একটি প্রাচীন জনপদ এই দরিয়াপুর। এখানকার ডোকরা শিল্পের ঐতিহ্য দু'শো বছরেরও বেশি পুরোনো। প্রায় ৪০টির মতো পরিবার এই পেশাকে আঁকড়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন। আগুনের চুল্লিতে পিতল গলিয়ে ছাঁচে ফেলে পরে তাতে নকশার কাজ করে এই শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তোলা হয়। বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরাও তাঁদের বাপ ঠাকুরদার এই পেশাকে ধরে রেখেছেন। শিল্পের সুনাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিলেছে পুরস্কার ও স্বীকৃতি।
এই গ্রামের ডোকরা শিল্পের খ্যাতি এখন শুধু এই রাজ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। শিল্পীরা জানান, বছরের অন্য সময় দরিয়াপুরের শিল্পীদের তৈরি নকশা করা বাক্স, ফুলদানি ও অন্যান্য আর্টের কাজের মোটামুটি চাহিদা থাকে। তারই মধ্যে একটু বেশি চাহিদা থাকে আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্রিক আর্টের। কিন্তু কয়েক বছর আগেও দুর্গোৎসবের আগে দুর্গা-সহ নানা দেবদেবীর মূর্তি ও লেটেস্ট ফ্যাশনের ডোকরার অলঙ্কার তৈরির বরাত মিলত। বহু মানুষ দরিয়াপুরে এসে ডোকরার অলঙ্কার কিনতেন। বাড়তি আয়ের মুখ দেখতেন শিল্পীরা। কিন্তু কোভিড অতিমারীর পর থেকে আর সেই সুদিন আসেনি।
গ্রামের বিশিষ্ট শিল্পী শুভ কর্মকার জানান, এখানকার প্রত্যেক শিল্পী অলঙ্কার তৈরি করেন। সেইসব অলঙ্কারের চাহিদাও এতদিন ভালই ছিল। কিন্তু কোভিডের পর থেকে এ বছরও পুজো এলেও অলঙ্কারের সেই চাহিদা আর নেই। গড়পড়তা যা কাজ হয় সেটুকুই চলছে। শিল্পী সৌরভ কর্মকার, রামু কর্মকাররা বলেন, “পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে আর বেশি দেরি নেই। বাজার যে এত খারাপ থাকবে তা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না। এমন অবস্থা চললে এ বছরও পুজো আমাদের বিষাদেই কাটাতে হবে।”
সরকারি সাহায্যের প্রসঙ্গ উঠতেই শিল্পীরা বলেন, “বিশ্ববাংলা থেকে যে কাজ আমাদের কাছ থেকে চাইছে সেটা আমরা দিতে পারছি না। বিশ্ববাংলা থেকে ডোকরা শিল্পে গোল্ডেন পালিশ চাইছে। এই পালিশ দিলে ডোকরার আসল ঐতিহ্যটাই হারিয়ে যাবে।” শিল্পী শুভ কর্মকারের কথায়, “এই নিয়ে একটা টানাপড়েন লেগে আছে। যদি দেখা যায় গোল্ডেন পালিশ দেওয়া ডোকরা শিল্প সামগ্রীর চাহিদা বাজারে বাড়ছে তখন ঐতিহ্যের বিষয়টি দূরে সরিয়ে রেখে সেটাই করতে হবে।”
সব মিলিয়ে মন্দা থেকে বের হওয়ার রাস্তা খুঁজছে ডোকরা গ্রাম। যত তাড়াতাড়ি সেই পথ পাওয়া যায়, ততই শিল্পীদের মঙ্গল।